লোহাগড়া আ’লীগের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মাশারাফীকে নিয়ে দেয়া স্ট্যাটাস

96

নড়াইল কণ্ঠ : বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ লোহাগড়া উপজেলা শাখার নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মসিয়ূর রহমান গত কাল সোমবার (২৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাকে নিয়ে এক আবেগঘন স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। স্টাটাসটিতে সৈয়দ মসিয়ূর রহমান মাশারাফীকে ধন্যবাদ জানান এবং মাশারাফীর উদ্যোগে নড়াইলের উন্নয়ন কর্মকান্ডে সাথে থাকার আশাব্যাক্ত করেন।

লোহাগড়া উপজেলা শাখার নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মসিয়ূর রহমানের স্ট্যাটাসট নিম্নে হুবহু তুলে ধরা হলো:
আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি পেয়েছি গতকাল (২৭ অক্টোবর) লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের মাধ্যমে।আমাকে লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এজন্য আমি সর্বপ্রথম মহান আল্লাহর দরবারে লাখো-কোটি শুকরিয়া জানাই।সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করি,জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে,যিনি আমাদের আশার বাতিঘর, শেষ আশ্রয়স্থল। ধন্যবাদ জানাই কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে, ধন্যবাদ জানাই নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দদের।বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই, নড়াইল-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য, তারুণ্যের আইকন প্রিয় মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাকে। ধন্যবাদ জানাই,আমার লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দকে।

ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছি, কখনো দলের বিপক্ষে অবস্থান করিনি, দলের সাথে বেঈমানি করিনি। আমার মরহুম পিতার মতো আমিও দলের ক্ষতি হয় সজ্ঞানে এমন কোন কাজ করিনি।তবে মাঝে মাঝে হতাশ হয়েছি, তবে আশার আলো দেখেছি,যেদিন শুনেছি মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাকে স্বয়ং জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন। সেদিন বিশ্বাস করেছি, নড়াইলের রাজনীতিতে আলো আসবেই। তাই সকল হতাশা ডিঙিয়ে আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি।যে আলোর ছোয়ায় আজ আমিও উদ্ভাসিত হয়েছি।

এবারের সম্মেলনের দিন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার বক্তব্য সকলকে আকৃষ্ট করেছে। আমি এটা অনেক আগে থেকেই জানতাম,মাশরাফীর মতো মানুষ কখনো গ্রুপিং করবেন না, স্বজনপ্রীতি করবেন না,ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন করবেন না,যোগ্যদের বেছে নিতে তিনি সর্বদা পাশে থাকবেন।

এই কথাগুলো বিশ্বাস করেছিলাম আর তার ফল ও আমি পেয়েছি। মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা যোগ্যদের মধ্যে থেকে যোগ্যতমকে বেছে নিতে সকলের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছেন, আস্থা রেখেছেন।

আমার মতো এবারের সম্মেলনে যারা প্রার্থী ছিলেন তারা সকলেই লোহাগড়ার রাজনীতির সুপরিচিত মুখ,সকলের অনেক যোগ্য ও দলের ত্যাগী নেতা। ফয়জুল হক রোম,সাবেক ছাত্রনেতা, বারবার নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান, অত্যন্ত সজ্জন ও প্রজ্ঞাবান একজন মানুষ। ওয়াহিদুজ্জামান বাচ্চু, তিনি একমাত্র ব্যক্তি যিনি লোহাগড়া থেকে নড়াইল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন,নির্বাচিত ভিপি ছিলেন,অত্যন্ত ত্যাগী মানুষ তিনি।মতিয়ার রহমান,দলের জন্য যেকোন মুহূর্তে ত্যাগ শিকারে সদা প্রস্তত, বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান তিনি।আশরাফুল আলম, তিনি লোহাগড়ার পৌর মেয়র,দলের দুর্দিনের রাজপথের লড়াকু নেতা। শিয়ানুক রহমান যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তান, জনপ্রিয় নেতা। সাজ্জাদ হোসেন মুন্না, একজন একনিষ্ঠ কর্মী,ত্যাগী নেতা। এম আব্দুল্লাহ, অত্যন্ত মেধাবী ও যোগ্যতম একজন লোক, আদর্শ পিতার সন্তান। শিকদার নজরুল, লোহাগড়ার অন্যতম ত্যাগী আওয়ামী পরিবারের লোক, একজন জনপ্রিয় নেতা। এছাড়া আরো যারা প্রার্থী ছিলেন তাদের সকলেই অনেক যোগ্য মানুষ,ত্যাগী নেতা।

সাবেক কমিটির সভাপতি শিকদার হান্নান রুনু একজন শহীদ পরিবারের সন্তান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও লোহাগড়া রাজনীতির এক বলিষ্ঠ নাম। সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল আমীর লিটু ও একজন বলিষ্ঠ নেতা। তার আগের কমিটির সভাপতি দৌলত আহম্মদ খান ছাতার মতো ছিলেন সকল কর্মীদের,তিনি আমাদের আগলে রাখতেন।লোহাগড়ায় আওয়ামী রাজনীতিতে যাদের অবদান আছে তাদের সকলের প্রতি আমার শ্রদ্ধা।

আমি যে দায়িত্ব পেয়েছি, এখন আমার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো ত্যাগী ও যোগ্যদের যোগ্যতম স্থানে বসিয়ে একটি সুন্দর কমিটি উপহার দেওয়া। এক্ষেত্রে আমি ও আমার সভাপতি ঐক্যবদ্ধ ভাবে জেলা আওয়ামী লীগ ও আমাদের প্রিয় মাশরাফীর পরামর্শ অনুযায়ী ত্যাগীদের নিয়ে কমিটি করবো। এখানে কোন স্বাধীনতাবিরোধী, জামাত-বিএনপি পরিবারের কারো কোন জায়গা হবে না, লোহাগড়ার রাজনীতিতে এটা নিয়ে কেউ জল ঘোলা করলে কোন ফায়দা হবে না।মাশরাফীর ভাষায় বলতে চাই, দলের দুর্দিনের কর্মী, ত্যাগী, যোগ্য, সৎ, জনপ্রিয় নেতারাই আসবেন। এখানে কোন আপোস করা হবে না।

তাই, আমার জন্য সকলে দোয়া করবেন, আমি ও আমার সুযোগ্য সভাপতি মিলে সকলকে এক ছাতার নিচে এনে লোহাগড়ার রাজনীতির হারিয়ে যাওয়া সোনালি অতীত আবার ফিরিয়ে আনতে পারি, জননেত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ও মিশন বাস্তবায়নে দলকে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করতে পারি এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার হীরার টুকরা, আমাদের অহংকার মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাকে নড়াইলের উন্নয়নে দলীয় অবস্থান থেকে সার্বিক সহযোগিতা করতে পারি,তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে পাশে দাঁড়াতে পারি।

জয় হোক প্রিয় মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার, জয় হোক জননেত্রী শেখ হাসিনার।

জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু
সৈয়দ মসিয়ূর রহমান
নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
লোহাগড়া উপজেলা শাখা,নড়াইল।