শিশু রমজানকে হত্যা করলো কে?

34

নড়াইল কণ্ঠ : শিশু রমজানকে হত্যা করলো কে? উদঘাটন হবে তো? আর কতো রমজানকে এভাবে মরতে হবে? নিষ্পাপ শিশুর অস্বাভাবিক মৃত্যু দেখতে দেখতে মানুষগুলো এখন ক্রমন্বয়ে পশুর চেয়ে অধম হতে চলেছে। এখনই সময় রাস্ট্রের পক্ষ থেকে এসব নরপশুদের ধরে উপযুক্ত শাস্তি দেয়া। তা না হলে এই বীজ একদিন সংক্রমিত হয়ে রাষ্ট্রকে হত্যা করবে।

এদিকে, খবরের কাজ খুললে, অনলাইন, অফলাইন, টেলিভিশনের পর্দায়, ফেসবুকে চোখ গেলেই প্রতিদিন কোন না কোন ঘটনায় শিশুমৃত্যু বা নির্যাতনের খবর আছেই। বর্তমান সবচেয়ে পরিতাপের বিষয় হলো শিশুমৃত্যু কোনটাই স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। নিজের সন্তানকে তার মা বাবা কুপিয়ে বা গলা টিপে বা বিষ খাইয়ে মেরে ফেলছে। কখনও বা প্রতিপক্ষের প্রতিশোধ নিতে নিজের সন্তানকে বলিদানের ঘটনাও নজরে এড়ায়নি। প্রযুক্তির এ যুগে কোন ঘটনা এখন আর গোপন তেমন একটা থাকতে পারচ্ছে না। সকালে প্রতিদিনের ন্যায় ডেস্কে কাজ করছি এমন সময় এক সহকর্মীকে ফোন দিয়ে জানতে চাইলাম তুমি এখন কোথায়। উত্তরে সে বললো আমি হাসপাতালে। জানতে চাইলাম কেন? সে জানালো গতকাল বুধবার (১৬ অক্টোবর) রাতে ৬/৭ বছরের একটি শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেই লাশ এখন নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে এসেছে ময়নাতদন্ত করতে। তাৎক্ষনিক তাকে বললাম থাকো আমি আসছি।

নড়াইল হাসপাতালে গিয়ে দেখলাম পলিথিনের প্যাকেটে বাঁধা ভ্যানের উপর রাখা একটি ফুটফুটে কমলমতি শিশুর মরদেহ। খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারলাম শিশুটির নাম রমজান। বয়স ৬/৭ বছর হবে। বাবা ইলিয়াস শেখ। সে সিঙ্গা মশাঘণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু ওয়ানে পড়াশুনা করতো।

বাবা ইলিয়াস শেখ। বাড়ি লোহাগড়ার উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের সিঙ্গা গ্রামে। রাতেই মৃত্যু রমজানের বাবা ইলিয়াস ও মামা ইউসুফকে লোহাগাড়ার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডেকে নিয়েছেন। এদিকে আরো জানা গেলো মৃত্যু রমজানের বয়স যখন মাত্র দেড় বছর তখন তার মা মারা যায়। এরপর থেকে রমজানের খোরপোষ বাবদ বাবা ইলিয়াস প্রতিমাসে ১০ হাজার টাকা করে ছেলের মামা ইউসুফকে দিয়ে আসছিলো। এরমাঝে ৩/৪ মাস খোরপোষ বন্ধ হলে মামা ইউসুফ রমজানের বাবার নামে কোর্টে মামলা করে। তাতে সে কয়েক মাস জেল হাজতও ছিলো।

এলাকা ও পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে, রমজানের বাবা ইলিয়াস শেখের আরো একটি স্ত্রী রয়েছে। রমজানের মা ছিলো তার বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী।

এদিকে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোকারম জানা যায়, শিশুর মৃতদেহ লোহাগড়ার উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের সিঙ্গা গ্রামের শিশু যে বাড়িতে থাকতো সেই বাড়ির পাসে পাওয়া যায়। মৃত্যু দেহ দেখে মনে হচ্ছে কেউ তাকে মেরে এখানে ফেলে রেখে গেছে। এ ঘটনায় তার বাবা ইলিয়াস ও তার মামা ইউসুফকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে আনা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।