ধানের শীষ ইস্যুতে ঐক্যফ্রন্টে বিষ

35

নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ঐক্যফ্রন্টে নাটকীয়তা দিন দিন বাড়ছেই। এবার বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলেছে ‘ধানের শীষ’ ইস্যু।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা হিসেবে ড. কামালকে আখ্যায়িত করা হচ্ছে বিভিন্ন সময়ে। যদিও এই ইস্যুতে কামাল-তারেক বিরোধ এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে।
ড. কামাল অবশ্য নিজেকে ‘প্রধান নেতা’ হিসেবেই দাবি করে চলেছেন। শুরু থেকেই তিনি সমর্থন পাচ্ছেন বিএনপির একাংশসহ মান্না-জাফরউল্লাহ গং এর।
জানা যায়, এই আইনজীবী নেতা রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই প্রগতিশীলতার পক্ষে কথা বলে আসছেন। দুর্নীতি-সন্ত্রাসের দায়ে দণ্ডিত পলাতক তারেক জিয়ার বিরুদ্ধেও সমালোচনায় মুখর ছিলেন।
ঐক্যফ্রন্ট গঠন করার আলোচনা যখন চাউর হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই দেশবাসীর মনে জাগে, জামায়াত ও তারেক ইস্যুতে কামালের ভূমিকা কী হবে? কামাল তখন গণমাধ্যমকে আশ্বস্ত করেছিলেন এই বলে যে, ‘ঐক্য হবে বিএনপির সাথে; জামায়াত বা তারেকের সাথে নয়’।
কিন্তু সদ্য ভোটার হওয়া একজন নাগরিকও জানেন যে, বিএনপির একনিষ্ঠ মিত্র জামায়াত। অন্যদিকে তারেক জিয়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন। তাহলে কোন যুক্তিতে একজন আইনজীবী এমন কথা বলেন, সে প্রশ্ন জাগে জনমনে।
ঐক্য হয়ে যাবার পরে তারেক ইস্যুতে ভয়ে কিংবা লজ্জায় তেমন ‘রা’ করতে না পারলেও নিবন্ধনহীন দল ‘জামায়াত’ ইস্যুতে এবার মুখ খুলেছেন কামাল-মান্না গং। স্বাভাবিকভাবেই বিএনপির মধ্যে থাকা জামায়াতবিরোধী শক্তিটিরও প্রচ্ছন্ন সমর্থন পাচ্ছেন তারা। জামায়াতকে বিএনপি’র প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করতে না দেয়ার দাবিতে একজোট হয়েছেন তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঐক্যফ্রন্টের দ্বিতীয় সারির এক নেতা জানান, যুদ্ধাপরাধ ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের দায়ে নিবন্ধন হারানো জামায়াতের অস্তিত্ব এখন বিলীনের পথে। তারা নির্বাচনের পূর্বে আগের মতো বিধ্বংসী রূপ ধারণ করতে পারে। এসব অপকর্মের দায় আমরা নিতে মোটেই রাজি নই। ঠিক তেমনি আমরা যেহেতু বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করবো, একই প্রতীক জামায়াতের মতো নিবন্ধনহীন দল পেলে জনমনে আমাদের সমন্ধে বিরূপ ধারণা হওয়া স্বাভাবিক। তাই জামায়াতকে ধানের শীষ প্রতীক না দেয়ার দাবিতে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। বিএনপিতেও জামায়াতবিরোধী একটি পক্ষ রয়েছে। তারাও আমাদের দাবির সাথে একমত প্রকাশ করেছেন। দাবি মানা না হলে আমরা যেকোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবো। প্রয়োজনে জামায়াত প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচন করুক, তবুও তাদেরকে ধানের শীষ দিতে দেয়া হবেনা।
বিএনপি’র বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানায়, দলটির হাইকমান্ড এই ইস্যুতে এখন স্পষ্টতই দ্বিধাবিভক্ত। তাদের এই ‘শ্যাম রাখি, না কূল রাখি’ অবস্থা সামনে আরও নতুন সমস্যার সৃষ্টি করবে, এমনটাই মতামত বিশ্লেষকদের।