যশোর হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নে মতবিনিময়

38

নড়াইল কণ্ঠ : ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট যশোর জেনারেল হাসপাতালে চালু হয়েছে সেন্ট্রাল ক্যাশ কাউন্টার। যেখান থেকে হাসপাতালের আউটটডোর টিকিটের মূল্য বাদে সকল প্রকার পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফি জমা নেয়া হয়। ফলে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের সুযোগ থাকছে না। এতে হাসপাতালের প্রতিদিনের আয় অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশের কোন সরকারি হাসপাতালে সেন্ট্রাল ক্যাশ কাউন্টার চালু- এটিই প্রথম বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ। আজ সকাল ৯টায় হাসপাতাল সভাকক্ষে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), যশোরের সহযোগিতায় আয়োজিত এক মতবিনিয় সভায় তিনি এ কথা বলেন। যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে হাসপাতালে একটি ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন বসানো হয়েছে বলেও তিনি সকলকে অবহিত করেন। হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রতিনিয়ত মোবাইল কোর্ট বসিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। অতি অল্পদিনের মধ্যে হাসপাতালটিকে দালালমুক্ত করা হবে বলে তিনি সকলকে আশ^স্ত করেন। এছাড়া অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাসপাতালেল উদ্ধΠমুখী সম্প্রসারণের কাজ শুরু হবে। এতে হাসপাতালে গাইনী ও পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে যে বেডের সমস্যা রয়েছে তা আর থাকবে না। ইতিমধ্যে হাসপাতালে একটি নতুন এ্যাম্বুলেন্স আনা হয়েছে, আরো একটি নতুন এ্যাম্বুলেন্স সত্ত্বর আনার চেষ্টা চলছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: আবুল কালাম আজাদ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সনাক সভাপতি অধ্যাপক সুকুমার দাস, সনাক সদস্য প্রফেসর ড. মুস্তাফিজুর রহমান, আব্দুল মালেক, হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. হিমাদ্রি শেখর সরকার, সহযোগী অধ্যাপক ডা: এ. এইচ. এম. আব্দুর রউফ, সহযোগী অধ্যাপক ডা: ইলা মন্ডল, কার্ডিওলজি কনসালটেন্ট ডা: মো: তৌহিদুল ইসলাম, উপ-সেবা তত্ত্বাবধায়ক মোসা: ফেরদৌসী বেগম প্রমুখ।
সভায় হাসপাতালের শুদ্ধাচার ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ও অগ্রগতি মাল্টিমিডিয়ায় উপস্থাপন করেন টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার এ. এইচ. এম. আনিসুজ্জামান। ইয়েস গ্রুপের ভ্রাম্যমান তথ্য ও পরামর্শ ডেস্ক কার্যক্রমে উঠে আসা পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন সনাক’র স্বাস্থ্য বিষয়ক উপ-কমিটির আহবায়ক এ্যাড: মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী টুলু। এতে যেসকল বিষয় উঠে আসে তা হলো- হাসপাতালের পরিবেশ পূর্বের তুলনায় বেশ উন্নত হয়েছে; কিছু কিছু ডাক্তার ও নার্সের সেবা প্রদানের মানসিকতায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে; ডিজিটাল এক্স-রে বিভাগ চালু হওয়ায় রোগীরা বেশ সন্তুষ্ট; কোন কোন ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ডবয় ও আয়ার ব্যবহারে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন রোগী ও রোগীর স্বজনেরা; ড্রেসিং করাতে টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে ভালভাবে ড্রেসিং করে না; রোগীদের বেডে ছারপোকা ও বেডের পাশের ডেস্কে তেলাপোকার উপদ্রব; কোন কোন ডাক্তার রোগীদের প্রেসক্রিপ্সনে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কোম্পানীর ঔষধের নাম লেখেন; দাঁতের এক্স-রে করাতে নির্দিষ্ট একটি ক্লিনিকের নাম বলা হয়। তার বাইরে হতে করালে সেটা গ্রহণ করা হয় না এবং রোগীর সাথে দুর্ব্যবহার করা হয়; রোগীদের খাবার বিতরণের ক্ষেত্রে খুবই সামন্য সময় নিয়ে বিতরণ করা হয়, খাবার বিতরণকারী লোকদের ব্যবহার অত্যন্ত খারাপ; ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের হাসপাতালে প্রবেশের নিধΠারিত দিন ও সময় সংক্রান্ত নির্দেশনা হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে টাঙানো থাকা সত্ত্বেও সেটা তারা মানছেন না; হাসপাতালে দালালদের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য; আউটডোর চিকিৎসকদের সহকারীদের আচরণে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন অনেক রোগী; ইনডোরের টয়লেটগুলো অত্যন্ত নোংরা।
হাসপাতালের সমস্যা সমাধানে যেসকল সুপারিশমালা তুলে ধরা হয় তা হলো- অপারেশনের সিডিউলের পরিমান বাড়ানো; হাসপাতালে স্থাপিত ডিজিটাল এক্স-রে বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো; আউটডোরের চিকিৎসদের আরো একটু বেশি সময় নিয়ে রোগী দেখা; হাসপাতালের দর্শনার্থীদের ভিড় কমানোর জন্য ভিজিটিং কার্ড সিস্টেম চালু করা; হাসপাতালের ফার্মেসীর সামনে দৈনন্দিন ঔষধের তালিকা টাঙানো; নার্স, ওয়ার্ডবয় ও ক্লিনাররা যেন রোগী ও রোগীর স্বজদের সাথে খারাপ ব্যবহার না করেন সেটি নিশ্চিত করা; হাসপাতালে নির্ধারিত ফির বাইরে কেউ যেন টাকা দাবি না করেন সেটি নিশ্চিত করা; রোগীদের বেডে ছারপোকা এবং বেডের পাশে ডেস্কের তেলাপোকার উপদ্রব বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া; দাঁতের এক্স-রে করানোর ক্ষেত্রে যেন কোন ক্লিনিকের নাম নির্দিষ্ট না করা হয় সেটি নিশ্চিত করা; রোগীদের খাবার বিতরণের ক্ষেত্রে যেন সময় নিয়ে খাবার বিতরণ করা হয় সেটি নিশ্চিত করা, তারা যাতে রোগী ও রোগীর স্বজনদের সাথে খারাপ ব্যবহার না করেন সেটি দেখা; ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের হাসপাতাল ভিজিটের নির্ধারিত দিন ও সময় মেনে যাতে তারা হাসপাতালে প্রবেশ করেন তা পুনরায় নিশ্চিত করা; ডাক্তারদের রুমে যাতে রোগীর সাথে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধি না থাকে তা নিশ্চিত করা; হাসপাতালে দালালদের উপস্থিতি বন্ধে নিয়মিতভাবে ব্যবস্থা নেয়া; ডাক্তারদের সহকারীরা যাতে রোগী ও রোগীর স্বজনদের সাথে ভাল আচরণ করেন সেটা নিশ্চিত করা; ইনডোরের টয়লেটগুলো যাতে নিয়মিত পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয় সেটি নিশ্চিত করা এবং হাসপাতালে একটি ডেন্টাল এক্স-রে বিভাগ চালু করা। কতৃΠপক্ষ সনাক’র সুপারিশমালা বাস্তবায়নে যথাযথ উদ্যোগ নেবেন বলে সকলকে আশ^স্ত করেন।