গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে বিদ্যালয় ফান্ড লুটছেন প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি

32

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখছে জলিরপার ইউপির বানিয়ারচরের সূর্য্যকান্ত জানকী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। কিন্তু বর্তমানে প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির লুটপাটের কারনে তিলে তিলে গড়ে ওঠা ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি আজ ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে এসে পৌছেছে।
সূর্য্যকান্ত জানকী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন সদস্য ও অভিভাবকরা জানান, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সমীর মণ্ডল ও প্রধান শিক্ষক রঞ্জন বালা বিদ্যালয়ের ফান্ডে লুটপাট চালাচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ করার পরও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।
অভিযোগকারী বাসুদেব মণ্ডল জানান, ৩০মে কোনো কারণ না দেখিয়ে স্কুলের তহবিল থেকে এক লাখ টাকা তোলেন সভাপতি সমীর মণ্ডল। বিষয়টি মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানোর কয়েক মাস পরও এর কোন সুরাহা মেলেনি। তিনি আরো জানান, সেপ্টেম্বর মাসে স্থানীয়দের চাপে ম্যানেজিং কমিটির মিটিং ডাকা হয়। ওই সময় পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ৯০ হাজার টাকা ফেরত দেন সভাপতি সমীর মণ্ডল।
সূর্য্যকান্ত জানকী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এ বছর জানুয়ারিতে বিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টে এক লাখ ৭৫ হাজার সাতশ টাকা জমা হয়েছে। আবার সেখান থেকে দুই দফায় ৬০ হাজার টাকা কোন কারণ না দেখিয়েই তুলে নিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রঞ্জন বালা। একইভাবে ফেব্রুয়ারি মাসে জমা হয়েছে ১১ হাজার টাকা, তোলা হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। মার্চে জমা হয়েছে ১৭ হাজার টাকা, তোলা হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। এপ্রিল মাসে জমা হয়েছে ৯১ হাজার টাকা, তোলা হয় ২০ হাজার। মে মাসে কোনো রেজ্যুলেশন বা ভাউচার না দেখিয়েই এক লাখ টাকা তুলে নেন বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সমীর মণ্ডল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পরিবার ভারতে থাকে। তিনি প্রতি মাসে বাংলাদেশের টাকা নিয়ে সেখানে চলে যান। আবার কয়েকদিন থেকে এ দেশে চলে আসেন। শুধু মাত্র তিনি টাকা রাখতেই ভারতে যান।
চলতি বছরের অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভায় ভুয়া ভাউচার ও হিসাবে গরমিল থাকায় ব্যাংক থেকে টাকা তোলার বিষয়টি উঠে আসে।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মন্মথ বৈরাগী বলেন, আমি কমিটির নির্বাচিত অভিবাবক প্রতিনিধি। এবার আমারই সভাপতি হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু রাজনৈতিক দোহাই দিয়ে এক ছাত্রনেতাকে সভাপতি করা হলো। ছাত্রনেতাও একজন ছাত্র। তার হাতে শিক্ষকদের বেতন ভাতা-খবরদারি থাকলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, একে তো জুনিয়র বিদ্যালয়, শিক্ষক সংকট তার উপর প্রধান শিক্ষক প্রতি মাসেই ভারতে যান। এতে স্কুলের মান ও শিক্ষার মান দুটোই নষ্ট হচ্ছে। আমরা এতোদিন সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের উপর সব কিছু ছেড়ে দিয়ে ভুল করেছি। এখন থেকে ম্যানেজিং কমিটিই সব কিছুর দেখ ভাল করবে।
মুকসুদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহাদাত আলী মোল্লা জানান, সূর্য্যকান্ত জানকী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
অভিযুক্ত বিদ্যালয়ের সভাপতি সমীর মণ্ডল বলেন, আমি আমার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে টাকা নিয়েছিলাম। অভিযোগ ওঠায় ফেরত দিয়েছি। এটা নিয়ে সংবাদপত্রে লেখার কি আছে? সংবাদ প্রকাশ না করে আসুন চা খেয়ে যান। এ সময় তিনি সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য বার বার অনুরোধ করেন।