চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় গর্ভের সন্তানের মৃত্যুর অভিযোগ

0
137

নড়াইল কণ্ঠ : চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় নড়াইলে মুসলিমা বেগম নামের এক গর্ভবর্তী মায়ের ৭ মাসের সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। ভূক্তভোগী মা বর্তমানে নড়াইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা.মো. ইয়ানুর রহমান নড়াইল সদরের গোবরা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) হিসেবে কর্মরত। তিনি নড়াইল সদর হাসপাতালের সামনে একাধিক প্রাইভেট চেম্বারে চিকিৎসা প্রদান করে থাকেন।

মুসলিমা বেগমের স্বামী মোহাম্মদ তুহিন ঢাকাতে একটি বেসরকারী অফিসের ড্রাইভার হিসেবে কর্মরত। তাদের বাড়ি নড়াইল সদরের বাগবাড়ি রঘুনাথপুর গ্রামে।

অভিযোগ, গত ৮ জুন গর্ভবতী মুসলিমা বেগম তার মায়ের সাথে নড়াইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসলে দালালের খপ্পরে পড়ে সদর হাসপাতালের সামনে ‘টাউন মেডিকেলে ডা. ইয়ানুর রহমানের চেম্বারে আসেন। সেখানে তাঁকে পরীক্ষা করে ঐ চিকিৎসক কতগুলো টেস্টসহ প্রেসপ্রিকশন দেন। এর কয়েকদিন পরে গর্ভবতীর ভিতরে শিশুর নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যায়। অবস্থা খারাপ দেখে গত ২২ জুন গর্ভবতী নারীকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৬ জুন আল্ট্রাসোনো রিপোর্টে দেখা যায় ভিতরের শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।

নড়াইল সদর হাসপাতালের গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা.মিনা হুমায়ুন কবীর জানান, ঐ চিকিৎসক যে ঔষুধ লিখেছেন তার মধ্যে একটি ঔষুধে পেটের ভিতরের পানি বের করে দেয়। শিশুর বেঁচে থাকার জরুরী ফ্লুইড প্রশ্রাবের সাথে বের হয়ে পানিশূন্য হবার ফলে শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।

গর্ভবতীর স্বামী মোহাম্মদ তুহিন জানায়, ডাক্তার নামধারী ঐ ইয়ানুর রহমান যে ঔষুধ লিখেছে তার মধ্যে ফ্রুলার নামের একটি উল্টো ঔষুধ দেয়ায় আমার নবজাত সন্তান মারা গেছে, আমি ডাক্তারের বিচার চাই। যারা প্রকৃত চিকিৎসক নন তারা কিভাবে চেম্বার খুলে রোগীর চিকিৎসা দেন এর বিচার চাই।

এ ব্যাপারে নড়াইল জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো: আসাদ-উজ-জামান মুন্সী জানান, ঐ স্যাকমো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। গাইনী রোগীর চিকিৎসা দেবার তার কোন এখতিয়ার নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের লোকেরা সুবিচারের আশায় বিভিন্ন স্থানে ধর্না দিয়ে আদালতে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মো: ইয়ানুর রহমান (০১৭২৮৩৩৯৯৬৫) কে একাধিকবার ফোন দিয়ে ও সাড়া পাওয়া যায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here