গোপালগঞ্জের চন্দ্রদিঘলিয়া ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থী

163

এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জে আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে জোরালো ভাবে জনসংযোগ ও মনোনয়ন দৌড়ে নেমে পড়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। এছাড়াও রয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তপশীল ঘোষনার সাথে সাথে এ সব প্রার্থীরা ভোটের মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। ইতি মধ্যে অনেক সম্ভাব্য প্রার্থীরা পোস্টার, লিফলেট ছেপে ও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান ও সমাবেশে যোগ দিয়ে তাদের প্রার্থীতার পক্ষে জনসমর্থন আদায়ে ব্যস্ত রয়েছেন। এ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে নিজেদের সাংগঠনিক ভীত, যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা প্রমাণে ব্যাপক ভাবে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্ভ্যাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা আলাদা আলাদা ভাবে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য ইউনিয়ন আ’লীগ, উপজেলা আ’লীগ, জেলা আ’লীগ, স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ কেউ কেউ আবার কেন্দ্রীয় নেতাদের দ্বারস্থ হচ্ছেন চালিয়ে যাচ্ছেন গ্রুপিং লবিং। তারা ভোটারদের কাছে দোয়া ও আশির্বাদ কামনা করছেন। চন্দ্রদিঘলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দুর্গ হওয়ায় এখানে দলীয় প্রার্থীর সংখ্যা কম নয়। চন্দ্রদিঘলিয়া ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীরা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও গোপালগঞ্জ-২ আসনের বারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের আর্শীবাদ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। দলের এ সব নেতারা প্রত্যেকে দলীয় মনোনয়নে প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে আগ্রহী। তবে দলীয় মনোনয়ন না পেলে কেউ কেউ আবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, কে দলীয় মনোনয়ন পাবেন তা বলা মুশকিল। সব কিছু নির্ভর করছে আমাদের প্রাণ প্রিয় নেতা শেখ সেলিম ভাইয়ের উপর। সরেজমিন চন্দ্রদিঘলিয়া ইউনিয়নের সম্ভাব্য বিভিন্ন চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সাথে কথা হলে তারা তাদের বক্তব্য বিভিন্ন ভাবে তুলে ধরেন।NK_Feb_2016_095চন্দ্রদিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান বি এম ওবায়দুর রহমান বলেন, দলীয় মনোনয়ন পাবার ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। আমি পুনরায় চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত হতে পারলে আমার ইউনিয়নে অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করবো। আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর এ ইউনিয়নের অনেক উন্নয়ন মুলক কাজ করেছি। এবার আমি নির্বাচিত হতে পারলে আমার ইউনিয়নের অসমাপ্ত কাজগুলি সম্পন্ন করবো যেমন রাস্তাঘাট নির্মান, ব্রিজ-কালভাট নির্মান, নতুন স্কুল নির্মান, খাল খননসহ বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক কাজ করবো। আমার শেষ কথা যদি আমার সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম ভাই যদি আমাকে দলীয় মনোনয়ন দেন বা নির্বাচন করতে বলেন তাহলে আমি নির্বাচন করবো। দল যদি আমাকে মনোনয়ন না দেয় তবে যাকে মনোনয়ন দেবে আমি দলের হয়ে তার পক্ষে নির্বাচনি কাজ করবো।চন্দ্রদিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী, সাবেক সদর থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: ছবেদ আলী ভুইয়াNK_Feb_2016_097 বলেন, দলীয় মনোনয়ন পাবার ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। কারন আমি বর্তমানে আওয়ামীলীগ দলের হয়ে দীর্ঘ দিন যাবত দলের কাজ করছি। সে কারনেই আমার বিশ্বাস আমি দলীয় মনোনয়ন পাব। আমি চেয়ারম্যান হিসাবে এ ইউনিয়নে নির্বাচিত হতে পারলে আমার ইউনিয়নে উন্নয়নের ধারা  অব্যাহত রাখবো। আমি আশাকরি আমার এ ইউনিয়নকে ডিজিটাল ও আধুনিক ইউনিয়নে রুপ দিব এবং বাংলাদেশের একটি মডেল ইউনিয়ন হবে চন্দ্রদিঘলিয়া ইউনিয়ন এটা আমার বিশ্বাস ও আশা। দল যদি আমাকে দলীয় মনোনয়ন না দেয় সে ক্ষেত্রে আমি আমার ইউনিয়নের সাধারন মানুষের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিব। সময়ই বলে দিবে আমাকে তখন কি করতে হবে।NK_Feb_2016_098চন্দ্রদিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ আহবায়ক কমিটির সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক রবিউল ইসলাম ভুইয়া বলেন, দলীয় মনোনয়ন পাবার ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। জন্ম সুত্রে আমি আওয়ামীলীগের সদস্য। আমি দীর্ঘ দিন যাবত দলের সাথে আছি। গোপালগঞ্জের ৯৮ ভাগ মানুষই আওয়ামীলীগের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত। আমরা পারিবারিক ভাবে আওয়ামী পরিবারের লোক। আমি আওয়ামীলীগের একজন কর্মী। দলীয় মনোনয়ন পাবার ব্যাপারে আমি শত ভাগ আশাবাদী। