মাশরাফী’র প্রচেষ্টায় মুলিয়া-পানতিতা পয়েন্টে কাজলা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ হতে যাচ্ছে

112

নড়াইল কণ্ঠ : নদীর নাম কাজলা। নদীটির উত্তরে মাগুরা নবগঙ্গা এবং দক্ষিণে আফরা ,যশোর-অভনগর হয়ে খুলনার ভৈরব-রুপসা। এই এলাকার মানুষের এপার-ওপারের চলাচলের সুবিধার্থে শত বছরের বাদী ছিলো এই পয়েন্টে একটি সেতু নির্মাণ। তা হয়ে উঠেনি কখনই।

অতিসম্প্রতি নড়াইল-২ আসনের (৯৪) সংসদ সদস্য মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার অনুরোধে তার নির্বাচনী এলাকা নড়াইল সদর উপজেলার মুলিয়া বাজার সংলগ্ন পানতিতা পয়েন্টে কাজলা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দিয়েছেন। গত ০৬ অক্টোবর মন্ত্রী মহোদয়ের নিদের্শক্রমে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব জেসমিন পারভিনের স্বাক্ষরিত উন্নয়ন স্কীম বাস্তবায়ন সংক্রান্ত পত্র স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে মন্ত্রণালয় থেকে এ নির্দেশনা পাওয়ার পর পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পত্রটি ভাইরাল হয়ে যায়।

এ সংবাদে মুলিয়া ও এগারোখান এলাকার মানুষ আনন্দ উল্লাস করেছে। আবার কেউ কেউ অতিতের অভিজ্ঞতায় বলেছেন এভাবে তো এর আগেও অনেক নেতা প্রতিশ্রুতি দিলেও কোন ফল দেখিনি আমরা। বেশিরভাগ মানুষ বিশ্বাস ও আস্তা রাখে এখন মাশরাফীর কথার ওপর। তাদের বিশ্বাস ঠাকুরের ইচ্ছায় এবার ব্রীজ হবেই। শতবছর ধরে নদী পারাপারে যে সমস্যা ছিলো তা হয়তো মাশরাফীর উদ্যোগে দুর হবে এমনটি প্রত্যাশা করেন ঔএলকার মানুষ।

কাজলা নদীর পশ্চিম পাড়ে পানতিতা, আখুদা-টেপারিসহ এগারোখান। এ অঞ্চলে শতভাগ মানুষই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। শত শত বছর ধরে এ অঞ্চলের মানুষ এ নদী পথে খেয়া পারপার হয়ে নড়াইল জেলা শহরে বিভিন্ন অফিস আদালত, চিকিৎসা নিতে আসে, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাগ্রহণের জন্য প্রতিদিন যাতায়াত করে সব বয়সী শত শত মানুষ। জরুরী কোন দূর্ঘটনা ঘটলে রক্ষার করার কোন উপায় নেই। কি আগুণ লাগলে, ডাকাতি পড়লে বা হঠাৎ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে নদীর ওপার এ্যাম্বুলেন্স যাওয়ার কোন উপায় নেই। এধরনের অসহনীয় পরিস্থিতি মোকাবেলা করেই এলাকার মানুষ শত শত বছর ধরে জীবন-জীবীকা চালিয়ে আসছে। বিগত ১০টি সংসদ সময়কালে শতবার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পরও হয়নি মুলিয়া-পানতিতা পয়েন্টে সেতু নির্মাণ কাজ।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা নড়াইল-২ আসন (৯৪) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ৮ মাসের মাথায় মুলিয়াবাসির ভাগ্যের চাকা ঘুরতে চলেছে। মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার আন্তরিক প্রচেষ্টায় কাজলা নদী ওপর পানতিতা-মুলিয়া পয়েন্টে সেতু নির্মাণ হতে যাচ্ছে।

এলাকার ভুক্তভোগি সাধারণ মানুষ জানায়, স্কুল কলেজে পড়ুয়া শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীরা এ কাজলা নদীতে খেয়া নৌকায় পারপার হয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। এছাড়া কালীপুজা উপলক্ষে মুলিয়ায় নড়াইল জেলার সর্ববৃহত্তর মেলা হয়। সপ্তাহব্যাপি এ মেলায় লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড় হয়। মেলা দেখতে এসে নদীতে নৌকা ডুবে কয়েক বছরের কমপক্ষে ৪জন মানুষ মারাও গিয়েছে।

এছাড়া নদীর পশ্চিম পাড়ের অধিকাংশ মানুষই শ্রমজীবী লেবার, রাজ মিস্ত্রির কাজ করে জীবীকা চালায়। পানতিতা, আখুদা-টেপারিসহ অন্যান্য এলাকা থেকে প্রতিদিন শতাধিক শ্রমজীবী মানুষ বাইসাইকেলে চড়ে কাজের সন্ধানে নড়াইল শহরসহ বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে যায়। এ সময় সকাল-বিকালে খেয়া পারাপার সময়ে অর্থনৈতিক দন্ড, সময়ক্ষেপন ও নানা ঝুঁকি নিয়ে আসা-যাওয়া করতে হয় এ সব লেবার শ্রেণির মানুষের।

মুলিয়ার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিপুল কুমার মজুমদার জানান, দির্ঘদিন ধরে আমরা চেষ্টা করছি এ নদীর ওপর একটি ব্রীজ করার জন্য। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। তবে এবার আমাদের এমপি মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা কথা দিয়েছে সে ব্রীজ করে দেবেন। দু’একদিন আগে শুনলাম আমাদের এমপি’র প্রচেষ্টায় একটি ব্রীজ অনুমোদন করিয়েছেন।

পানতিতার রাজমিস্ত্রি পরাণ বিশ্বাস জানান, আমরা শ্রম দিয়ে খাই। সকালে সাইকেলে করে নড়াইল শহর ও গ্রামে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে বেরই, আর বিকেলে বাড়িতে ফিরি। এই দু’বেলা এ নদী পারপার হতে হয়। এতে আমাদের খুব কষ্ট হয়। এ নদীর ওপর ব্রীজ হলে আমাদের রাতে বিয়েলে যাতায়াত করতে সুবিধা হবে। ব্রীজটা খুব জরুরী।

মুলিয়া বাজারের এক হোটেল ব্যবসায়ী জানান, নদীর ওপারের মানুষের কষ্টের শেষ নেই। বাজার করতে আসতে মুলিয়া বাজারে। ছেলে-মেয়ে স্কুল কলেজে আসা-যাওয়া করে এ নদী পারাপার হয়ে। ব্রীজটা হলে আমাদের খুব উপকার হয়।