ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের ইতিহাস গড়া হলো না

37

ইনিংসের ১২তম ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ১০৬/২। জয়ের জন্য তখন ৪৮ বলে প্রয়োজন ৬৯ রান। উইকেটে দুই সেট ব্যাটসম্যান নাঈম শেখ ও মোহাম্মদ মিঠুন। পরের ওভারে মিঠুন ও মুশফিকুর রহিম পরপর দুই বলে ফিরে গেলেও শেষ ৩০ বলে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৫০ রানের। টি-টোয়েন্টিতে এ আর কঠিন কী! হাতে তখনও যে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা নাঈম শেখ, মাহমুদুল্লাহ, আফিফ হোসেনের উইকেট। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টি-টিয়েন্টিতে এই সহজ সমীকরণটাও মেলাতে না পেরে ৩০ রানে হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতে ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল এই হারে তার মৃত্যু হলো। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটা শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জিতে নিল ভারত।
নাগপুরের সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে আজ বাংলাদেশকে জয়ের পথে একাই টানছিলেন তরুণ ওপেনার নাঈম শেখ। চলতি সিরিজে অভিষেক হওয়া নাঈম প্রথম দুই ম্যাচে করেছিলেন যথাক্রমে ২৬ ও ৩৬ রান। আজ বাংলাদেশের ইনিংসের মেরুদণ্ডই ছিলেন তিনি।
লিটন দাস ঝড় তোলার আভাস দিয়ে ৯ রান করে ফিরলে সৌম্য সরকার ফিরেছেন পরের বলেই। তারপর মোহাম্মদ মিঠুনকে নিয়ে প্রথমে প্রতিরোধ গড়েছেন। তারপর কোমর একটু শক্ত হতেই ভারতীয় বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন ভালোভাবেই। অন্যদের ‘অসহযোগিতায়’ সেই সম্ভাবনার অবশ্য অপমৃত্য হয়েছে।
নাঈম মাত্র ৪৮ বল খেলে ১০ চার ২ ছয়ে ৮১ রান করেছেন। মিঠুনের ব্যাট থেকে আসে ২৭ রান। বাংলাদেশের পক্ষে আর কেউ দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ১৯.২ ওভারে ১৪৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।
ভারতের পক্ষে ৭ রানে হ্যাটট্রিকসহ ছয় উইকেট নেন দ্বীপক চাহার। টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডও গড়েছেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে আগের রেকর্ডটি ছিল অজান্তা মেন্ডিসের। ৮ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন লঙ্কান স্পিনার। এছাড়া তিন উইকেট পেয়েছেন শিভাম দুবে।