নড়াইলে প্রায় ১৯ লাখ টাকাসহ মাদকসম্রাট উজ্জ্বলের স্ত্রী আটক

448

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইলের মাদকসম্রাট কথিত সাংবাদিক উজ্জ্বল রায়ের আস্তানায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান নগদ টাকা, ফেন্সিডিল, গাঁজা ও মাদকসেবনের উপকরণ উদ্ধার করেছে। এ সময় উজ্জ্বল রায়ের স্ত্রী দিপালী রায়কে আটক করা হয়। তবে উজ্জ্বল রায়কে আটক করা যায়নি।

সোমবার (০৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আল-আমিন এর নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নড়াইল পৌরসভার ভওয়াখালী-উত্তর কুড়িগ্রাম সীমান্তে নজরুল ইসলামের ভাড়াবাড়ি (২য়তলা) ঘেরাও করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় প্রায় দেড়ঘন্টাব্যাপী অভিযান চালিয়ে উজ্জ্বল রায়ের এ ভাড়াবাসা থেকে নগদ ১৮ লক্ষ ৭০ হাজার ৪৩৭ টাকা, ১২টি ফেন্সিডিলের খালি বোতল, প্রায় ২’শ গ্রাম গাঁজা, মাদকসেবনের উপকরণ, ২টা মোবাইল সেট, ১টি পাসপোর্ট, ২টি জাতীয় পরিচয়পত্র জব্দ করে ভ্রামমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আল-আমিন।
অভিযান শেষে রাত সাড়ে ১০টার দিকে উদ্ধারকৃত টাকাসহ উজ্জ্বল রায়ের স্ত্রী দিপালী রায়কে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় নেওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীসহ অন্যান্যদের সামনে উদ্ধারকৃত টাকা গননা করা হয়। এরপর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ দিপালী রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ ইমরান, সহকারী কমিশনার মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুমিন, নড়াইল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, পরিদর্শক বিদ্যুৎ বিহারী নাথসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীবৃন্দ।
এলাকা সূত্রে থেকে জানাগেছে, নড়াইল পৌরসভায় প্রশাসনের নাগের ডকায় বসে সাংবাদিক সেজে উজ্জ্বল রায় দির্ঘবছর ধরে মাদক সরবরাহ ও ব্যবসা চালিয়ে আসছিল।
সূত্রে আরো জানাযায়, এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিসহ অলৌকিক ক্ষমতাধরদের ছত্রছায়ায় দম্ভের সাথে মাদক ওপেন সিক্রেট বেঁচা-কেনা করে আসছিলো। এ ছাড়া শহরের কথিত আছে, উজ্জ্বল রায়ের আস্তানায় নিয়ম মেনে চলার মানুষরাও আসে, নিয়মের বাইরের মানুষেরও আনাগুণা চলে প্রতিনিয়ত। এর আগেও সে একাধিকবার আটক হয়েছে। তার নামে নড়াইল অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত ও যশোর জেলা জজ আদালতে একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে।
এদিকে উজ্জ্বল রায়ের ভাড়াবাসা অভিযানের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার সাথে বিভিন্ন মন্তব্য এসেছে। এ সব মন্তব্যে বলা হয়েছে, উজ্জ্বল রায়কে যে সকল পত্র-পত্রিকা সাংবাদিক বানিয়েছেন তারা দ্রুত তাকে বাতিল ঘোষণা না করলে সে সব পত্র-পত্রিকার নাম প্রকাশ করা হবে এবং যাদের ছত্রছায়া ও সরাসরি মদদতে নড়াইল শহরে দির্ঘবছর ধরে বুকফুলিয়ে মাদক বেচাকেনা করে আসচ্ছে তাদের নামও প্রকাশ করা হবে। তারা এমনও মন্তব্য করেছেন, ‘যেহেতু মাদকের বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাধারণ জনগণ রয়েছে।