আমানতের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চলন্তিকা’র চার কর্মকর্তা গ্রেফতার

143

নড়াইল কণ্ঠ : ‘চলন্তিকা যুব সোসাইটি’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থার আমানতের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৪জন কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়েছেন। গত সোমবার (১০ জুন) দুপুরে খুলনা শহর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে সিআইডি পুলিশ।

এ ঘটনায় গত সোমবার রাতে সিআইডির উপ-পুলিশ পরিদর্শক অলক চন্দ্র হালদার বাদী হয়ে সংস্থাটির ১৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে নড়াইলের কালিয়া থানায় মামলা করেছেন। গ্রাহকের জমা করা ৩১ কোটি ৫৯ লাখ ৫৭ হাজার ৭৪০ টাকা আমানত আত্মসাতের অভিযোগে এ মামলা হয়। মামলায় সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো: খবিরুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক মো: সারোয়ার হুসাইন ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো: মিজানুর রহমান মিল্টনসহ প্রধান কার্যালয়ের ১১ জন ও শাখা কার্যালয়ের ৪জন কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে।

যারা হয়েছেন তারা হলেন, খুলনা থেকে প্রকাশিত একটি আঞ্চলিক পত্রিকার সম্পাদক সাংবাদিক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান মিল্টন (৪৩), বড়দিয়া শাখার এজিএম সজল দাস (২৮) ও ডিএম প্রনব দাস (৩২) এবং কালিয়া শাখার জিএম মিলন দাস (৫০)।

পুলিশ জানান, সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় ছিল খুলনার সিটির সোনাডাঙ্গায়। ২০০৪ সালে খুলনা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে ৯টি কার্যালয় চালু করে এই সংস্থাটি। সংস্থাটি এসব শাখা থেকে দ্বিগুণ ও তিনগুণ মুনাফার লোভ দিখিয়ে ডিপিএস ও এফডিআর এর নামে কয়েক হাজার গ্রাহক থেকে আমানত গ্রহণ করে এবং নানা অজুহাতে লভ্যাংশ প্রদানে গড়িমসি করে। পরে আমানতও ফেরত দেয় না। এরপর হঠাৎ ২০১৮ সালের মার্চ মাসের শেষ দিকে কালিয়া কার্যালয় বন্ধ করে কর্মকর্তারা হারিয়ে যায়। ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা কালিয়া শাখার সামনে বিক্ষোভ করেন। কয়েকজন গ্রাহক কালিয়া থানায় মামলাও করেন। এরপর অন্যান্য শাখাও বন্ধ করে কর্মকর্তারা পালিয়ে যায়। কালিয়া থানায় গ্রাহকের মামলার ভিত্তিতে সিআইডি তদন্ত শুরু করে।

সিআইডির উপপুলিশ পরিদর্শক অলক চন্দ্র হালদার বলেন, কুচক্রী মহল পূর্ব পরিকল্পিতভাবে প্রতারণার উদ্দেশ্যে এই এনজিও খুলে এসব টাকা আত্মসাৎ করেছে। আসামিদের নড়াইল আদালতের মাধ্যমে গতকাল মঙ্গলবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন চাওয়া হয়েছে। আজ বুধবার রিমান্ড আবেদনের শুনানি হবে। সিআইডি মামলাটি তদন্ত করবে।