ট্রেন্টব্রিজে সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি

0
45

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক : বাংলাদেশের অধিনায়ক, বর্তমান জাতীয় সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা ক্রিকেটের সঙ্গে সঙ্গে কূটনীতি নীতিটাও ভালোভাবেই রপ্ত করেছেন। তাঁকে ক্রিকেট নিয়ে যখনই কোনো স্পর্শকাতর প্রশ্ন করা হয়- তখন তিনি উত্তর দেন খুব ভেবে-চিন্তে। এতে করে শ্যাম ও কূল দুই রক্ষা পায়। উভয় পক্ষকেই সন্তুষ্ট থাকে না। বিগত দিনের ধারাবাহিকতায় আজও তার ব্যতিক্রম দেখা গেল না।

বুধবার (১৯ জুন) ট্রেন্টব্রিজে সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার সাংবাদিকরা মাশরাফিকে যে প্রশ্নটি ছুঁড়লেন তা ছিল ভীষণ তির্যক। সারমর্ম এমন, এই যে অস্ট্রেলিয়া তোমাদের সিরিজ খেলতে আমন্ত্রণ জানায় না, তোমাদের মাটিতেও খেলতে চায় না। এটা তোমাদের জন্য কতটা অবমাননাকর?

উত্তরটা মাশরাফি হেসে দিলেন ঠিকই, কিন্তু তাতে কিছুটা হতাশার মিশ্রণ ছিল। তবে এটাও বলে রাখলেন, অস্ট্রেলিয়ার কাছে আমাদের প্রমাণের কিছুই নেই। তাছাড়া আগামীকালের ম্যাচে তাদের হারাতে পারলেই যে বাংলাদেশকে নিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ধ্যান-ধারণা বদলে যাবে সেই সম্ভাবনাও তিনি দেখছেন না। সঙ্গত কারণেই বল ঠেলে দিলেন দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের কোর্টে।’

তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমার মনে হয় না কিছু প্রমাণ করতে হবে তাদের বিপক্ষে। এমন বড় দলের বিপক্ষে নিয়মিত খেলতে না পারা, সফরে না যেতে পারা অবশ্যই হতাশার। কারণ অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো জায়গায় খেললে অনেক কিছু শেখা যায়। তবে যা হওয়ার, হয়েছে। আমাদের সেসব ভাবার দরকার নেই।’

‘অস্ট্রেলিয়ায় আমরা টেস্ট খেলেছি অনেক বছর আগে। আমি সেই দলে ছিলাম। এতদিন ধরে একটি দেশে সফরে যেতে না পারা টেস্ট খেলুড়ে দেশের জন্য হতাশার। তবে আমি নিশ্চিত নই যে কালকে জিতলেই সমস্যার সমাধান হবে কিনা। দুই দেশের বোর্ড কথা বললে হয়তো হতে পারে।’ যোগ করেন মাশরাফি।

তিনি আরও বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ সবশেষ কবে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে লড়েছে বোধ করি সহসাই কেউ মনে করতে পারবেন না। অবশ্য পারার কোনো কারণও নেই। কেননা ২০০০ সালের জুনে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর এখন পর্যন্ত মাত্র দুবার দেশটিতে সিরিজ খেলার আমন্ত্রণ পেয়েছে লাল সবুজের দল। এর প্রথমটি ছিল ২০০৩ সালে। আর দ্বিতীয়টি ২০০৮ সালে। ’

স্বাগতিকদের বিপক্ষে ২০০৩ সালে দুই ম্যাচ সিরিজের টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। সেটিও মূল ভেন্যুগুলোর বাইরে; ডারউইন ও কেয়ার্নসে। আর ওয়ানডেতে আমন্ত্রিত হয়েছিল তাও প্রায় এক যুগ হতে চলেছে (২০০৮ সালে)। যে ম্যাচে বর্তমান দলের কেবল মাশরাফিই ছিলেন। হয়ত সে কারণেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সঙ্গে ম্যাচের আগের দিন অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম কর্মীরা বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ দেখালেন।

কিন্তু হাই ভোল্টেজ ম্যাচের ঠিক আগের দিন মাশরাফিকে এমন তির্যক প্রশ্নের কী কারণ থাকতে পারে? নিশ্চয়ই আছে। যদি প্রতিপক্ষকে কিছুটা হলেও চাপা রাখা যায়!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here