নড়াইলের লোহাগড়া শিক্ষার্থীর যৌন হয়রাণীর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

143

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইলের লোহাগড়ায় একজন স্কুল শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রাণী করার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ অভিভাবক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় লোহাগড়া রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ওই শিক্ষার্থীর পিতা ইতনা গ্রামের শেখ নুরুজ্জামান।

লিখিত বক্তব্যে শেখ নুরুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, উপজেলার ইতনা ইউপি’র ইতনা গ্রামের পশ্চিম পাড়ার মকবুল শেখের বখাটে ছেলে মাহফুজ শেখ এলাকার স্কুল, কলেজগামী মেয়েদের প্রায়শই উত্যক্ত করে আসছিল। বিগত ২০১৩ সালে ৮ই জুন আমার ছোট মেয়ে ও ইতনা বালিকা বিদ্যালয়ের ৬ষ্ট শ্রেণির শিক্ষার্থী রাবেয়া বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই বখাটে তাকে টেনে হিঁচড়ে পাশ্ববর্তী লিপু সরদারের মেহগুনি বাগানে নিয়ে যায়। এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করার পর ইতনা দক্ষিণ পাড়ার তজিবর ভূইয়ার নেতৃত্বে গ্রামবাসী বখাটে মাহফুজ পাকড়াও করে তৎকালীন নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য বিঃ জেনারেল এস কে আবু বাকের এর  ইতনাস্থ বাড়িতে আটকে রাখে। এ ঘটনা নিয়ে ওই দিন সন্ধ্যায় উভয় পাড়ার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ শালিস বৈঠক করেন। বৈঠকে অভিযুক্ত বখাটে মাহফুজের অভিভাবক উপস্থিত না থাকায় এলাকাবাসী তাকে উত্তম-মধ্যম দেয়। এ সময় মাহফুজের পক্ষে ইতনা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্র্তা শেখ জালাল উদ্দিন আহম্মেদ মুচলেকা দিয়ে মাহফুজকে ছাড়িয়ে নেয়।

এ ঘটনার পর মাহফুজের ভয়ে আমার মেয়েকে ইতনা বালিকা বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র নিয়ে নিজ বাড়িতে রেখে দেই। পরবর্তীতে ১ বছর পর তাকে ইতনা স্কুল এন্ড কলেজের ৭ম শ্রেণিতে ভর্তি করি। এই ঘটনার পর থেকেই উক্ত বখাটে মাহফুজ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সিম নম্বর দিয়ে আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে জীবননাশের হুমকি অব্যহত রাখে। এ ব্যাপারে লোহাগড়া থানায় মাহফুজের নামে একটি সাধারণ ডায়েরী দায়ের করা হয়। সাধারণ ডায়েরী নং-৫২৯, তারিখ- ১২.০৬.১৫ইং। এরপরও বখাটে মাহফুজের কুকর্ম থেমে থাকে নাই। ফের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আবারও আমাকে নানা ভাবে গালিগালাজসহ জীবননাশের হুমকি দিতে থাকে। বাধ্য হয়ে আমি ওই বখাটের নামে লোহাগড়া থানার একটি অভিযোগপত্র দাখিল করি এবং লোহাগড়া থানার এসআই নিমাই কুমার মন্ডল উক্ত অভিযোগের তদন্ত পূর্বক মোবাইলের কললিস্ট সংগ্রহ করেন। থানায় অভিযোগ করার পর বখাটে মাহফুজ ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৯ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আমার মেয়ে রাবেয়া খানমের ৫টি অশ্লীল ও কুরুচি পূর্ণ ছবি পোস্ট করে। এতে করে গ্রামবাসীদের মাঝে ক্ষোভ ও তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় আমার এবং মেয়ের সম্মান হানী ঘটেছে। প্রতিকার চেয়ে আমি বখাটে মাহফুজের পিতা মকবুল শেখ ও তার বড় ভাই সেনা সদস্য রিপন শেখকে ঘটনা অবহিত করলে তারা বিচার না করে উল্টো আমাকে গালি গালাজ করে তাদের বাড়ি থেকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। এ ঘটনার পর গত ১৪ অক্টোবর আমি লোহাগড়া থানায় বখাটে মাহফুজের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করি। মামলা নং- ১৪, তারিখ-১৪.১০.১৫ইং। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাসির উদ্দিন বাঃ দঃ বিঃ ২২ ধারায় মেয়ের জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন এবং বর্তমান মামলাটি তদন্তনাধীন রয়েছে। মামলা করার পর মাহফুজের পিতা মকবুল শেখসহ তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা আমার মেয়ের নামে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় মনগড়া ও বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন করে আমাকে সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। শেখ নুুরুজ্জামান তার স্কুল পড়–য়া মেয়ের জীবনের নিরাপত্তা এবং বখাটের মাহফুজের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবী করে উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের আশু সাহায্য ও সহোযোগিতা কামনা করেছেন।