মধুমতি নদীভাঙ্গন কবলিত মানুষের পাশে মাশরাফী

81

নড়াইল কণ্ঠ : সামনে বিপিএল। বিপিএলকে সামনে রেখে রীতিমতো প্রাক্টিস চলছে মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।এ প্রাক্টিসে নিয়মিত মাঠে থাকছেন মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা। প্রাক্টিস চলছে মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এমন সময় খবর এলো তার নির্বাচনী এলাকা নড়াইলের লোহাগড়া থেকে। প্রাক্টিস থেমে গেলো। কারন এখন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা তো শুধু ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নন, তিনি এখন নড়াইল -২ আসনের সংসদ সদস্যও বটে। তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় ‘মধুমতি নদীভাঙ্গনে লোহাগড়ার তেঁতুলিয়া, কালনা-কামঠাঙ্গাসহ কয়েকটি গ্রামের বসত বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে নদীর গর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে এ খবর শুনে তিনি অস্থির হয়ে পড়েন। তাৎক্ষনিকভাবে তিনি একটি টীম সরেজমিনে পাঠান নদীভাঙ্গন এলাকায় পরিদর্শন করতে। লোক পাঠিয়েই তিনি খেলার মাঠে বসে থাকেননি। মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে সরাসরি মোবাইল ভিডিও কলে সংযোগ হন নদীভাঙ্গন কবলিত পরিবারের সাথে। তিনি কথা বলেন তাদের সাথে। শোনেন তাদের নদীভাঙ্গনের করুন কাহিনী।

এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহনেওয়াজকে এমপি বলেন কত মিটার কাজ করলে আমার এলাকার মানুষকে নিরাপদে রাখতে পারবেন বলেন? এ সময় কথার উল্টর দিতে না দিতেই মোবাইলে এমপি জানান ৩০০ মিটার বরাদ্দ করে দিলে কি আপনি ২/১ দিনের মধ্যে কাজ শুরু করতে পারবেন? পানি উন্নয়ন বোর্ডেও নির্বাহী প্রকৌশলী এমপি মহোদয়কে জানান অনুমোদন করিয়ে পাঠান সময় মতো কাজ করা যাবে। পরক্ষণই এমপি জানান, ঠিক আছে আমি আজই মন্ত্রী মহোদয়কে দিয়ে অনুমোদন করিয়ে পাঠাচ্ছি। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে পুনর্বাসন করারও আশ্বাস দেন এমপি।

গত বুধবার (০৯ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নড়াইল -২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা নির্দেশক্রমে নতুন করে ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শনকালে এমপি সাধারণ জনগণ ও নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথাপোকথন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

এ সময় নদীভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষ মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার সাথে কথা বলে জানান, এতো ভালো মানুষ আমরা জীবনে দেখি নাই। ওনার জন্য আমরা দোয়া করি। উনি যেন ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন। উনি যখন কথা দিয়েছেন আমাদের কাজ হবে ইনশাল্লাহ। এর আগে কোন দিন দেখি নাই কোন এমপি বা চেয়ারম্যান আমাদের মতো অসহায় মানুষদের খোজ-খবর নিয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী, এমপির প্রতিনিধি বন্ধু সৌমেন বোসু, লোহাগড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: নজরুল ইসলাম, জয়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, সাংবাদিক সহ বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এ সম্পর্কে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ জানান, অপরিকল্পিতভাবে নদী থেকে বালি উত্তোলন করা হলে নদী ভাঙ্গনের আশংক থাকে। তবে তেঁতুলিয়া এলাকা থেকে বালি উত্তোলনে তেমন ক্ষতি হবে না।

তিনি আরো জানান ” নড়াইল জেলায় মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকে দেশের বড় বড় এলাকার মতো আমাদের মন্ত্রণালয়ে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। নদীভাঙনে এখন উল্লেখযোগ্য কাজ আসছে। এতোকিছুর মূলে একজনই আছেন, তিনি আমাদের দেশের সম্পদ মাননীয় সংসদ সদস্য মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা।

তিনি নদী ভাঙ্গন সম্পর্কে আরো জানান, এ মৌসূমে মধূমতি নদীভাঙ্গন এলাকার লোহাগড়া অংশে তেতুলিয়া ৩০০ মিটার, শিয়বর ৫০০ মিটার, মাকরাইল ১০০ মিটার, লংকারচর ২৪০ মিটার, মল্লিকপুর ৪০০ মিটার, মঙ্গলপুর ১৩৯ মিটার, চাপুলিয়া ২০০ মিটার এবং কালিয়া অংশে সুক্তগ্রাম, নোয়াগ্রাম ৯৭ মিটিার, উথলী ২১০ মিটার, জুগানিয়া ২০০ মিটার অস্থায়ী প্রতিরক্ষার জন্য জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। ১৭৫ কেজি বালু দিয়ে প্রতিটি জিওব্যাগ প্রস্তুত করা হয়।

এ সময় তেঁতুলিয়ার এক ভূক্তভোগী জানান, নদী ভাঙ্গনের অন্যতম কার হলো নদী থেকে বালি কাটা। নদী থেকে বালিকাটা বন্ধ হলে হয়তো আমরা নদীভাঙ্গন থেকে রেহাই পেতাম।

এ সময় সৌমেন বসু জানান, “বাংলাদেশের তীব্র ভাঙন কবলিত জেলার তালিকায় খুলনা বিভাগে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা ও কুষ্টিয়ার নাম থাকলেও সবচেয়ে বেশি ভাঙন হলেও নড়াইল জেলার নাম ছিল না। ইতিমধ্যে আমাদের সংসদ সদস্য মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার একান্ত চেষ্টায় নড়াইল জেলার নাম ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।”

তিনি আরো জানান,”এর আগে এভাবে কেউ ভাঙ্গনরোধে কাজ না করলেও এখন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় আমাদের নড়াইল জেলার বিষয়ে সুদৃষ্টি দিয়েছে একমাত্র আমাদের লিভিং লিজেন্ড মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার কারণে। আপনারা তার জন্য দোয়ো করবেন আরো অনেক পরিবর্তন হয়ে আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে একদিন তার হাত ধরেই।”

ফিরে আসার সময় আমরা লক্ষ্য করি, আজই বসত-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়া একজন মধ্যবয়সী মহিলা তার শিশু সন্তান কোলে নিয়ে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার সাথে কথা বলার পর চোখের পানি মুছে তার শিশু সন্তানকে বলছেন,”আব্বা, তোগের আর কষ্ট থাকবে না,এম.পি সাহেব আমাগে খোজ পেয়ে গেছেন।এখন আমাদের কষ্ট দূর হবেই।”