নড়াইলে জাল সনদে এমপিওভুক্তির আবেদন

76

নড়াইল কণ্ঠ : জাল সনদ জমা দিয়ে বেতন-ভাতা করতে এমপিওভুক্তির আবেদন করেছেন এক শিক্ষক। এ বিষয়ে ওই শিক্ষকের সাবেক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগের শুনানি হয় গত মঙ্গলবার (২৫ জুন) বিকেলে। সেখানে সনদ জালিয়াতির কথা লিখিতভাবে স্বীকার করেছেন ওই শিক্ষক।

এ ঘটনাটি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের। ওই বিদ্যালয়ে সদ্য যোগদান করা সহকারি প্রধান শিক্ষক শিপ্রারানী বিশ্বাস এই সনদ জালিয়াতি করেছেন। লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, এ উপজেলার লাহুড়িয়া হাজী মোফাজ্জেল স্মরণী মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের হিন্দু ধর্মের সহকারী শিক্ষক ছিলেন শিপ্রারানী বিশ্বাস।

গত ২৮ এপ্রিল তিনি মল্লিকপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ওই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে ইংরেজিতে পারদর্শী প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। তাই বেতন-ভাতার সুবিধার জন্য শিপ্রারানী বিশ্বাস সাবেক বিদ্যালয়ের ছাড়পত্র, অভিজ্ঞতা সনদ ও পেশাগত সনদ নিজে তৈরি করেন।

হাজী মোফাজ্জেল স্মরণী মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক মো. মহিদুর রহমান বলেন, ‘ওই শিক্ষক আমার বিদ্যালয়ের প্যাড ও সিল তৈরি করেছেন। আমার স্বাক্ষর জাল করে ছাড়পত্র, অভিজ্ঞতা সনদ ও পেশাগত সনদ নিজে তৈরি করেন। এমপিওভুক্তির জন্য এগুলো গত ৯ জুন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে অনলাইনে পাঠান। শিক্ষা অফিসার তা গত ১৫ জুন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে অনলাইনে পাঠান। জানতে পেরে আমি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করি।’

এ বিষয়ে ওই শিক্ষক গত বুধবার (২৬ জুন) বিকেলে জাল সনদ তৈরির কথা মুঠোফোনে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘হিন্দু ধমর্’ শব্দটি সনদ থেকে বাদ দিতে এমপিওভুক্তির সুবিধার জন্য এটি করেছিলাম। এ বিষয়ে মঙ্গলবার জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে স্বীকার করে লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছি।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস এম ছায়েদুর রহমান বুধবার বিকেলে বলেন, ‘জাল কাগজপত্র দিয়েতো বেতন করে দিব না। তাঁর সাবেক প্রধান শিক্ষক এসব সনদ দিলে তারপর এমপিওভুক্তির জন্য সুপারিশ করা হবে। তবে ওই সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এখন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছি না।’