কোচিং সেন্টারে ছাত্রীর গায়ে হাত, শিক্ষক লাঞ্ছিত, পিস্তল উঁচিয়ে শিক্ষার্থীদের হুমকি প্রদর্শন!

226

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইলে কোচিং সেন্টারে শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীর গায়ে হাত দেয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে অভিভাবক শিক্ষকের ওপর হামলা করেছে এবং শিক্ষকের উপর হামলার প্রতিবাদে ছাত্রদের অবস্থান কর্মসূচিতে পিস্তল উঁচিয়ে শিক্ষার্থীদের হুমকি প্রর্দশন করার ঘটনা ঘটেছে।

রবিবার (১৬ জুন) পৌনে ১০টায় নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রদেশ কুমার মল্লিকে অভিভাবক দ্বারা লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে জেলা প্রশাসকের অফিস চত্বরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে ছাত্রদের ওপর এ ধরনের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্ররা ফিরে গিয়ে নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে নড়াইল-যশোর সড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ রাস্তা থেকে ছাত্রদের স্কুলে ফিরিয়ে নেয়।

এদিকে জানাগেছে, গত শনিবার (১৫ জুন) সকালে নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক প্রদেশ কুমার মল্লিক তার নিজ ভাড়া বাসায় প্রাইভেট কোচিং সেন্টারে নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী সানজিদা এরিনাকে চড় মারে। আহত ওই ছাত্রী বাড়িতে গিয়ে তার বাবার কাছে কেঁদে পড়েন। শিক্ষক কর্তৃক মেয়ের আহত হওয়ার ঘটনা শুনে ওই ছাত্রীর পিতা স্থানীয় ঠিকাদার মঈনউল্লাহ দুলু ক্ষুদ্ধ হয়ে ঐ শিক্ষককের কোচিং সেন্টারে গিয়ে শিক্ষকের ওপর চড়াও হন এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় রবিবার (১৬ জুন) সকালে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ওই ছাত্রীর অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এর কক্ষে মীমাংসার জন্য বসা হয় এবং আলোচনার ভিত্তিতে বিষয়টি মীমাংসাও করা হয়।
এদিকে ওই সময়েই বিদ্যালয়ের ছাত্ররা শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনার বিচারের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়।

এ অবস্থানকালে নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ ইয়ারুল ইসলাম, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিতোষ মজুমদার, শিক্ষক প্রদেশ কুমার মল্লিক ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন এবং বিষয়টি মিমাংসা হয়ে যাওয়ায় সকলকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন।

কিন্তু ছাত্ররা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে না গিয়ে অভিযুক্ত অভিভাবককে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার জন্য দাবি করেন। এক পর্যায়ে অভিভাবক মঈনউল্লাহ দুলুর পক্ষে ঠিকাদার রেজাউল আলমসহ কয়েকজন ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন এবং স্কুলে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করে। কিন্তু অনুরোধ রক্ষা না করায় এবং বহিরাগত কিছু ছেলেরা ওই ছাত্রদের সাথে যোগ দিয়ে নেতৃত্ব দিলে অভিভাবক মঈনউল্লাহ দুলুর পক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে ছাত্রদের ওপর চড়াও হয়ে তাদের হুমকি ধামকি দিয়ে ছাত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়।

এ সময় ঠিকাদার রেজাউল আলম শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ করতে তার কাছে থাকা লাইসেন্সকৃত পিস্তল দিয়ে ভয়ভিতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে মঙ্গনউল্লাহ দুলু বলেন, বর্তমানে ছাত্রছাত্রীদের গায়ে হাত তোলার কোন নিয়ম নেই। ওই শিক্ষক প্রাইভেট কোচিং সেন্টারে অনেক ছাত্রছাত্রীর মাঝে আমার মেয়ের গায়ে হাত তুলেছে। আমার মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে এসে জানালে তখন রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে ওই শিক্ষককে ধরে নিয়ে থানায় দেয়ার চেষ্টা করি। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি মিমাংসা করে দেন। তবে ওই শিক্ষককে মারধর করা হয়নি। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে ছাত্রদের ওপর অস্ত্র বের করার বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন।

শিক্ষক প্রদেশ মল্লিক জানান, শনিবার সকালে তার ভাড়ার বাসায় শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানোর সময় সাপ্তাহিক পরীক্ষা নেয়ার সময় ঠিকাদার মো: মইনউল্লা দুলুর মেয়ে সানজিনা এরিনা খাতায় নাম না লিখে জমা দেয়, খাতায় নাম লেখোনি কেন,এ প্রশ্ন করলে সে খাতা আমার সামনে ছুড়ে ফেলে দেয় এবং বাড়ী থেকে তার বাবাকে ডেকে নিয়ে আসে। তিনি এসে আমার সাথে শিক্ষার্থীদের সামনে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায়। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সাথে বসে এ প্রীতিকর ঘটনার সমাধান হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা জানান, দুপক্ষকে ডেকে বিষয়টি মিমাংসা করা হয়েছে বলে জানান। এছাড়া ওই সময়ে ব্যবহৃত ঠিকাদার রেজাউল আলমের লাইসেন্সকৃত পিস্তলটি সদর থানায় জমা রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।