লোহাগড়ায় ৭০বছরের পুরোনো মন্ডলভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দৈন্যদশা

63

নড়াইল কণ্ঠ : বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো ১৯৫০ সালে। বিগত ১৬ বছরে দুইবার মধুমতী নদী ভাঙ্গনে গ্রাস করে নেয় বিদ্যালয়টির ভবন। যার ফলে বিদ্যালয় শিক্ষার্থী কমেছে। বর্তমানে টিনের ঘরে গরমে নাভিশ্বাস অবস্থা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। প্রয়োজনীয় শ্রেণি কক্ষের অভাব। অপরদিকে প্রাক-প্রাথমিক (শিশু) শ্রেণির শিক্ষক নেই। প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক কম থাকায় ব্যহত হচ্ছে পড়াশোনা, শিক্ষকেরাও রয়েছেন দুর্ভোগের মধ্যে।
এ দৈন্যদশা চিত্রটি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের মধুমতিপাড়ে মন্ডলভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। শিক্ষক, অভিভাবক ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের দাবি, বিদ্যালয়ে শিক্ষক বাড়াতে হবে এবং ভবন তৈরি করতে হবে। তাহলে প্রাণ ফিরে আসবে বিদ্যালয়টিতে।
শিক্ষক ও স্থানীয়রা জানান, ১৯৭৩ সালে সরকারি হওয়া ওই বিদ্যালয়ে ২০০২ সালে অন্তত সাড়ে তিন’শ শিক্ষার্থী ছিল। বর্তমানে শিক্ষার্থী দাড়িয়েছে মাত্র ৬৩ জন। ২০০৩ সালে বিদ্যালয় ভবন নদীগর্ভে বিলীন হয়। এরপর একটি টিনের ঘরে চলছিল শিক্ষা কার্যক্রম। সেটিও ২০০৭ সালে নদীতে যায়। এরপর কখনো গাছতলায়, কখনো মসজিদের মক্তবে পড়াশোনার কার্যক্রম চালানো হয়। ২০১০ সালে চার কক্ষের একটি টিনের ঘর তৈরি করা হয়। সেখানে চলছে বর্তমান শিক্ষা কার্যক্রম। বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকা তিনটি গ্রাম নিয়ে। এগুলো হলো চরখড়গদিয়া, চরগোপালপুর ও মন্ডলভাগ গ্রাম। চরখড়গদিয়া ও চরগোপালপুর গ্রাম নদীতে বিলীন হওয়ায়, চরাঞ্চলের এই বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় এবং ভবনের অভাবে শিক্ষার পরিবেশ না থাকায় শিক্ষার্থী দিন দিন কমেছে।
বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিতে ১৭ জন, প্রথম শ্রেণিতে ৮ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৬ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ১৩ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ১০ জন ও পঞ্চম শ্রেণিতে ৯ জন শিক্ষার্থীসহ মোট শিক্ষার্থী ৬৩ জন। গত মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, উপস্থিত মোট শিক্ষার্থী ৪৬ জন। গত বছর পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩ জন, ২০১৭ সালে ৩ জন, ২০১৬ সালে ৭ জন ও ২০১৫ সালে ৯ জন।
শিক্ষকেরা জানান, গত পাঁচ বছর আগে থেকে শিশু শ্রেণির জন্য আলাদা শিক্ষক নিয়োগ হলেও উপজেলার একমাত্র এই বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণির জন্য শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। শিশু শ্রেণির জন্য শিশু বান্ধব পরিবেশে একটি কক্ষ সুজ্জিত করা নির্দেশনা থাকলেও কক্ষের অভাবে অন্য শ্রেণির ক্লাস নেওয়ায় আলাদা করে শিশু শ্রেণির জন্য কক্ষ সাজানো হয়নি। বিদ্যালয়ের একমাত্র টিনের ঘরটিতে আছে চারটি কক্ষ। একটিতে কার্যালয়, অন্য তিনটি শ্রেণিকক্ষ। বিদ্যালয়ের প্রথম শিফটে, শিশু, প্রথম, দ্বিতীয় ও পঞ্চম শ্রেণিসহ একসঙ্গে চারটি শ্রেণির ক্লাস নিতে হয়। দ্বিতীয় শিফটে শিশু শ্রেণির ক্লাসে চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস হয়।
বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষক আছেন তিন জন। প্রধান শিক্ষক শ্রীপতি কুমার বিশ্বাস এবং সহকারী শিক্ষক আবু ওসমান গনি ও কুলছুম বেগম। তাঁরা বলেন, বিদ্যালয়ে একসঙ্গে চারটি শ্রেণির ক্লাস নিতে হয়। শিক্ষক তিন জন। প্রতি শিক্ষককে অন্তত আটটি ক্লাস নিতে হয়। এতো ক্লাস নিয়ে সর্বোচ্চটি দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। আবার শিক্ষকদের আছে নানা প্রশিক্ষণ, অফিসিয়াল কার্যক্রম এবং নিতে হয় ছুটি। শিশু শ্রেণির জন্য শিক্ষক দেওয়া হলে এবং ভবন তৈরি হলে আবার প্রাণ ফিরে আসবে বিদ্যালয়টিতে।
এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার বর্মন বলেন, ‘ভবনের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। সামনের নিয়োগ থেকে শিশু শ্রেণির শিক্ষক দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’