অমল সেনের ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

0
21
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

নড়াইল কণ্ঠ : কৃষকদের তে-ভাগা আন্দোলনের অগ্রপথিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সভাপতি কমরেড অমল সেনের ষোড়শ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় যশোরের সীমান্তবর্তী বাঁকড়ী গ্রামে ‘কমরেড অমল সেন স্মৃতি রক্ষা কমিটি’র উদ্যোগে দু’দিনব্যাপি (বৃহস্পতি ও শুক্রবার) অমল সেন স্মরণ মেলার আয়োজন করা হয়। দু’দিনব্যাপি মেলায় আলোচনা সভা, কৃষক সমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, গ্রামীন মেলাসহ নানা ধরণের অনুষ্ঠানাদি অনুষ্ঠিত হবে।
এ উপলক্ষে প্রথমদিন দুপুরে অমল সেনের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

পুষ্পস্তবক অর্পন শেষে বাকড়ী স্কুল মাঠপ্রাঙ্গনে সরলা সিংহ মঞ্চে আলোচনা সভা হয়। অমল সেন স্মৃতি রক্ষা কমিটির সভাপতি ইকবাল কবীর জাহিদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি।
অমল সেন স্মৃতি রক্ষা কমিটির সভাপতি ইকবাল কবীর জাহিদের সভাপতিতে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক জননেতা ফজলে হোসেন বাদশা এমপি। অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মাহমুদুল হাসান মানিক, কামরুল আহসান, সাতক্ষীরা-১ আসনের এমপি এ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, সাবেক এমপি এ্যাডভোকেট শেখ হাফিজুর রহমান, এ্যাড. নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন বামপন্থী দলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় আবৃতি, গণসঙ্গীত, গণনাটক ও গণসংগ্রাম ভিত্তিক চলচিত্র প্রদশর্নী এবং মধ্যরাত পর্যন্ত লোকজ মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
মেলার দ্বিতীয় দিনেও অনুরূপ কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে বলে জানান অমল সেন স্মৃতি রক্ষা কমিটির সভাপতি ইশবাল কবীর জাহিদ।
কমরেড অমল সেন ১৯১৪ সালের ১৯ শে জুলাই আউড়িয়ার প্রখ্যাত রায় পরিবারে মামা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন নড়াইলের আফরার জমিদার পরিবারের সন্তান। নবম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত অবস্থায় বৃটিশবিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবী ‘অনুশীলন’ গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্কিত হন। দৌলতপুর বিএল কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় মার্কসবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ হন এবং গণিত শাস্ত্রে অনার্স পড়াকালীন সময়ে নড়াইলে ফিরে এসে কৃষকদের অধিকার আদায়ের আব্দোলন করার কাজে আত্মনিয়োগ করেন এবং জীবদ্দশায় আর পিতৃগৃহে ফিরে যাননি অকৃতদার এই বিপ্লবী। নড়াইলের ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনের তিনিই ছিলেন প্রধান সংগঠক। পাকিস্তান আমলের তেইশ বছরের উনিশ বছরই পাকিস্তানী শাসকেরা তাকে কারান্তরালে কাটাতে বাধ্য করেছে। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি হিসাবে তিনি দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৩ সালের ১৭জানুয়ারি বার্ধক্যজনিত কারণে ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here