নড়াইলে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ এঁর ৮৩তম জন্মবার্ষিকী পালিত

89

নড়াইল কণ্ঠ : নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ এঁর ৮৩তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ ট্রাস্টের উদ্যোগে সকাল ১১টায় নূর মোহাম্মদ নগরে একটি র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি গ্রামের সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নূর মোহাম্মদ নগরে স্থাপিত স্মৃতিসৌধে গিয়ে শেষ হয়।
র‌্যালি শেষে নূর মোহাম্মদ নগরে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ এঁর স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ প্রশাসন, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ ট্রাস্ট, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কাম ব্যাক সোসাইটিসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন সমূহ। এ সময় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

এরপর সাড়ে ১১টায় বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ এঁর জীবনীর উপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ট্রাস্টের সদস্য সচিব ও চন্ডিবরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো: আজিজুর রহমান ভূঁইয়া। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন নড়াইলের জেলা প্রশাসক আনজুমান আর। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন (পিপিএম বার), সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নড়াইল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা সেলিম, জেলা আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুর রহমান হিলু, সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এস, এ মতিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোল্যা কওছার উদ্দিন, নূর মোহাম্মদ শেখের পুত্র গোলাম মোস্তফা, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ কলেজের অধ্যক্ষ প্রনব কান্তি অধিকারী, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরদার আবদুল মজিদ, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আছিয়া খানম ও মো: রাহাতুল প্রমুখ।
আলোচনা শেষে অতিথিবৃন্দ বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ কলেজ ও বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণ করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নূর মোহাম্মদ শেখ নড়াইল সদর উপজেলার চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের মহিষখোলা (বর্তমান নাম নূর মোহাম্মদ নগর) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যকালেই পিতা মোহাম্মদ আমানত শেখ এবং মা জেন্নাতুন্নেছাকে হারান। ১৯৫৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি তৎকালীন ইপিআর-এ (পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলেস্) যোগদান করেন। দীর্ঘদিন দিনাজপুর সীমান্তে চাকরি করে ১৯৭০ সালের ১০ জুলাই যশোর সেক্টরে বদলি হন এবং ল্যান্স নায়েক পদে পদোন্নতি পান তিনি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তিনি যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮নং সেক্টরে অংশ নেন। ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোরের গোয়ালহাটি ও ছুটিপুরে পাকবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে পাকবাহিনীর গুলিতে সহযোদ্ধা নান্নু মিয়া গুরুতর আহত হলে নূর মোহাম্মদ শেখ হাতে এলএমজি এবং কাঁধে আহত সাথীকে নিয়ে শত্রু পক্ষের দিকে এগিয়ে যান এবং গুলি ছুড়তে থাকেন। এ সময় পাকবাহিনীর ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে মারাত্মক জখম হন তিনি। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ নূর মোহাম্মদ আশংকাজনক অবস্থায়ও নিজের জীবনের কথা না ভেবে যুদ্ধ চালিয়ে যান এবং গুলি চালাতে চালাতে সামনের দিকে অগ্রসর হন। এক সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। যশোরের শার্শা থানার কাশিপুর গ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়।