প্রায় একডর্জন মন্ত্রণালয়ে দৌঁড়ঝাপ করলেন নড়াইল উন্নয়নের স্বপ্নদ্রষ্টা মাশরাফি

112

নড়াইল কণ্ঠ : বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এমন কাউকে দেখেনি যে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে নড়াইলের সামগ্রীক উন্নয়নের জন্য মন্ত্রণালয় টু মন্ত্রণালয় প্রতিনিয়ত দৌঁড়ঝাপ করছেন। যে নির্বাচিত হওয়ার পর পরই নড়াইলের সার্বিক উন্নয়ন ও মর্যাদা অর্জনের জন্য বিরামহীন দৌঁড়ঝাপ করে চলেছে সে নড়াইলের শেষ্ঠ সন্তান নড়াইল উন্নয়নের স্বপ্নদ্রষ্টা মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা এমপি। গত মঙ্গলবার (০১ অক্টোবর) মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা এমপি দিনভর সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় নড়াইলের উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ করেছন।
এ সময় তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিদুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ সচিব, আইন সচিব ও আইজি প্রিজন’র কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবগণের সাথে উন্নয়ন বঞ্চিত নড়াইলের উন্নয়নের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে সংসদ সদস্য মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার তার নির্বাচনী এলাকার সদর উপজেলার মুলিয়া বাজার সংলগ্ন পানতিটা ও ব্রাক্ষ্মনডাঙ্গা এলাকায় ব্রীজ নির্মাণের অগ্রগতি সম্পর্কে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এমপি ও সচিব হেলালুদ্দীনের নিকট জানতে চাইলে মন্ত্রী মহোদয় তাৎক্ষনিক প্রধান প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেন এবং দ্রুত কাজ শুরু করতে যা যা করণীয় তা করতে নির্দেশনাও দেন।
এছাড়া নড়াইল সদর ও লোহাগড়া উপজেলায় এডিপির বিশেষ বরাদ্দ দেয়ার দাবি জানালে সেটাও সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিতে দুজনেই প্রতিশ্রুতি দেন।
এরপর তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে লোহাগড়া উপজেলার নলদী ইউনিয়ে পুলিশ ফাড়ি নির্মাণের আবেদন জানালে মন্ত্রী পুলিশ মহাপরিদর্শককে এবিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেন। একই সাথে লোহাগড়া ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনকে তৃতীয় শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীতকরণের আবেদন করেন এমপি মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। এছাড়া মন্ত্রণালয় নড়াইল সদর ও লোহাগড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনকে অত্যাধুনিক মোটরসাইকেল দিবেন বলে স্বপ্রণোদিত হয়ে মন্ত্রী মহোদয় প্রতিশ্রুতি দেন। যে মোটরসাইকেলগুলো নড়াইল জেলার ওলিগলিতে ছোটখাটো আগুন নিভানোর জন্য দ্রুত সময়ে কাজ করতে সহায়ক হবে। এসময় পুলিশের মহাপরিদর্শক জাভেদ পাটোয়ারি উপস্থিত ছিলেন। তার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সংসদ সদস্য মাশরাফী মোর্ত্তজা।
বিদুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপির নিকট গোটা নড়াইল জেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়ন করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। এছাড়া, নড়াইল জেলার জন্য যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২, মনিরামপুরের স্থলে নড়াইল জেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদর দপ্তর স্থাপনের বিষয়েও কথা বলেন তিনি। নড়াইল সদর পৌর এলাকায় ওজোপাডিকো বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে। কিন্তু এখনও পৌর এলাকা শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আসেনি। এবিষয়ে প্রতিমন্ত্রী মহোদয় ওজোপাডিকোর এমডি, খুলনাকে ফোন দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে কঠোর নির্দেশনা দেন। যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএমকেও ফোন দিয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মহোদয়কে নড়াইলের উক্ত বিষয়গুলি দ্রুত বাস্তবায়নের কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।
সাক্ষাতের পর বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু তার ভেরিভাইড ফেসবুকে পেজে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা এসেছিলেন জানিয়ে একটি পোস্ট করেন। যেখানে তিনি লিখেন “নড়াইলের সংসদ সদস্য মাশরাফী সারা দেশের তরুণদের আইকন। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে যাচ্ছেন তাঁর এলাকার সমস্যা সমাধানে। আজ দুপুরে হঠাৎ দেখি আমার মন্ত্রণালয়ে নড়াইলের বিদ্যুৎ বিষয়ে কথা বলতে মাশরাফী চলে এসেছেন।”
