চিকিৎসকের অবহেলায় নড়াইলে ১২’শ হাঁসের মৃত্যু, অভিযোগ খামারি বেকার পাঁচবন্ধুর

0
317

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইল জেলা শহরের মহিষখোলা-আলাদাতপুর এলাকার পাঁচজন বেকার বন্ধু মিলে হাঁসের খামার গড়ে তুলে বেকারত্ব ঘুচিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। খামারের দুই হাজার হাঁসের মধ্যে এক হাজার দুইশত হাঁসের হঠাৎ মৃত্যুতে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দু:স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে মা বাবার কাছ থেকে ধার নেওয়া ও ঋণ নিয়ে গড়ে তোলা খামারের হঠাৎ হাঁসের মৃত্যুতে লোকসানের ঘাঁনি কিভাবে টানবেন তা নিয়েও এই পাঁচ বেকার বন্ধু রীতিমতো দু:শ্চিন্তায় পড়েছেন। ভূক্তভোগীরা অভিযোগ করছেন, জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার জন্য খামারে কয়েকদিন ধরে হাঁসের মৃত্যু হয়েছে।

জানাগেছে, নড়াইল পৌরসভার আলাদাতপুর এলাকার গোলাম মোস্তফা (২৫) চারবছর ধরে ওমানে ছিলেন। বাড়ি আসার পর তিনি বেকার হয়ে পড়েন। তিনি তার বাল্য বন্ধুদের সাথে বেকারত্ব ঘোচাতে আলোচনা শুরু করেন।

মোস্তফাসহ তার অপর চার বেকার বন্ধুরা হলেন মঞ্জুরুল হক, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, ইমরান শেখ, মিন্টু শেখ মিলে আলোচনায় বসেন বেকারত্ব ঘোচানোর নতুন মিশন নিয়ে। সবাই মিলে সিন্ধান্ত নেন বড় আকারে একটি হাসের খামার গড়ে তুলবেন। সেই মোতাবেক মোস্তফার পতিত জমিতে হাসের খামারের কাজ শুরু করেন।

বন্ধু মঞ্জুরুল হক, শফিকুল ইসলাম সেন্টু বলেন, ‘আমরা পাঁচ বন্ধু মিলে খামারের নাম দিয়েছি। ‘ফ্রেন্ডস ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশন’। হাঁসের খামারে সফলতার হলে আরো বেশ কিছু কর্মকান্ড করার স্বপ্ন নিয়েই আমরা কাজ শুরু করি।


হাঁসের খামার পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়ার পর গত ৬ মে নেত্রকোনা জেলা হতে দুই হাজার হাঁসের বাচ্চা আনা হয়। যথারীতি হাঁসের বাচ্চার যত্ন ও খাওয়ানোর পর বেশ বড় হয়ে ওঠে। বাচ্চার বয়স ২৬দিন হওয়ার পর ২/১টি বাচ্চা অসুস্থ্য দেখা দিলে জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মারুফ হোসেনের নিকট যাই। তিনি একটি অসুস্থ্য বাচ্চা পোষ্টমর্টেম করে ওষুধ লিখে প্রেসক্রিপশন করে দেন। সেই মোতাবেক ওষুধ খাওয়ানোর পর পুরো খামার জুড়ে মড়ক শুরু হয়। হাঁসগুলি মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে আসতে আসতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে লাগলো। পুনরায় ডাক্তার সাহেবের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ওষুধ পাল্টিয়ে দেন। পরের ওষুধ খাওয়ানোর পর কিছু হাঁস সুস্থ্য হতে লাগলো।


হাঁস খামারী ইমরান শেখ ও মিন্টু অভিযোগ করে বলেন, ‘চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার জন্য খামারের এক হাজার দুইশত হাস মারা গেছে। এ ঘটনার পর ওই চিকিৎসককে ফোন দিলে আর ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি আমাদের খামার হতে জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের দুরত্ব মাত্র এক/দেড় কিলোমিটার হলেও তিনি কখনোই আমাদের খামার দেখতে আসেননি। আমাদের এতো বড় ক্ষতিতে এখন যেন আকাশ ভেঙ্গে মাথার ওপর পড়েছে। আমরা বেকাররা স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য খামার গড়ে তুললেও প্রাণি সম্পদ বিভাগের কেউ কোন খোঁজখবর নেয়নি। আমাদের অন্তত ৫ লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়ে গেছে। এই ক্ষতির জন্য জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তাই দায়ি।’

এ ব্যাপারে জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মারুফ হোসেন দাবি করেন, নতুন খামার গড়ে তুললেও তাদের প্রশিক্ষণের অভাব থাকায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আমার কাছে আসার পর একটি হাস ময়নাতদন্ত করে ওষুধ দেওয়া হয়। পরে মোবাইলের মাধ্যমে ওষুধ পাল্টিয়ে দেই। এরপর ছুটিতে বাড়িতে চলে যাই। বাড়িতে থাকার কারনে ফোন হয়তো ধরা সম্ভব হয়নি। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে আসলেও ওই খামারের কেউ আর যোগাযোগ করেনি।’

নড়াইল পৌসভার ৩নং ওয়ার্ডের (মহিষখোলালা) কাউন্সিলর কাজী জহিরুল হক বলেন, ‘৫ বেকার যুবক হাঁসের খামারটি করায় আমার পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা করেছি। মাঝে মধ্যে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। কিন্তু হাঁসের মড়ক লাগলে প্রাণি সম্পদ বিভাগের চিকিৎসকদের দায়িত্বহীনতার কারনে প্রায় দেড় হাজার হাঁস মারা গেছে। আমি মনে করি এ জন্য চিকিৎসকের শাস্তি হওয়া উচিৎ। কেননা আমাদের জনগণের টাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন হয়। জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মারুফ হোসেন সব সময় এসি রুমে বসে থাকেন। তিনি কাজেকর্মে আন্তরিক নন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নজর দিবে বলে আমি আশা করি।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here