এসএসসিতে ফেল করা নাঈম এখন তারকা!

37

নড়াইল কণ্ঠ : ২০১৭-১৮ মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে ১২ ম্যাচে ৪৬.৩৩ গড় ও ৮২ স্ট্রাইক রেটে করেছিলেন ৫৫৬ রান। পরের আসরে সেই নাঈম শেখ ১৬ ম্যাচে ৩ সেঞ্চুরি ও ৫ ফিফটিতে ৮০৭ রান করেন ৫৩.৮০ গড় ও ৯৪.৩৮ স্ট্রাইক রেটে। তিনি চাইতেন, রানের খাতায় এগিয়ে থাকার চেয়ে ইনিংসে প্রভাব বিস্তার করে এমন ইনিংস খেলতে। চাইতেন ইমপেক্টফুল ক্রিকেটার হতে। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান হওয়ার কারণে নাঈমের বৈশিষ্ট্যই হলো একটু ধীরে শুরু করা। কিন্তু সত্যিকার অর্থে তার ব্যাটিংয়ের ধরণ আগ্রাসী। যার প্রমাণ গতকালের ম্যাচ।
শুরুটা ২০১৮ অনুর্ধ্ব ১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ দিয়ে। বিশ্বকাপে দলে ঢোকার আগেই তাকে নিয়ে তোলপাড় ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই টুর্নামেন্টের বড় রান সংগ্রাহকদের তালিকায় তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি নজর কাড়লেন ভারত-বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি সিরিজে এসে। সিরিজের শেষ ম্যাচে এসে দেখা গেলো তার আগ্রাসী ব্যাটিং। ভারতের আইপিএল খেলা টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যানদের ভিড়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান নাঈম শেখ।
টেপ টেনিস খেলতে খেলতে এলাকায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। এই জনপ্রিয়তার কারণে ক্রিকেট বলে খেলা শুরু করতে বড্ড দেরি হয়ে যায়। দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় প্রথম ক্রিকেট বলে খেলা শুরু করেন নাঈম শেখ। তারপর পড়তে হয়েছে শত চড়াই উতরাইয়ের মুখে। তবে দমে জাননি নাঈম।
মাত্র ২০ বছর বয়সে জাতীয় দলে ডাক পেয়ে ভারত মাতিয়ে এলেন ফরিদপুরের এই ক্রিকেটার। রোহিত শর্মা, শেখর ধাওয়ান, মুশফিকুর রহিমদের পেছনে ফেলে ভারত-বাংলাদেশের তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক নাঈম। সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ভারতকে প্রায় একাই হারিয়ে দিচ্ছিলেন। খেলেছেন ৪৮ বলে ৮১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস।
রাতারাতি তারকা বনে যাওয়া এই তরুণ শুনিয়েছেন উঠে আসার নানান গল্প। ২০১৫ সালে বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৮ দলে ডাক পান। সামনে তখন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। সুযোগ পেয়েই অনুশীলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন তাই পরীক্ষার প্রস্তুতি ঠিকভাবে নিতে পারেননি। যাতে উচ্চ মাধ্যমিকে ফেল করলেন ইংরেজিতে। তরুণ ক্রিকেটার বললেন ওই ফেল করার কারণেই ক্রিকেটার হওয়ার জেদ চেপে বসে তার মনে।
নাঈম বলেন, ‘টেপ টেনিস খেলতে খেলতে এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে যাই। এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় যেতাম খেলতে। ফরিদপুরে একাডেমির এক কোচের দলের হয়ে টেপ টেনিস খেলতাম। তখন বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৮ দলে ব্যাটসম্যান ছিল না। ফলে কোচ আমাকে ক্রিকেট বলে অনুশীলন করতে বললেন। ২০১৫ সালের কথা, সামনে তখন আমার এইচএসসি পরীক্ষা। খেলা আর অনুশীলনের কারণে পরীক্ষায় খারাপ করলাম। এরপর বাসা থেকে সব বন্ধ করে দিল। রেজাল্ট খারাপ হওয়ার পর আমি সব মনোযোগ ক্রিকেটে দেই। ভালো কিছু করতেই হবে, এই মনোভাবটা তখন চলে আসে।’