নড়াইলে নানা আয়োজনে বর্ষবরণ ও ৬দিনব্যাপি মেলা শুরু

0
53
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

নড়াইল কণ্ঠ : অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বর্ণিল আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে রবিবার (১৪ এপ্রিল) নড়াইলে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হচ্ছে। বর্ষবরণের গানের মধ্যদিয়ে সকাল ৬টায় নড়াইল জেলা শিল্পকলা একাডেমীর নজরুল মঞ্চ হতে শুরু হয় বাংলা নববর্ষের এ কার্যক্রম।

এরপর সকাল সাড়ে ৭টায় নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ চত্বর সুলতান মঞ্চ হতে মঙ্গগল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে বর্ষবরণ ও ০৬দিনব্যাপি বাংলা মেলা উদ্বোধন করেন নড়াইলের জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা।
এ সময় তিনি বলেন, আবহমান বাংলার হাজার বছরের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারাবহিকতায় বাঙালি নতুন বছরকে বরণ করে নেয়। চিরায়ত বাঙালির এ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে লালন করে সারাদেশে সাংস্কৃতিক বলয় তৈরি করতে তিনি সবার প্রতি আহবান জানান।
পরে সুলতান মঞ্চ হতে জেলা প্রশাসন ও সম্মিলিত সাংস্তৃতিক জোটের আয়োজনে একটি বিশাল বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি নড়াইল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নড়াইল জেলা শিল্পকলা একাডেমী চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে ‘এসো এসো হে বৈশাখ’ গান দিয়ে শুরু হয় বর্ষবরণের কর্মসূচি।

সমগ্রহ অনুষ্ঠানে নড়াইলের জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কাজী মাহাবুবুর রশীদ, বর্ষবরণ উদ্যাপন পর্ষদ ১৪২৬ এর আহবায়ক প্রফেসর মুন্সি হাফিজুর রহমান, আহবায়ক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: ইয়ারুল ইসলাম, সদস্য সচিব মলয় কুমার কুন্ডু, কাজী বসিরুল হক, শিক্ষকসহ স্থানীয় সুধী সমাজের সকলে এই শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে।
৬দিনব্যাপি বাংলা মেলার প্রথমদিনে রয়েছে, শিশুদের চিত্রাংকন, শিশুদের সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা, ঘুড়ি ওড়ানো, হাড়িভাঙ্গা, লাঠিখেলা, কবিতা আবৃতি, আলোচনা সভা এবং সন্ধ্যায় সুলতান মঞ্চ ও শিল্পকলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বাংলা নববর্ষ – ইতিহাস :
পহেলা বৈশাখ (বাংলা পঞ্জিকার প্রথম মাস বৈশাখের ১ তারিখ) বঙ্গাব্দের প্রথম দিন, তথা বাংলা নববর্ষ। দিনটি সকল বাঙালি জাতির ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণের দিন। এ দিনটি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বাংলা নববর্ষ মহা ধুমদামের সাথে পালিত হয়। এ কারনে বাংলা নববর্ষ বাঙালিদের সর্বজনীন লোকউৎসব হিসেবে বিবেচিত।
বর্ষপঞ্জি অনুসারে বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৪ই এপ্রিল এই উৎসব পালিত হয়। বাংলা একাডেমী কর্তৃক নির্ধারিত আধুনিক বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে এই দিন নির্দিষ্ট করা হয়। পশ্চিমবঙ্গে বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে ১৫ই এপ্রিল পহেলা বৈশাখ পালিত হয়। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে এদিনটি সরকারি ছুটির দিন। এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ এদিনটি নতুনভাবে ব্যবসা শুরু করার উপলক্ষ হিসেবে বরণ করে নেয়।
এই উৎসবকে ঘিরে পান্তাভাত খাওয়া, প্রভাতফেরি, হালখাতা খোলা, মেলা, পুজা, প্রভৃতি অনুষ্ঠানাদির মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়। “শুভ নববর্ষ” বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্যবাহী শুভেচ্ছা বাক্য। ২০১৬ সালে, ইউনেস্কো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত এই উৎসব শোভাযাত্রাকে “মানবতার অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য” হিসেবে ঘোষণা করে। সেই হতে নববর্ষের সময় বাংলাদেশে মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রচলন শুরু হয়।
বাংলা দিনপঞ্জীর সাথে হিজরী এবং খ্রিস্টীয় সনের মৌলিক পার্থক্য হলো হিজরী সন চাঁদের হিসাবে এবং খ্রিস্টীয় সন আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। এ কারণে হিজরী সনে নতুন তারিখ শুরু হয় সন্ধ্যার আকাশে নতুন চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার পর আর খ্রিস্টীয় সনে নতুন দিন শুর হয় ইউটিসিক্ট ০০:০০ অনুযায়ী। পহেলা বৈশাখ রাত ১২টা থেকে শুরু না সূর্যোদয় থেকে শুরু এ নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে, ঐতিহ্যগতভাবে সূর্যোদয় হতে বাংলা দিন গণনার রীতি থাকলেও ১৪০২ সালের ১ বৈশাখ থেকে বাংলা একাডেমী এই নিয়ম বাতিল করে আন্তর্জাতিক রীতির সাথে সামঞ্জস্য রাখতে রাত ১২.০০টায় দিন গণনা শুরুর নিয়ম চালু করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here