বিএনপিতে মনোনয়ন বাণিজ্য চরমে, ব্যক্তি নয় প্রাধান্য পাচ্ছে টাকা!

0
14
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণে দলের সাংগঠনিক ভারসাম্য হারাতে বসেছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি। এর আগে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কেবল অর্থের কারণে জনপ্রিয় নেতাদের রেখে অজনপ্রিয় ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়ায় বিপাকে পড়তে হয়েছিলো কেন্দ্রীয় নেতাদের। এমনকি এর ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন সিটিতে বিএনপির প্রার্থীদের লজ্জাজনক হারও মেনে নিতে হয়েছে। এর ফলে বেড়েছে তৃণমূলে কোন্দল। এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে এসেও মনোনয়ন বাণিজ্য নিয়ে এমন অসংখ্য অভিযোগ ঘুরছে কেন্দ্র থেকে তৃণমল বিএনপিতে।

সূত্র বলছে, সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত করতে একটু বেশি সময় নিচ্ছে বিএনপি। ঐক্য এবং ২০ দলীয় শরিক দলগুলোর আসন ভাগ-বাটোয়ারার কথা উল্লেখ করে কালক্ষেপণ করা হলেও প্রকৃত সত্য ভিন্ন। বিএনপির কেন্দ্র এবং তৃণমূলে উড়ছে মনোনয়ন বাণিজ্য নিয়ে নানা গুঞ্জন ও অভিযোগ। তাদের অভিযোগ- গোপনে টাকা খেয়ে অযোগ্য অজনপ্রিয় একাধিক মামলার আসামি, নারী ও শিশু পাচারকারীদের মনোনয়ন দিচ্ছে বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডে থাকা নেতারা।

এ প্রসঙ্গে চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মমিনুল হক বলেন, এই আসন থেকে সাবেক সাংসদ এম এ মতিন এর আগে নির্বাচিত হয়। কিন্তু এমপি হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের প্রমাণ পাওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীসহ এ আসনের সাধারণ মানুষও তার উপরে ক্ষুব্ধ। এটি কেন্দ্রীয় বিএনপিও জানে। মতিন শুধু দুষ্ট লোক তা নয়, সে একজন মাতাল-লম্পট। কথা ছিলো একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আমাকে মনোনয়ন দেয়া হবে। কিন্তু কেবল মতিন সাহেবের অর্থের কারণে আমাকে মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে না। শুধু এই আসনে নয়- আমি দেখছি অসংখ্য আসনে একই অবস্থা। ভেবেছি দল ছেড়ে দেব। বিএনপি আর আগের বিএনপি নেই।

এদিকে ৬ কোটি টাকার বিনিময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানদের বিএনপির নমিনেশন ব্যবস্থা করে দেয়ার খবরও দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। তা দলে এবং তৃণমূলে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। এমন প্রেক্ষাপটে মনোনয়ন বাণিজ্য বিএনপিকে নিঃস্ব করে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশিষ্ট রাজনীতিকরা।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির সংস্কারপন্থী নেতা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিএনপি যে ধীরে ধীরে নিশ্চিহ্নের দিকে এগুচ্ছে সেটি বুঝতে পারছে না দলের নেতারা। এমনকি দেখেও না দেখার ভান করছেন দলের নীতি নির্ধারকরা। বাণিজ্য করে আপাতদৃষ্টিতে আখের গোছাতেই তৎপর কিন্তু তারা বুঝতে পারছে না এর মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠিত দল কিভাবে ক্রমেই তলিয়ে যাচ্ছে। মাতাল, লম্পট, চাঁদাবাজ, জোচ্চোর দিয়ে যদি রাজনীতি হতো তাহলে রাজনীতিকে রাজ নীতি নয়, অন্য নামে ডাকা হতো। কেবল অর্থের কারণে বিএনপিতে মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে অজনপ্রিয় এবং অরাজনীতিকদের। এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। তৃণমূলের এই অভিযোগগুলো একদিন বিস্ফোরণ হয়ে ফাঁটবে। তখন বিএনপির আর শেষ রক্ষা হবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here