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আমি চেষ্টা করে যাব। আমাদের দেশে বর্তমানে কেউ না খেয়ে থাকেনা। দেশের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। তবে সমাজে নির্যাতিত মানুষের সংখ্যা বেশি। আমি এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত হতে পারলে ইউনিয়নের অসহায়, নির্যাতিত ও দরিদ্র মানুষের উন্নয়নে কাজ করে যাব। আমি এ ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভাট ও শিক্ষা খাতে উন্নয়ন করবো। আমি এ ইউনিয়নকে মাদক মুক্ত করবো। আমি সাধারন জনগনের পাশে ছিলাম আছি এবং থাকবো। দল যদি আমাকে দলীয় মনোনয়ন না দেয় সে ক্ষেত্রে আমি দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেব। কারন আমি দলের লোক দলের বাইরের কেউ নই।চন্দ্রদিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সদস্য মো: আবুল বাশার মিয়া বলেন, আমি দলীয় মনোনয়ন NK_Feb_2016_100পাব সে ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। আমি এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত হতে পারলে আমি গরীব-দু:খি, অসহায় ও নির্যাতিত মানুষের সেবা করে যাব। এলাকার মানুষের চাওয়া-পাওয়াকে আমি প্রাধান্য দেব কোন ভাবেই তাদের বঞ্চিত করবো না। প্রয়োজনে আমার নিজস্ব অর্থায়নে তাদের সাহায্য সহযোগিতা করবো। আমার ইউনিয়নকে আমি ডিজিটাল ইউনিয়ন হিসাবে রুপদান করবো। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ যাতে আরো বেশি সু-সংগঠিত হতে পারে সে জন্য কাজ করে যাব। আমি আমার প্রানপ্রিয় নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম ভাইয়ের দোয়া ও আর্শীবাদ নিয়ে আগামীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবো। আমি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেলে তবে যাকে মনোনয়ন দেবে আমি দলের হয়ে তার পক্ষে নির্বাচনি কাজ করবো।NK_Feb_2016_099চন্দ্রদিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও বর্তমান ইউপি সদস্য মো: হাদিউজ্জামান মোল্লা জাবেদ বলেন, দলীয় মনোনয়ন পাবার ব্যাপারে আমি শত ভাগ আশাবাদী। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আমি চেষ্টা করে যাব। আমি যদি আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারি তাহলে আমি ইউনিয়নের উন্নয়নের ব্যাপারে সকল ধরনের উন্নয়ন কাজ করবো। আমি ইউনিয়ন বাসীকে সাথে নিয়ে বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে কাজ করতে চাই। আমি আমার এ ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, স্কুল কলেজ, চিকিৎসা সেবার উন্নয়ন করবো। আমি এ ইউনিয়নে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবো। তিনি আরো বলেন, এ ইউনিয়নে সঠিক নেতৃত্বের অভাব আছে, এ ইউনিয়নে টাকার বিনিময়ে ভোট বিক্রি হয়ে যায়। সাধারন ভোটাররা তাদের প্রকৃত সম্মান পায় না। আমি চাই আগামী নির্বাচনে কালো টাকার ছড়াছড়ি বন্ধ হোক এবং প্রকৃত দেশ প্রেমিক মানুষ যেন এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত হয়। দলীয় মনোনয়ন যদি আমাকে না দেওয়া হয় তবে দল যদি দলীয় মনোনয়ন অন্য কাউকে দেয় সে ক্ষেত্রে আমি দলের নিয়ম মেনে নিয়ে তার পক্ষে কাজ করবো। আমি চাই যে ব্যাক্তি আওয়ামীলীগের সাথে জড়িত তাকে যেন দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়।চন্দ্রদিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক ভুইয়া বলেন, আমি কোন দলীয় মনোনয়ন নিব না। আমি NK_Feb_2016_101নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ নিব। আমি যদি আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারি তাহলে আমি ইউনিয়নের উন্নয়নের ব্যাপারে সকল ধরনের উন্নয়ন কাজ করবো। আমি ইউনিয়ন বাসীকে সাথে নিয়ে বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে কাজ করতে চাই। আমি আমার এ ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, স্কুল কলেজ, চিকিৎসা সেবার উন্নয়ন করবো। আমি এ ইউনিয়নে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবো। এ ইউনিয়নে সঠিক নেতৃত্বের অভাব আছে, এ ইউনিয়নে টাকার বিনিময়ে ভোট বিক্রি হয়ে যায়। সাধারন ভোটাররা তাদের প্রকৃত সম্মান পায় না। আমি চাই আগামী নির্বাচনে কালো টাকার ছড়াছড়ি বন্ধ হোক এবং প্রকৃত দেশ প্রেমিক মানুষ যেন এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত হয়।চন্দ্রদিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোল্লা আছাদুজ্জামান বলেন, দলীয় মনোনয়ন পাবার ব্যাপারে আমি শত ভাগ আশাবাদী। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আমি চেষ্টা করে যাব। আমি এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত হতে পারলে ইউনিয়নের উন্নয়নে যথাযথ ভাবে কাজ করে যাব। সরকারি সাহায্য ছাড়াও আমি নিজে আর্থিক ভাবে ইউনিয়নের উন্নয়ন কল্পে সকল ধরনের ব্যবস্থা নেব। মাদক সমাজের একটা ব্যাধি সে কারনে আমি এ ইউনিয়ন থেকে মাদক নির্মূল করবো। ইউনিয়নের উন্নয়নের জন্য আমি আমার জীবনের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে কাজ করে যাব। দল যদি আমাকে দলীয় মনোনয়ন না দেয় সে ক্ষেত্রে আমি দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেব। কারন আমি দলের লোক দলের বাইরের কেউ নই।