এরপর নড়াইল-২ আসনের সাংসদ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয়ের সাথে সাক্ষাতকালে তিনি জানান, লোহাগড়া উপজেলার ১৫টি, সদর উপজেলার ১৫টি ও কালিয়া উপজেলায় ১৫টি সর্বমোট ৪৫ টি বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু হবে এবং তিনি নতুন করে যে ভবনগুলি করা দরকার তার একটি তালিকাও দিতে বলেছেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাকে।
নড়াইলের বিভিন্ন এলাকার নদীভাঙ্গন সরেজমিন দেখার জন্য পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীমকে অনুরোধ করেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। এতে উপমন্ত্রী মহোদয় নড়াইলে আসার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। এসময় নড়াইলের নদীভাঙন রোধ ও সার্বিক বিষয়ে উপমন্ত্রী, পানিসম্পদ বিভাগের ডিজি ও নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলীকে বিশেষ ভাবে অনুরোধ করেন। নতুন করে কোটাকোল ইউনিয়নের নদী ভাঙ্গন রোধে আরও তিনটি স্থানে কাজ শুরুর বিষয়ে গুরুত্ব দেন।
সাংসদ মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও আইজি প্রিজনের সহিত সৌজন্য সাক্ষাৎকালে যে কোন প্রয়োজনে নড়াইলবাসীর পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন তিনি।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে গিয়ে নড়াইল জেলা, সদর ও লোহাগড়া উপজেলা প্রানিসম্পদ অফিসের শুন্য পদ ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস দ্রুত সরবরাহের ব্যবস্থা নিতে বলেন। এসময় সচিব রইছ উল আলম মন্ডল মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাকে পেয়ে খুবই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং বলেন, “মাশরাফী আমাদের ১৭ কোটি মানুষের আবেগ। আমি ইনশাআল্লাহ মাশরাফীর নড়াইলের পাশে সবসময় আছি।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সচিব কবির বিন আনোয়ার চিত্রা নদীর ২০ কি.মি খননের কাজ দ্বিতীয় ধাপে শুরু হবে বলে নিশ্চিত করেন ও এবিষয়ে ডিজি ও নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশনা প্রদান করেন। এসময় আনোয়ার বলেন,”মাশরাফী আসলেই মনটা ভালো হয়ে যায়। তিনি নড়াইলের উন্নয়ন বিষয়ে সাংসদ মাশরাফী মোর্ত্তজাকে বলেন “নড়াইলে নদী ভাঙ্গন রোধের কাজ চলছে, সেটি চলবে”। কাজ বন্ধ হবে না বলে তিনি সংশ্লিষ্টদের সকলের উপস্থিতিতে নির্দেশ দেন।
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কয়েকটি নদী ভাঙনকবলিত এলাকায় ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে সচিব মহোদয় আজ থেকেই ভাঙনরোধে কাজ শুরু করার নির্দেশনা প্রদান করেন।
পরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডিজি নার্স) এর সহিত সাক্ষাতে নড়াইল সদর হাসপাতাল ও লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক নার্স পদায়নের বিষয়ে কথা বলেন নড়াইল এক্সপ্রেস। তিনি দ্রুত এ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে গেলে ওই মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব কামরুন নাহার, নড়াইল জেলায় অতিসত্বর মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের কথা বলেন।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক মহোদয় তার মন্ত্রণালয়ে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাকে দেখেই বলেন, “এই যে আমাদের রিয়েল হিরো চলে এসেছে”। তখন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা মাননীয় মন্ত্রীকে বলেন “আমি রিয়েল হিরো নই, আপনি হলেন বাংলাদেশের রিয়েল হিরো, একজন খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা। আপনার প্রতি আমার শ্রদ্ধা।” কথোপকথনের এক পর্যায়ে নড়াইল জেলার টেক্সটাইল ভকেশনাল ইনস্টিটিউট ভবন নির্মাণের আবেদন করেন সাংসদ মাশরাফী মোর্ত্তজা। তখন এবিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি। এছাড়া,নড়াইলের উন্নয়নের জন্য তার মন্ত্রণালয় থেকে যা যা করণীয় তা করবেন বলে জানান বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক এম.পি।
এ বিষয়ে নড়াইল জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৌমেন বসু জানান, “একটা মানুষ কতোটা পরিশ্রম করছেন তার জেলার মানুষের জন্য। তিনি শুধু আবেদন করেই ক্ষান্ত থাকেন না, আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আছে এগুলো তিনি বাস্তবায়নও করিয়ে নিয়ে আসবেন পূর্বের ন্যায়। একজন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা যেখানেই যান, সবাই তাকে কাছে পেয়ে কতোটা উচ্ছ্বসিত হন তা সামনে থেকে না দেখলে বোঝা যাবে না। আমরা নড়াইলবাসী সত্যি ধন্য যে, এই মাটিতে এমন এক সন্তানের জন্ম হয়েছে যিনি সকলের কাছে অনুকরণীয়, সকলের প্রিয়জন। যিনি মানুষের ভালবাসায় সিক্ত হয়ে নড়াইলকে শ্রেষ্ঠ বাসস্থানে পরিণত করতে এভাবেই কাজ করে যাচ্ছেন। দ্বারে দ্বারে ঘুরে নড়াইলবাসীর ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নিরন্তর ছুটে বেড়াচ্ছেন। অচিরেই তাঁর হাত ধরে আমরা আমাদের আকাঙ্খিত স্বপ্নের নড়াইল গড়তে সক্ষম হবো।”