জেরিনের পড়ালেখার দায়িত্ব গ্রহণ করলেন নড়াইলের এসপি

205

নড়াইল কণ্ঠ : ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও বাবার সামান্য বেতনের কথা ভেবে নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজেই ভর্তি হওয়ার কথা ভাবছিলো নড়াইলের ভওয়াখালী গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের এইচএসপি জিপিএ-৫.০০ পাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থী জান্নতুল ফেরদৌস জেরিন। নড়াইল কণ্ঠ পত্রিকাসহ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে জেরিনের এমন ভাবনা ও সাফল্যের সংবাদপ্রকাশের পর ডাক এলো নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এঁর কাছ থেকে। তার ডাকে জেরিন ও তার বাবা হাজির হন নড়াইলের পুলিশ সুপারের অফিস কক্ষে। সেখানেই তাকে ও তার বাবাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন নেন এসপি মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। শুধু ফুল দিয়ে নয়, জেরিনের পড়ালেখারও দায়িত্ব গ্রহণ করলেন এসপি জসিম উদ্দিন।’

সোমবার (২২ জুলাই) সকালে জেরিন ও তার বাবাকে এসপি জসিম উদ্দিন নিজ অফিসে আমন্ত্রণ জানিয়ে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন তিনি। এ সময় তিনি জেরিনের পড়ালেখার দায়িত্ব গ্রহণের কথা প্রকাশ করেন। জেরিন এ বছর নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ হতে বাণিজ্য বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়েছে।

জানাগেছে, তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে অনেকেই মোবাইল ও ফেসবুক ব্যবহার করলেও ভাল ফলাফলের প্রত্যাশায় জেরিন কখনোই জেরিন মোবাইল বা ফেসবুক ব্যবহার করেনি। ফেসবুকে কোন আইডিও নেই তার। বাবা মায়ের অনুপ্রেরণা ও শিক্ষকদের আন্তরিকতার কারনেই ভাল ফলাফল সম্ভব হয়েছে জানায় সে। ২০১৭ সালে নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় হতে সে ৪.৫৫ পয়েন্ট পেয়ে এসএসসি পাশ করে।

জেরিন নড়াইল পৌর এলাকার ভওয়াখালী গ্রামের মো: জাহাঙ্গীর আলম শেখের বড় কন্যা। ছোট মেয়ে লামিয়া আক্তার জিম নড়াইল শিবশংকর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। জাহাঙ্গীর আলমের দেশের বাড়ি ঢাকা বিভাগে হলেও তিনি চাকুরীর সুবাদে অনেক বছর আগে নড়াইলে এসেছেন। তাই নড়াইলকে ভালবেসে এখানেই জীবন কাটাতে চান। স্ত্রী রিনা বেগম গৃহিণী।

জেরিনের বাবা মো: জাহাঙ্গীর আলম শেখ নড়াইল শহরের রূপগঞ্জ বাস কাউন্টারে যশোর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির অধীনে কলারম্যান হিসেবে কাজ করেন। সদা হাসিখুশি এই মানুষটি সামান্য বেতনে চাকুরী করেও আদরের দু’টি কন্যাকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চান।