বিএনপি মহাসচিবের স্বাক্ষর নকল করে মনোনয়নপত্র প্রদান, বিনিময়ে উৎকোচ গ্রহণ

0
19
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

সমালোচনা উঠেছে, আসল চরিত্র থেকে বের হতে পারেনি বিএনপির নেতা কর্মীরা। জানা গেছে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষর নকল করে মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীদের। সূত্র বলছে, দলের নেতাকর্মীদের কাছে মনোনয়ন প্রতি ২ কোটি টাকা করে উৎকোচ গ্রহণ করেছেন দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা। এমনকি বিষয়টিকে সহজ করার লক্ষ্যে এক আসনে একাধিক প্রার্থী দেয়ার মতো কৌশলও গ্রহণ করেছেন নেতারা। এমন ঘটনায় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সেটি এখন টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে মনোনয়ন বঞ্চিত বগুড়া-৫ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী জানে আলম খোকা বলেন, বিগত সময়ে সরকারবিরোধী বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচিতে আমি নিজেকে সম্পৃক্ত রাখলেও শেষ পর্যন্ত সংস্কারপন্থী নেতা জি এম সিরাজকে দলে ভিড়িয়ে তাকেই চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হচ্ছে। অথচ আমাকে যে মনোনয়ন পত্র দেয়া হয়েছিলো তা ছিলো মহাসচিবের নকল স্বাক্ষর সম্বলিত। এটা মানা যেকোন নেতার পক্ষে কষ্টকর। আমি এর বেশি কিছু বলতে চাই না।
এদিকে ঝালকাঠি-২ আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত মাহবুবুল হক নান্নু’র আস্থাভাজন একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নান্নু বর্তমানে কারাগারে আছেন। এই আসনে প্রার্থী করার জন্য দলের যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদকে ২ কোটি টাকা দিতে হয়েছে নান্নু ভাইয়ের পক্ষ থেকে। আমরা নান্নু ভাইয়ের পক্ষ থেকে কয়েকবার নিশ্চিত হতে চেয়েছি যে, ভাইকে মনোনয়ন দেয়া নিশ্চিত কিনা। তিনি বারবার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। কিন্তু এখন দেখছি ঝালকাঠি-২ আসনে মনোনয়নের চিঠি পেয়েছেন সংস্কারপন্থী ইলেন ভুট্টো ও জেবা খান। আর নান্নু ভাইকে যে মনোনয়ন পত্র দেয়া হয়েছে তা নাকি জাল। যারা তৎকালীন মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার সঙ্গে হাত মিলিয়ে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে মাইনাস করতে চেয়েছিলো তাদের দলে এনে মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে। আমার নেতা কেবল মনোনয়ন বাণিজ্যের শিকার হয়ে ২ কোটি টাকা গচ্ছা দিলেন।
সূত্র বলছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ২৩ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ এবং মহাসচিবের স্বাক্ষর নকল করে মনোনয়ন পত্র বিতরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মনোনয়ন বাণিজ্যের শিকার ওই নেতাদের দেয়া ফরমে পাওয়া গেছে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জাল স্বাক্ষর। এমন প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশে একটি অনুসন্ধানী টিমের মাধ্যমে খোঁজ-খবরও করা হচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিষয়টি দলের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর সঙ্গে জড়িত নেতাদের বিরুদ্ধে অতিসত্বর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।
যদিও গুঞ্জন আছে, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষর নকল করে যারা মনোনয়ন বাণিজ্য করেছেন তাদের মধ্যে গয়েশ্বর চন্দ্রের নামও রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here