আগামি প্রজন্ম গঠনে স্কুলে স্কুলে ‘সততা স্টোর’ পরিচালনা করছে দুদক!

75

নড়াইল কণ্ঠ : ‘আগামি প্রজন্মের ভেতর নীতি নৈতিকতা মূল্যবোধভিত্তিক জীবনবোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন সারা দেশে মাধ্যমিক পর্যায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের শিক্ষার্থীদের এ সচেনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত ‘সততা সংঘ’ নামে একটি কমিটি পরিচালিত করে আসছে। এর পাশাপাশি এসব স্কুলে পরিচালনা করছেন দোকানদার বিহীন দোকান। যার নাম দেয়া হয়েছে ‘সততা স্টোর’। এসব সততা স্টোরে থাকবে না কোন বেচাকেনার লোক। শুধু থাকবে একটি মূল্য তালিকা, ১টি ক্যাশ বাক্স এবং ১টি রেজিষ্টার খাতা। শিক্ষার্থীরা যার যার প্রয়োজনীয় পণ্য মূল্য তালিকা দেখে রেজিষ্টারে নাম লিখে নির্ধারিত পণ্যের মূল্য ক্যাশ বাক্সে রেখে পণ্যটি গ্রহণ করবে। এ ধরনের বেচাকেনার অনুশীলনের মধ্যদিয়ে প্রতিটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততার মনোভাব সৃষ্টি হবে। মিথ্যা বা ফাঁকি দেয়ার মানসিকতা মন থেকে একদিন নির্মূল হবে।’

তারই ধারাবাহিকতায় নড়াইলে ১২টি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ‘সততা স্টোর’ পরিচালনার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার চেক হস্তান্তর করেছে। বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুরে নড়াইল জেলা শিক্ষা অফিসারের সভাকক্ষে প্রধান শিক্ষকবৃন্দের হাতে এ চেকসমূহ তুলে দেন যশোর দুদকের সহকারি পরিচালক মো. মাহফুজ ইকবাল। এ ১২টি স্কুলের মধ্যে নড়াইলের ৫টি লোহাগড়ার ৪টি এবং কালিয়ার ৩টি স্কুলকে এ কর্মসূচি পরিচালনার জন্য প্রতিটি স্কুলকে ৩০ হাজার টাকার চেক দেয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার এসএম ছায়েদুর রহমান, সদরের মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস এম ফজলুল হক, দুদক পরিদর্শক মো. আখতারুজ্জামন, সহকারি পরিদর্শক মো. মনিরুল ইসলাম, নড়াইল জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী হাফিজুর রহমান প্রমুখ।

চেক হস্তান্তর সময় বক্তারা বলেন, প্রতিদিন সকালে স্কুল এ্যাসেম্বেলিতে দুদক কর্তৃক দেয়া শপথবাক্য পাঠ করানো, প্রতি মাসে একবার ‘সততা সংঘ’ কমিটির সভা করা, ‘সততা স্টোর’ ক্লোজ মনিটরিং ও শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে একদিন নৈতিকতা ও মূল্যবোধ বিষয়ের ওপর একটি ক্লাস নেয়া। এ ধরণের মোটিভেশনাল আলোচনার মধ্যদিয়ে আগামি প্রজন্ম সৎ ও ন্যায়ভিত্তিক জীবন পরিচালনার অভ্যাসে গড়ে উঠবে।