নির্বাচনী প্রচার রাত পোহালেই শেষ হবে

0
11
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

নড়াইল কণ্ঠ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা বৃহস্পতিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাত পোহালেই শেষ হচ্ছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এর ধারা ৭৮ অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শুরুর পূর্ববর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এবং ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা নির্বাচনী এলাকায় জনসভা আহ্বান, অনুষ্ঠান ও তাতে যোগদান এবং কোন ব্যক্তি কোন মিছিল বা শোভাযাত্রা সংগঠিত করতে বা তাতে যোগদান করতে পারবেন না। এ বিধান লঙ্ঘিত হলে ৭৮(২) ধারা অনুসারে জরিমানাসহ সর্বোচ্চ ৭ বছর এবং সর্বনিম্ন ২ বছর কারাদন্ড হতে পারে। আগামি রবিবার, ৩০ ডিসেম্বর সকাল ৮টায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হবে। সে হিসেবে শুক্রবার সকাল ৮টার পর প্রার্থীরা আর নির্বাচনী প্রচার- প্রচারণা চালাতে পারবেন না।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী গত ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচারণা শুরু করেন জোটগত, দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। প্রচারণার সময় দেয়া হয়েছে ১৮ দিন। আগামিকাল ২৮ ডিসেম্বর সকাল ৮টার আগেই শেষ হবে প্রচারণা।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ১৭ দিন দেশের সব আসনেই মহাজোট এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন। তবে বেশিরভাগ আসনেই প্রচারণার ক্ষেত্রে সরব উপস্থিতি ছিল না বিএনপির। সবচেয়ে বেশি ২৯৮টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একদিকে গণমাধ্যমের আলোচনায় এসেছে। অপরদিকে এসব আসনে হাতপাখা প্রতীকের প্রচারণা চালিয়ে দলটির প্রার্থীরা ভোটারদের পরিচিতি পেয়েছেন।
এছাড়া কাস্তে প্রতীক নিয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের শরিক কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), মই প্রতীকে সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), কোদাল প্রতীকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিসহ শরিক অন্য দলগুলোও প্রচারণা চালাচ্ছে। গোলাপ ফুল প্রতীকে জাকের পার্টি, মিনার প্রতীকে ইসলামী ঐক্যজোট, কুলা প্রতীকে বিকল্প ধারা, উদীয়মান সূর্য প্রতীকে গণফোরামসহ নিবন্ধিত অন্য দলগুলো নিজ নিজ প্রতীকে প্রচারণা চালাচ্ছে। অনিবন্ধিতি অর্ধশতাধিক দলের প্রার্থীদের পাশাপাশি আপেল, মোটরকার সিংহসহ নানা প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও আছেন ভোটের মাঠে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রমতে, এবারের নির্বাচনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ১৮৪১ জন। এর মধ্যে নিবন্ধিত, অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭০০’র বেশি। বিভিন্ন রাজনৈতিক জোট ও দলের সূত্রমতে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থীরা সংসদীয় ৩০০ আসনের মধ্যে ২৭২টি আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের প্রার্থীরা ২৯৮টি আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নিচ্ছে। মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি (জাপা) জোট থেকে বরাদ্দ পাওয়া ২৫ আসনসহ মোট ১৭২টি আসনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ভোট করছে। নিবন্ধিত ৩৯টি দলসহ অনিবন্ধিত আরও অর্ধশত দল এবারের নির্বাচনে অংশ নিলেও ভোটে মূলত নৌকা আর ধানের শীষের লড়াই হবে।
ঢাকা মহানগরের অন্তর্গত ১৫টি আসনে তুলনামূলক আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের প্রার্থীদের প্রচারণাই বেশি। রাস্তাঘাট, অলি-গলিতে শুধু নৌকার আর লাঙ্গলের পোস্টার। টুকটাক অন্য কয়েকটি দলের পোস্টার চোখে পড়লেও ধানের শীষের পোস্টার নেই বললেই চলে। তবে ঢাকা-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থী নবী উল্লাহ নবী ভোটের মাঠে সক্রিয়। পথসভা এবং মিছিল করে মাঠ গরম রাখার চেষ্টা করছেন তিনি। তবে নৌকার তুলনায় ধানের শীষের পোস্টার খুব একটা নেই এই আসনে। ঢাকার অনেক আসনেই বাম গণতান্ত্রিকেে জাট, ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় পার্টির কিছু কিছু পোস্টার চোখে পড়ে। একই অবস্থা দেশের বেশিরভাগ আসনে। তবে গত দুই-তিন দিন যাবৎ দেশের বিভিন্ন আসনে বিএনপি প্রার্থীরা প্রচারণায় জোর দিয়েছেন। সংবাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনেক স্থানেই বিএনপি প্রার্থীরা বাধাপ্রাপ্ত হওয়া কোথাও বা হামলার স্বীকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন। বিভিন্ন আসনে ধানের শীষের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার এবং প্রচারণায় বাধা দেয়ার অভিযোগও করেছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সারাদেশে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও গ্রেফতারের চিত্র তুলে ধরে বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ৮ হাজার ২৪৩ জন গ্রেফতার, গায়েবি ও মিথ্যা মামলার সংখ্যা ৭৭৩টি, মোট হামলা হয়েছে ২ হাজার ৬৯৩টি। এই সময়ে আহত হয়েছে ১২ হাজার ৩৫৩ জন ও ৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন এমন অবস্থা হলে একটি দল কীভাবে ভোটের প্রচারণা চালাবে?
আওয়ামী লীগের দাবি, জনসমর্থন হারিয়ে বিএনপি এখন তৃণমূলেও অসংগঠিত। তাদের প্রার্থীরা পোস্টার লাগানোর মতো লোক খুঁজে পায় না। দল চালাতে না পেরে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তারা নানা মিথ্যা অভিযোগ জানাচ্ছে বিএনপি। বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, হত্যা এবং ক্যাম্প ভাঙচুরে বিএনপি-জামায়াত দায়ী অভিযোগ করে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, বিএনপি-জামায়াত ভোটে হেরে যাবে জেনেই, নানা ষড়যন্ত্র এবং মিথ্যা অভিযোগ করছে। আসলে সব জায়গায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে। বিএনপির লোকবল নেই।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রমতে, বারের নির্বাচনে সারাদেশে সংসদীয় ৩০০ আসনে মোট ভোটার ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০ জন; এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ কোটি ২৫ লাখ, ৪৭ হাজার ৩২৯ জন এবং নারী ভোটার ৫ কোটি ১৬ লাখ ৪৩ হাজার ১৫১ জন। প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় কারণে গাইবান্ধা-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোট হবে ২৯৯ আসনে। প্রচারণার শেষ সময়ে এসে, শহর পেরিয়ে নগর-বন্দর এবং গ্রাম-গঞ্জের চায়ের দোকান, অলিগলি, পাড়া-মহল্লা, মাঠ-ঘাট সর্বত্রই এখন উৎসবমুখর পরিবেশ। কে জিতবে, কে হারবে; কোন দল কতটি আসন পাবে, কোন দল সরকার গঠন করবে; এসবই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here