ছাত্রদের ওপর হামলা প্রতিবাদে লোহাগড়ায় মানববন্ধন

0
52

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রদেশ কুমার মল্লিককে লাঞ্চিত ও স্কুলশিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পিস্তল প্রদর্শন ও হুমকি দেয়ার প্রতিবাদে এবং আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে লোহাগড়ায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বুধবার (১৯ জুন) উপজেলা পরিষদের সামনে ঘন্টব্যাপি এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকবৃন্দ এর মানববন্ধনের আয়োজন করে।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, মোহসীন উদ্দিন, শেখ সদর উদ্দিন শামীম, মুজাহিদ আদনান, সগির উদ্দিন সনেট, মুন্সি শাহীন আহম্মেদ, নাহিদ সুলতান, শওকত হোসেন স্বপন, ফারুক হোসেন, বিপ্লব হোসেন প্রমুখ।
এ সময় বক্তরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অস্ত্রনিয়ে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানান। আসামীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহনের হুমকিও দেন বক্তরা। এসময় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন বলেন, আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ জুন সকালে শিক্ষক প্রদেশ কুমার মল্লিক তার প্রাইভেট কোচিং এ সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী সানজিনা এরিনা কোচিং এ পরীক্ষা দেয়। খাতা জমা দেয়ার পর খাতায় নাম না লেখার কারনে ওই ছাত্রীকে মারধোর করেন। এ ঘটনা বাড়িতে বললে ওই ছাত্রীর পিতা স্থানীয় ঠিকাদার মঈনুল্লাহ দুলু শিক্ষককে বাড়ি থেকে কলার ধরে টেনে হিচড়ে বের করে নিয়ে আসে এবং শারিরীভাবে লাঞ্চিত করে। এ ঘটনা জানাজানি হলে ছাত্ররা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা শিক্ষককে লাঞ্চিতের ঘটনায় রোববার (১৬ জুন) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ঘেরাও করলে ঠিকাদার দুলুর সমর্থকরা আন্দোলকারী ছাত্রদের উপর হামলা করে পিস্তল নিয়ে। এসময় ছাত্ররা সেখান থেকে এসে বিদ্যালয়ের সামনে সড়ক অবরোধ করে। একঘন্টা সড়ক অবরোধের পর প্রশাসনের হস্থক্ষেপে ছাত্ররা রাস্তা ছেড়ে গেলেও স্কুলের গেটে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
এ ঘটনায় ১৭ জুন নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ভওয়াখালী এলাকার জুলমত খানের ছেলে জাকারিয়া খান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার আসামীরা হলেন, পিস্তল নিয়ে ছাত্রদের উপর হামলাকারী ঠিকাদার রেজাউল আলম ওরফে জার্মান আলম, তার ভাই কামরুল ইসলাম ও তার সহযোগি যোবায়ের হোসে দুখু এবং শিক্ষককে লাঞ্চনাকারী ঠিকার মঈনুল্লাহ দুলু। তবে পুলিশ এখন পর্যন্তু কোন আসামী গ্রেফতার করতে পারেনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here