লন্ডনে সার্বজনীন গোলাপগঞ্জ উৎসব উদযাপিত

47

নড়াইল কণ্ঠ : ‘এসো হে জনে জনে শিকড়ের সন্ধানে’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো লন্ডনে ‘সার্বজনীন গোলাপগঞ্জ উৎসব যুক্তরাজ্য ২০১৯’ উদযাপিত হয়েছে।

রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্টস অ্যান্ড কমিউনিটি সেন্টারে যুক্তরাজ্যে গোলাপগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৫০টি সংগঠন, ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার সমন্বয়ে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে সর্বস্তরের গোলাপগঞ্জবাসিদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি সফল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি জাতীয় সঙ্গীত দিয়ে শুরু ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি……।

এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় আলতাব আলী পার্ক থেকে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালীর মধ্যদিয়ে উৎসবের শুভ সূচনা করেন উৎসবে আগত সম্মানিত অতিথিবৃন্দ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ,যুক্তরাজ্যস্থ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের হাইকমিশনার সাইদা তাছনিম মুনা, বেথনালগ্রীন বো আসনের এমপি রওশন আরা আলী, টাওয়ার হ্যামলেটস এর নির্বাহী মেয়র জন বিগস, ক্রয়ডন মেয়র হুমায়ুন কবির, হেইসস্টিং মেয়র। টওয়ারহামলেটস এর ডেপুটি মেয়র, স্পীকার-সহ বিভিন্ন কাউন্সিলের কাউন্সিলারবৃন্দ ।

দিনব্যাপী এই উৎসবে ছিলো গোলাপগঞ্জের ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে প্রামাণ্য চিত্র, গুণীজন সম্মাননা, ধামাইল নৃত্য, সিলেটের বিয়ের গান, পুথি পাঠ, সিলেটি নাটক এবং খাবারের রকমারী পিঠা ষ্টল সহ জমকালো অনুষ্ঠান।

সব শেষে ছিলো ব্রিটেইন ও বাংলাদেশ থেকে আগত খ্যাতিমান শিল্পীদের নিয়ে মন মাতানো সিলেটের লোক সঙ্গীত।

উৎসবের সদস্য সচিব মারুফ আহমেদ এক প্রেস ব্রিফিংএ জানান, প্রায় অর্ধশতাধিক বছর সময়কাল আগ থেকে ব্রিটেনের মাটিতে আমাদের পূর্ব পুরুষগণের প্রথম পা পড়েছিল। যে মুষ্টিমেয় বাঙালি ছিলেন এখানে তার অধিকাংশের জন্মভূমি সিলেটের গোলাপগঞ্জে। ধীরে ধীরে তাঁরা নিজেদের পরিবার পরিজনদের নিয়ে আসেন এ দেশে, আমাদের শেকড় প্রোথিত হতে থাকে ব্রিটেনের মাটিতে। এমনিভাবে আমাদের অস্তিত্ব দিনে দিনে বৃদ্ধি পেতে পেতে আজ আমরা এক বিশাল জনগোষ্ঠীর মহীরূহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে প্রবেশ করেছি। আমাদের বৈষয়িক অনেক উন্নতি সাধিত হয়েছে। আমাদের নতুন প্রজন্ম গর্ব করার মত প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের শেকড় আর নাড়ির টানে এই ধারাবাহিকতা অবশ্যই ধরে রাখতে হবে।

আপনারা নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন, আমাদের এখানে নাইফ ক্রাইমস ও ড্রাগ সেবন প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এইসব জীবন বিনাশী কর্মকাণ্ড থেকে আমাদের উত্তরসূরিদের রক্ষা করতে হবে। তাদের মনে জাগিয়ে তুলতে হবে আমাদের অতীত, আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের সংস্কৃতি। তাদের দেখিয়ে দিতে হবে আমাদের পূর্বসূরিদের যাপিত জীবনের কথা, আমাদের আলোকিত অতীতের কথা। তাই আমাদের অতীত আর বর্তমানের মাঝখানে একটা সাঁকো নির্মাণ করা দরকার । যার মাধ্যমে আমাদের তরুণদের সাথে একটা যোগসূত্র স্থাপিত হবে। ফলে আমাদের রক্তের ধারক ও বাহক তরুণেরা নতুন করে ভাবনার খোরাক পাবে।

তিনি আরো জানান, আমরা বাঙালি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক। বাঙালিপনাকে তাই অস্বীকার করার উপায় নেই। আমাদের মূল শেকড় অনেক গভীরে। আমরা আমাদের শেকড়কে রক্ষা করতে হবে। শেকড়ের সঞ্চালন ঘটানো দরকার। এই উপলব্ধি থেকে আমরা প্রথম বারের মতো ‘সার্বজনীন গোলাপগঞ্জ উৎসব’ এর সূচনা করতে যাচ্ছি। আগামী ১৫ সেপ্টম্বর ২০১৯ , রোববার এ উৎসবের মাধ্যমে আমাদের পুরনো ইতিহাস নতুন করে রচিত হবে।
“সার্বজনীন গোলাপগঞ্জ উৎসব” কোন বিশেষ ব্যক্তি বা অঞ্চল বা কোন বিশেষ গোষ্ঠির সংগঠন নয়, এ উৎসব গোলাপগঞ্জের প্রতিটি অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের।

আসুন নিজেদের সাময়িক স্বার্থ আর মতানৈক্য ভুলে গিয়ে বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের প্রজন্মদের শরিক করে এক কাতারে দাঁড়াই। আমরা জানিয়ে দিতে চাই বিশ্বকে, গোলাপগঞ্জবাসী শুধু ধনে জনে নয় মনের দিক থেকেও অনেক বড়। আসুন আমরা লালন করি আমাদের ঐতিহ্যবাহী ভ্রাতৃত্ববোধ আর সহজ সরল সাচ্চা সংস্কৃতি।

সার্বজনীন গোলাপগাঞ্জ উৎসব যুক্তরাজ্য ২০১৯ এর শ্লোগান হলো এসো হে জনে জনে শিকড়ের সন্ধানে। এই শ্লোগান কে সামনে রেখে আসুন আমরা মিলি শেকড়ের সম্মিলনে। সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে আমাদের মহৎ উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সাফল্য পাবে।