নড়াইলে অটিস্টিক প্রতিবন্ধী স্কুল গড়ে তোলার উদ্যোগ

0
88

নড়াইল কণ্ঠ : বিছালী কালিনগর এলাকার প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোরদের জন্য ‘অটিস্টিক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুল’ গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ এলাকার প্রতিবন্ধী শিশু কিশোরদের মানসিক বিকাশে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শ ও সহায়তা নিয়ে গড়ে উঠেছে ‘বিছালী-কালিনগর অটিস্টিক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়’। কেউ কথা বলতে পারে না, কেউ বলে তোতলিয়ে, কেউবা হাঁটতে পারে না, আসে মা বাবার কোলে চড়ে। এমন অটিজম, বাক প্রতিবন্ধী, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে নড়াইল সদর উপজেলার ‘বিছালী-কালিনগর অটিস্টিক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়’।

২০১৮ সালে ৪৯ জন অটিস্টিক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে এ স্কুলটি পরিচালিত হয়ে আসছে। বিদ্যালয়টি নড়াইল সদর উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের কালিনগর গ্রামে .২০(বিশ) শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। বিদ্যালয়টির ঘর নির্মাণের জন্য .২০ (বিশ) শতক জমি দান করেছেন ওই গ্রামের দাউদ ফরাজি নামের একব্যক্তি। এ স্কুলে নিয়মিত ৮জন অবৈতনিক শিক্ষক ৪৯ জন অটিস্টিক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুদের পাঠদান করে যাচ্ছেন। নিয়মিত উপস্থিত হয় ৩০-৩৫ জন শিশু।


স্কুলটির পরিচালক তরুণ সমাজ সেবক, শিক্ষানুরাগী আকরাম ফরাজি ও তার সহযোগী হিসেবে শফিয়ার মোল্যা (বর্ণি, অভয়নগর) ও আজিজুর রহমান (কালিনগর) প্রতিবন্ধীদের প্রতি নিষ্ঠাবান থেকে এটি পরিচালনা করছেন। তিনি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশু ও কিশোরদের দেখাশোনা করেন পাশাপাশি তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্যে অটিজম ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের সার্বিক দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছেন।

নড়াইল সদর উপজেলার কালিনগর গ্রামে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই ধরনের একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। জানা গেছে, প্রত্যন্ত এলাকায় গড়ে ওঠা এই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুলটি নিয়ে স্বপ্ন আছে অনেক। এই স্কুলটির মাধ্যমে বুদ্ধি প্রতিবন্ধীরাও মেধা সম্পন্ন এবং সমাজে তাদের একটা অধিকার আছে এটাই প্রতিষ্ঠা করতে চান তারা। তারা সরকারি সহায়তা কামনা করে বলেন, সরকার অটিস্টিক শিশু কিশোরদের মেধা বিকাশে তৎপর রয়েছেন।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি আকরাম ফারাজি জানান, আমরা নিজেদের উদ্যোগে ও তহবিল হতে বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ কিনে ৪৯ জন বাক প্রতিবন্ধী, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছি। আমরা সরকারি কোন সহযোগিতা পাইনি। সরকারি সহযোগিতা পেলে বিদ্যালয়টি পরিচালনা করতে আমাদের জন্য আরো সহজ হতো।

অভিভাবাকগণ জানান, আমাদের প্রতিবন্ধী শিশুদের লেখাপড়ার জন্য এ এলাকায় অন্য কোন প্রতিষ্ঠান নেই। প্রতিবন্ধী শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াতে এই স্কুলগুলো বিশেষ ভূমিকা রাখছে। তবে এখানে নেই পাকা ভবন, নেই বিদ্যালয়ে আসার মানসম্মত রাস্তা, শিক্ষা উপকরণ ও আসবাবপত্র। যথেষ্ট অভাবের মধ্য দিয়েও চলছে স্কুলটি। স্থানীয় জনগণের অভিমত, অটিজম শিশুদের মনন ও মেধা বিকাশের এই উদ্যোগ অনন্য। তাদের এই কঠিন তপস্যা খুব শীঘ্রই আশা এবং প্রত্যাশা ব্যাঞ্জক হয়ে উঠবে। স্থানীয়রা এই আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, নড়াইলের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উল্লেখিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে অটিস্টিক শিশুদের মনোবল বৃদ্ধিতে লেখাপড়া, খেলাধূলা এবং সংস্কৃতির মাধ্যমে যেভাবে তাদের অবস্থান থেকে এই কঠিন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তা শতভাগ সামাজিক এবং সামাজিকতার উন্নত বহি:প্রকাশ।

প্রজাতন্ত্রের সরকার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজন উল্লেখিত ব্যক্তি ও জমি দাতাদের মাঝে প্রাণের স্পন্দন জাগিয়ে তোলা, তবেই স্বার্থক হবে প্রতিবন্ধী তথা, যার মাধ্যমে অটিস্টিক বুদ্ধি প্রতিবন্ধীরাও যে সমাজের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সেটাই প্রমাণিত হবে।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকেও এ ব্যাপারে মনিটরিং করা প্রয়োজন যে, উল্লেখিত ব্যক্তিরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে প্রশাসনকে সহায়তা করছেন। অবদান রাখছেন দেশ, জাতি ও সমাজকে সমুন্নত করার জন্য।

উল্লেখ্য, সরকারি উদ্যোগের পাশপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বেসরকারিভাবে বিভিন্ন এনজিও বা প্রতিষ্ঠানের উদ্যেগে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিশেষায়িত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এসকল বেসরকারি উদ্যোগকে সরকরিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা ও সহায়তা করার লক্ষ্যে সরকার ‘প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কিত সমন্বিত বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা-২০০৯’ প্রণয়ন করেছে। বর্তমানে এ নীতিমালায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আওতায় সারা দেশে ৫৬টি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের বেসরকারি শিক্ষকদের শতকরা ১০০ ভাগ বেতন সহায়তা প্রদান করছে। এ কার্যক্রমটি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণাধীন জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন বাস্তবায়ন করে থাকে। একল বিদ্যালয়সমূহের মধ্যে রয়েছে সুইড বাংলাদেশ পরিচালিত ৪৮টি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন পরিচালিত ৭টি ইনক্লুসিভ বিদ্যালয় এবং প্রয়াস পরিচালিত একটি অটিস্টিক শিশুদের বিদ্যালয়। এসকল বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতনভাতা প্রদানের মাধ্যমে প্রায় ৯২২৫ জন প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক আক্রান্ত শিশুর শিক্ষার সুবিধা নিশ্চিত হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here