নড়াইলে বোরো চাল সংগ্রহ অভিযানে অনিয়মের অভিযোগে সমাবেশ ও মানববন্ধন

0
55

জাতীয় কৃষক সমিতি ও খেতমজুর ইউনিয়নের মানববন্ধন ও সমাবেশ

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইলে বোরো চাল সংগ্রহ অভিযানে মিলাররা বোরো চাল না দিয়ে গুদামে আমন চাল দেওয়ার অভিযোগে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে কয়েকটি সংগঠন। রবিবার (১২ মে) দুপুর ১২টায় সদর উপজেলা খাদ্য গুদাম গেটে বিক্ষোভ করা হয়। জাতীয় কৃষক সমিতি, ক্ষেত মজুর ইউনিয়ন এবং পেনশন আদায় সংগ্রাম কমিটির আয়োজনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন, ক্ষেত মজুর ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, কৃষক কবির হোসেন মুন্সি, কৃষক ভক্ত দাস মন্ডল, সাবেক পৌর কাউন্সিলর অশোক কুমার কুন্ডু, সাথী তালুকদার প্রমুখ।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নড়াইলের কয়েকটি মিলার যশোরের নওয়াপাড়ার একটি দোকান থেকে কেজি প্রতি ২১ টাকা ৫০ পয়সা দরে পুরোনো গুটি স্বর্ণা আমন চাল কিনে সেই চাল সদর উপজেলা খাদ্য গুদামে ৩৬ টাকায় বিক্রি করছে। তারা বলেন, যেখানে মাঠ থেকে ধান এখনও বাড়িতে পৌছাইনি, সেখানে মিলাররা চাল দিয়ে গুদাম ভরে ফেলছে। এটা কিভাবে সম্ভব! কোটি কোটি টাকা লুটপাটের ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এক শ্রেণির অসাধু মিলাররা অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় গুদাম কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে বা ভুল বুঝিয়ে এ কারসাজি করছেন। এমনিতে বাজারে এখন মোটা ধান বিক্রি হচ্ছে ৫শ থেকে সাড়ে ৫শ টাকায়। এ অবস্থা চলতে থাকলে বোরো ধানের বাজার আরও মেনে যাবে এবং কৃষক আরও ক্ষতিগ্রস্থ হবে। আগামি ১৫ দিনের মধ্যে খাদ্য গুদাম থেকে এ আমন চাল সরিয়ে বোরো চাল দিতে হবে এবং দায়ি মিলারদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবে জেলার মোট ৫৪ জন মিল মালিকের কাছ থেকে প্রতি কেজি সিদ্ধ ৩৬ টাকা ও আতপ-৩৫ টাকা দরে এ বছর মোট ৪ হাজার ১ শত ৯১ মেট্রিক টন ( সিদ্ধ-৩৯০৮ ও আতপ-২৮৩) বোরো চাল সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে সদর উপজেলায়-১৯৮৭ মেঃ টন, কালিয়া ১২৬০ মেঃটন চাল ও লোহাগড়ায় ৯৪৪ মেঃটন চাল সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া ১ হাজার ৪৫৯ মেঃটঃ ধান সংগ্রহ করা হবে। প্রতি কেজি ধান ২৬টাকা করে ক্রয় করা হবে। আগামী ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত এ অভিযান চলবে। জেলায় বোরো আবাদ হয়েছে ৪৬ হাজার ৬’শ ৪০ হেক্টর জমিতে। বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে এক লক্ষ্য ৯৪ হাজার ৪’শ ৫ মেট্টিকটন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক চিন্ময় রায় বলেন, গত ৬মে সদর খাদ্য গুদামে চাল সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধনের সময় সংগ্রহকৃত চাল দেখে আমার কাছে মনে হয়েছে, এটা আমন মৌসুমের গুটি স্বর্ণা চাল। এ নিয়ে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সাথেও আমার আপত্তির কথাও বলেছি। বোরো মৌসুমে যদি আমন চাল নেওয়া হয় তাহলেতো বোরা চাষীদের সহায়তা করা হলো না। কৃষকরাতো ক্ষতিগ্রস্থ হবে। নিয়মানুযায়ী বোরো চালই সংগ্রহ করতে হবে।
জেলা খাদ্য কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) মনোতোষ কুমার মজুমদার বলেন, যদি কোনো মিলার পুরোনো বা আমন চাল দেয় তাহলে তা ফেরত দিতে হবে। নিয়মে রয়েছে নতুন চাল এবং চলতি মৌসুমের চাল হতে হবে। তিন মাসের মধ্যে আপত্তি করলে এবং তা প্রমাণিত হলে মিলারকে চাল ফেরত দিয়ে নতুন চাল দিতে হবে। এ ধরনের একটি অভিযোগ শুনেছি। বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত করা হবে। এখানে দুই নম্বরির কোনো সুযোগ নেই।
সদর উপজেলা এলএসডির খাদ্য পরিদর্শক মোঃ তৈয়েবুর রহমান বলেন, সদর উপজেলায় ২৭জন মিলারের কাছ ধেকে ১হাজার ৯৮৭মেঃটন সিদ্ধ ও আতপ চাল সংগ্রহ করা হবে। গত ৬ দিনে ১১জন মিলারের কাছ থেকে ১শ ৮১ মেঃটিন সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে পুরোনো ও আমন চাল সংগ্রহের অভিযোগের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা বলেন, গুদামে বোরো মৌসুমের চাল ও ধান সংগ্রহের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। এক্ষেত্রে মনিটরিং করা হবে বলে জানান। আমন চাল নেওয়ার কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here