নড়াইলের এসপিকে ঘুষ দেয়ার চেষ্টায় মামলা, দুদক তদন্ত করবে

66

নড়াইল কণ্ঠ : ব্রাজিলের জার্সির ভেতরে ভাতিজাকে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকুরি পাইয়ে দেয়ার জন্য অভিনব কায়দায় ঘুষ দেয়ার চেষ্টায় মামলা দায়ের হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এসআই সেলিম রেজা বাদি হয়ে গত শুক্রবার (২৮ জুন) সদর থানায় এ মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় নড়াইল সদরের তুলারামপুর ইউনিয়নের চাঁচড়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে নূরুল ইসলাম (৫৫) নামে মামলা করা হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) রাতে পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে নূরুল ইসলামকে আটক করা হয়।

নড়াইল সদর থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন পিপিএম জানান, মামলাটির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র শুক্রবার বিকেলেই দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত যশোর কার্যলয়ের উপ-পরিচালকের বরাবর পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি দুদকের তফসিলভুক্ত হওয়ায় তারা এ মামলা তদন্ত করবেন। এ ব্যাপারে দুদক যশোর অঞ্চলের উপ-পরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাত বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির কারণে মামলার কাগজপত্র এখনো হাতে পাইনি। অফিসে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা যায়, ভাতিজা দিপু হোসেনকে পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগের জন্য নড়াইলের পুলিশ সুপারকে জার্সির মধ্যে অভিনব কায়দায় ঘুষ দেয়ার চেষ্টা করেন চাচা নূরুল ইসলাম। নূরুল ইসলাম তার ভাজিতার জন্য জার্সির মধ্যে অভিনব কায়দায় ৭ লাখ টাকা ঘুষ দেয়ার চেষ্টা করে। নূরুলকে আটকের পর গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়।

পুলিশ সুপার জানান, নূরুল ইসলাম মাঝে মধ্যে অফিসে এসে আমার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। এরই মধ্যে সপ্তাহখানেক আগে আমাকে অফিসে না পেয়ে নূরুল ইসলাম ফোনে জানান, স্যার আপনি ফুটবল প্রিয় হওয়ায় আপনার জন্য হলুদ রঙের জার্সি নিয়ে এসেছি।

নূরুল ইসলামের এ কথা শুনে তাকে বলি, আপনার জার্সি দেয়ার প্রয়োজন নেই। তবুও জার্সি নেয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করেন নূরুল। একপর্যায়ে অফিসে জার্সি রেখে যেতে বলা হয়। পরে জার্সির ওই প্যাকেটটি পুলিশ সুপারের বাসভবনে পাঠিয়ে দেন অফিসের কর্মচারীরা।

এ দিকে এসআই নিয়োগের জন্য খুলনা রেঞ্জ অফিসে ব্যস্ততা থাকায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন গত এক সপ্তাহেও ওই জার্সির প্যাকেটটি খুলে দেখেননি বলে জানান। পরবর্তীতে গত বৃহস্পতিবার সকালে জার্সির প্যাকেটটি খোলেন পুলিশ সুপারের স্ত্রী। প্যাকেটটি খোলার পর পুলিশ সুপার ও তার স্ত্রী হতবাক হয়ে যান। দেখতে পানÑ ওই প্যাকেটের মধ্যে হলুদ রঙের জার্সি, একটি ডায়েরি, পুলিশ কনস্টবল নিয়োগের জন্য দিপু হোসেনের জীবনবৃত্তান্ত এবং টেপ দিয়ে মোড়ানো আরেকটি কাগজের প্যাকেটে রয়েছে ৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে এক হাজার টাকার ব্যান্ডেল পাঁচটি ও ৫০০ টাকার ব্যান্ডেল রয়েছে চারটি। জার্সির প্যাকেটে এই অবস্থা দেখে নূরুল ইসলামকে চিহ্নিত করে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে তাকে আটক করা হয়। এ ছাড়া তার কাছ থেকে ব্যাংকের একটি চেকও উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত নূরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, জার্সির প্যাকেটের মধ্যে আমার ভাইয়ের ব্যবসার টাকা ভুলে রেখেছি। তবে কনস্টেবল নিয়োগের জন্য ভাতিজার জীবনবৃত্তান্ত প্যাকেটের মধ্যে কেন রেখেছেন সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে তিনি এলোমেলো উত্তর দেন। এ দিকে গতকাল শনিবার সকাল থেকে নড়াইলে কনস্টেবল পদে নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ জন্য কোনো প্রকার টাকা বা ঘুষের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দালালদের খপ্পর থেকে প্রার্থীদের রক্ষা পেতে ইতোমধ্যে জেলায় মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করেছে জেলা পুলিশ।