লোহাগড়ার সেই ‘মা ক্লিনিক’ সিলগালা

65

নড়াইল কণ্ঠ ঃ নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষীপাশায় ‘মা সার্জিক্যাল ক্লিনিক’ মালিককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানাসহ সকল কার্যক্রম বন্ধ করে সিলগালা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (৬ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুকুল কুমার মৈত্র এ আদেশ দেন।
তিনি বলেন, মা সার্জিক্যাল ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ লাইসেন্স শর্ত ভঙ্গ করেছে। তাই আইনানুযায়ী এ ক্লিনিককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অব্যস্থাপনার কারণে ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়েছে। এখানে একজন রোগি ভর্তি আছেন, তিনি তিনদিনের মধ্যে রিলিজ হওয়ার পর থেকে মা ক্লিনিকের সার্বিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এছাড়া ক্লিনিক মালিক নিজে উপস্থিত থেকে অঙ্গীকার করেছেন, তিনি ক্লিনিকটি আর পরিচালনা করবেন না।
গত শুক্রবার (৫ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে প্রসব বেদনা নিয়ে মা ক্লিনিকে আসেন লোহাগড়ার করগাতী গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী কামাল শেখের স্ত্রী বিলকিস বেগম (২৫)। ক্লিনিকের চিকিৎসক তাজরুল ইসলাম তাজ প্রসব বেদনার জন্য বিলকিসকে ইনজেকশন দেয়ার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। দুপুরে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নড়াইল সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বিলকিসের স্বামী কামালসহ তার পরিবারের সদস্যরা জানান, সদর হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তারা অভিযোগ করেন, হাসপাতালে আনার আগেই ক্লিনিকে বিলকিসের মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ বিলকিসকে ভুল চিকিৎসা দেয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। এরপর সদর হাসপাতাল থেকে বিলকিসের লাশ মা ক্লিনিকের সামনে এনে বিক্ষোভ করেন তার স্বজনসহ স্থানীয়রা। এদিকে, এর আগেই ক্লিনিক থেকে পালিয়ে যান মালিক শেখ জাহাঙ্গীর আলমসহ দুই চিকিৎসক। বিলকিসের পাঁচ বছরের একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।
এ ব্যাপারে লোহাগড়া থানার ওসি মোকাররম হোসেন জানান, প্রসব বেদনায় ইনজেকশন দেয়ার পরই বিলকিস অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে তার স্বজনরা জানিয়েছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে নেয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে, এমনটি জানিয়েছেন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক। ডাক্তার সুব্রত ও তাজ বিলকিসকে সিজার করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। এখানে কোনো নার্স ছিল না। তার পরিবর্তে আয়া কাজ করছিলেন। বিলকিসের মৃত্যুর পর ওই দুই চিকিৎসকসহ ক্লিনিক মালিক পালিয়ে যান।