আজ চাঁদ দেখা গেলে বুধবার ঈদ

0
29

নড়াইল কণ্ঠ : আজ মঙ্গলবার (৪ জুন) চাঁদ দেখা গেলে বুধবার (৫ জুন) পবিত্র ঈদুল ফিতর। আর না দেখা গেলে বাড়বে এক দিন রোজা, ঈদ হবে পরদিন বৃহস্পতিবার (৬ জুন)।

ঈদের দেশে চাঁদ দেখার তথ্য পর্যালোচনা করতে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে (বাদ মাগরিব) সভায় বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে এ সভায় সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি ও ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ।

আবহাওয়া অফিস বলছে, চাঁদের বয়স হিসাবে কাল বুধবারই ঈদ উদযাপনের সম্ভাবনা বেশি। আজ সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হচ্ছে। সাধারণত সৌদি আরবে ঈদ পালিত হওয়ার পরদিন বাংলাদেশে ঈদ উদযাপিত হয়। সে হিসেবে আগামীকাল বাংলাদেশে ঈদ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদের ভাষ্য, চাঁদের বয়স স্বাভাবিকভাবে যদি এক দিনের ওপরে হয় তাহলে চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আজ সন্ধ্যায় চাঁদের বয়স ১ দশমিক ১ দিন হবে। সেক্ষেত্রে আকাশ পরিষ্কার থাকলে দেশের বেশ কিছু এলাকা থেকে চাঁদ দেখা যাবে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে উত্তরাঞ্চলের রংপুর ও রাজশাহী এবং ঢাকা বিভাগের ময়মনসিংহ।

ঈদের দিনের আবহাওয়া সম্পর্কে বজলুর রশীদ জানান, বুধবার ঈদ হলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা বেশি। ঢাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম থাকলেও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকবে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে বিকেলের দিকে রাজধানীতে বৃষ্টি হতে পারে। মেঘলা দিনের কারণে গরমের অস্বস্তি থাকবে না। আর যদি বাংলাদেশের আকাশে কোথাও চাঁদ দেখা না গেলে কাল রমজান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। সে হিসেবে ঈদ উদযাপিত হবে বৃহস্পতিবার।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা ৯৫৫৯৪৯৩, ৯৫৫৯৬৪৩, ৯৫৫৫৯৪৭, ৯৫৫৬৪০৭ ও ৯৫৫৮৩৩৭ টেলিফোন নম্বরে ফোন করে এবং ৯৫৬৩৩৯৭, ৯৫৫৫৯৫১ নম্বরে ফ্যাক্স করে বা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) জানানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

ঈদের চাঁদ দেখা গেলেই সবার মাঝে বইতে শুরু করবে আনন্দের বন্যা। শুধু রাতটা পোহালেই শুরু হবে মিলনের বন্ধন। ইসলাম সাম্য ও মৈত্রীর ধর্ম। ঈদে তাই রাজপ্রাসাদ থেকে কুঁড়ে ঘর পর্যন্ত খুশির আলোয় আলোকিত হবে। একে অন্যের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করবে, করবে কোলাকুলি। আর পায়েস-সেমাইয়ের পাশাপাশি থাকবে মুখরোচক সব খাবারের ধুম।

ঘুম থেকে ওঠার পরই শুরু হয়ে যাবে এসব ধুমধাম। ইতিমধ্যে সবাই ঈদের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে। প্রত্যেকেই জামাকাপড়সহ পছন্দের জিনিসপত্র কিনেছে এবং কিনছে। বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের মাঝে বিভিন্ন উপহারসামগ্রী বিতরণ করছে। পাশাপাশি চলছে এসএমএস ও ই-মেইলে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়। ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ঈদের শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে।

পবিত্র ঈদ মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করে এবং সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে। বিশ্ব মুসলিম একই আত্মার বন্ধনে আবদ্ধ—এ কথা স্মরণ করিয়ে দেয় ঈদ। ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভুলিয়ে দিয়ে এক কাতারে শামিল করিয়ে দেয় এ উৎসব। হিংসা-বিদ্বেষ ও অহংকারসহ সব অন্যায় ও পাপাচার মুছে দিয়ে নতুন করে সুখী পবিত্র জীবন যাপন শুরু করার তাগিদ দেয় ঈদ।

ঈদ শব্দের অর্থ আনন্দ। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে ঈদ হচ্ছে বান্দার জন্য বিরাট আতিথেয়তা। তাই তিনি ঈদের দিন রোজা পালনকে হারাম করে দিয়েছেন। ফিতর মানে রোজা ভাঙা। ইফতার শব্দও ফিতর থেকে এসেছে। ঈদুল ফিতর মানে রোজা ভাঙার ঈদ। অন্য এক মত অনুযায়ী, ফিতর ফিতরাত শব্দ থেকে এসেছে। এর অর্থ স্বভাব প্রকৃতি। রমজানের দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনায় কষ্ট ও ক্লান্তির পর স্বাভাবিকভাবেই সুখ ভোগের বিষয়টি এসে যায়। ঈদুল ফিতর রোজাদারদের সেই স্বভাবসমেত সুখ উপহার দেয়।

ঈদের দিন ভোরে ঈদের নামাজের আগে ফিতরা আদায় করতে হয়। ঈদের নামাজ মাঠে আদায় করাই উত্তম। সম্ভব হলে পায়ে হেঁটে ঈদে যাওয়াও উত্তম। ভিন্ন পথে ঈদগাহে যাতায়াত এবং ভোরে উঠে খেজুর বা মিষ্টি কিছু খাওয়া রাসুল (সা.)-এর সুন্নাত। ঈদের দিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাপড় পরিধান করা উত্তম। নতুন পোশাক পরিধান করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here