‘আমার ঢোল আমি পিটাব না’ -এমপি মাশরাফি

57

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইল জেলা পর্যায় সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে মতবিনিময় সভা করেছেন নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও ক্রিকেটার মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। বুধবার (৭ আগস্ট) দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় চলাকালে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেন মাশরাফী। ওই সময় তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ার করে বলেন, নড়াইলে চাকরি করতে হলে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
কয়েকটি দপ্তরের কর্মকর্তার অনিয়ম ও দুর্নীতির ইঙ্গিত দিয়ে মাশরাফী বলেন- ‘আপনারাকে কী কাজ করছেন, অনিয়ম ও দুর্নীতি করছেন, তার তথ্য আমার কাছে আছে। এমনকি ভিডিও আমার কাছে আছে। আপনাদের নড়াইলে কাজ করতে ভালো না লাগলে প্রয়োজনে অন্যত্র বদলি হয়ে যাবেন। কিন্তু নড়াইলে চাকরি করতে হলে অবশ্যই স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কোনো কাজে অনিয়ম হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকেই ধরবেন। আপনাদের কিছুই বলবেন না। আমি নড়াইলকে একটি বাসযোগ্য জেলা হিসেবে গড়তে চাই। এজন্য আপনাদের সবার সহযোগিতা কামনা করি।’
এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মাশরাফি বলেন, ‘নড়াইলের উন্নয়নের চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে আমি আমার নিজের ঢোল পিটাবো কেন? আপনারা (সাংবাদিকরা) খোঁজখবর নিয়ে দেখেন, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর এই সাত মাসে নড়াইলের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি। খোঁজখবর নিয়ে আপনারা প্রতিবেদন করেন। আমার ঢোল আমি পিটাব না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করতে চাই। নড়াইলকে মাদকমুক্ত করতে চাই।’ এ সময় মাশরাফি সমাজের প্রভাবশালীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা কেউ মাদকবিক্রেতা ও সেবীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিবেন না। মাদকের অভিযোগে কোন আসামীকে পুলিশে ধরলে কোন প্রভাবশালী যেন সেই আসামীর পক্ষে কথা না বলেন। সবাইকে আমি সেই অনুরোধ করি।’
এ সময় মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার), সিভিল সার্জন ডাক্তার আসাদ-উজ-জামান মুন্সী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবাস চন্দ্র বোস, সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন খান নিলু, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ আব্দুস শাকুরসহ সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা। মতবিনিময় সভায় এমপি মাশরাফি ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসায় ব্যক্তিগত অর্থায়নে সাড়ে ৪০০ কিট প্রদান করেন।
এরপর তিনি দুপুর ৩টার দিকে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন এবং ডেঙ্গু ও হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে চিকিৎসকদের সাথে মতবিনিময় করেন। এরপর লোহাগড়া উপজেলা পর্যায় কর্মকর্তাদের সাথে করেন।