পাসপোর্ট ছাড়া ইমিগ্রেশন, পুলিশের এসআই সাময়িক বরখাস্ত

0
52

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রীকে আনতে যাওয়া বিমানের পাইলট ফজল মাহমুদ চৌধুরীর পাসপোর্ট না দেখে কাতারে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার ঘটনায় ইমিগ্রেশন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
অসচেতনতা ও দায়িত্ব অবহেলার কারণে শনিবার তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেয়া হয় বলে জানান হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার ইসমাইল হোসেন।
ইমিগ্রেশন পুলিশের কর্মকর্তা বলেন, ‘পাইলট ফজল মাহমুদের কাছে আমাদের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা পাসপোর্ট দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পাইলট বলেছিলেন, পাসপোর্ট তার ব্যাগে রয়েছে। যেহেতু পাইলট সবসময় যাওয়া-আসা করেন, তিনি সিনিয়র পাইলট, তাই তার কথায় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে বিশ্বাস করেছিল।’
ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘বিমানের জেনারেল ডিক্লারেশন (জিডি-ক্রু আইডি) দেখে পাইলটদের ইমিগ্রেশন করা হয়। এ সময় প্রমাণ হিসেবে পাসপোর্ট দেখা হয়। এখানে দুজনেরই সমান দায় রয়েছে। তাই ইমিগ্রেশনের দায়িত্বে থাকা এসআই কামরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’
গত ৫ জুন রাতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট নিয়ে কাতারের উদ্দেশে রওনা করেন ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ চৌধুরী। কিন্তু দোহার হামাদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে ফ্লাইট অবতরণের পর নিজের পাসপোর্ট খুঁজে পাননি ফজল মাহমুদ। তার দাবি, ভুল করে অন্য একটি ব্যাগে থাকা পাসপোর্টটি দেশে রেখে এসেছিলেন। পরে দেশ থেকে পাসপোর্ট পাঠানোর পর কাতারে ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম সম্পন্ন করেন তিনি। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় যে, কাতার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ফজল মাহমুদকে আটক করেছে। তবে বিমানের পক্ষ থেকে তাকে আটক করা হয়নি উল্লেখ করে গতকাল শুক্রবার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
তবে পাসপোর্ট না থাকায় কাতার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি ‘আটক’ হয়েছেন উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে গতকাল একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও পৃথক আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পাইলটের ভুলের কারণেই এটা হয়েছে। তবে পাইলটের জন্য এই ভুলটি করা উচিত হয়নি বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here