বাবরি মসজিদ মামলার রায়ে মুসলিমদের অসন্তোষ

24

নড়াইল ডেস্ক : ভারতের বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত অযোধ্যা মামলায় ভেঙে ফেলা বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণের অনুমতি দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। সেইসঙ্গে মসজিদের জন্য শহরের সুবিধাজনক ও গুরুত্বপূর্ণ কোনো স্থানে ৫ একর জমি দেয়ার আদেশ দেয়া হয়েছে। আজ শনিবার (০৯ নভেম্বর) স্থানীয় সময় সকালে ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ সর্বসম্মত এ রায় ঘোষণা করেন। এ নিয়ে নিয়ে পরস্পর বিপরীত প্রতিক্রিয়া এসেছে।
উগ্র হিন্দুদের দ্বারা বেঙে ফেলা বাবরি মসজিদের স্থানে রাম মন্দির নির্মাণের অনুমতি দেয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে মুসলিমদের সংগঠন ‘সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড’। রায়ের বিরুদ্ধে পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেয়া যায়, সে বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জনানো হয়েছে তাদের পক্ষ থেকে।
রায় ঘোষণার পর সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের আইনজীবী জাফরায়েব জিলানি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের এ রায়কে আমরা সম্মান জানাই। তবে এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। এখন পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে চিন্তাভাবনা করছি আমরা।’
অন্যদিকে রায় পক্ষে যাওয়ায় হিন্দু মহাসভার পক্ষ থেকে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। এ রায়কে ঐতিহাসিক অভিহিত করে তাদের আইনজীবী বরুণ কুমার সিংহ বলেন, ‘এ রায়ের মধ্যে দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন।’
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, উচ্চ আদালতের এ রায়ে বিতর্কিত মূল জমি ‘রাম জন্মভূমি ন্যাস’কে মন্দির তৈরির জন্য দেয়া হয়েছে। কীভাবে, কোন পদ্ধতিতে মন্দির তৈরি করা হবে, সে পরিকল্পনা করবে বিতর্কিত এই ভূমির জন্য গঠিতব্য ট্রাস্ট। আগামী তিন মাসের মধ্যে এ ট্রাস্ট করতে কেন্দ্রীয় সরকারকে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ কোনো জায়গায় বিকল্প ৫ একর জমি দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
রায়ে বলা হয়েছে, বাবরি মসজিদ ফাঁকা স্থানে নির্মিত হয়নি। মসজিদের নিচে স্থাপনা থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে, তবে সেটি রাম মন্দিরের ছিল কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মন্দিরের কাঠামো ভেঙে মসজিদ নির্মাণেরও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আরও বলা হয়, এই ইস্যুতে বিবাদমান সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড ও নির্মোহী আখড়ার আবেদন খারিজ করে জায়গাটি উভয়পক্ষকে সমানভাবে ভাগ করে দেয়ার যে আদেশ দিয়েছিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট, তা একেবারেই অযৌক্তিক। পুরো জমিটি সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করতে হবে উল্লেখ করে তা হিন্দুদের মন্দিরের জন্য দেয় সর্বোচ্চ আদালত।
প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃ্ত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা হলেন এসএ বোবদে, ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, অশোক ভূষণ ও এস আব্দুল নাজির।