যুবকদের তামাক সেবনে নিরুৎসাহিত করতে আইন বাস্তবায়নের দাবি

177

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক : ৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটভুক্ত সংগঠন সমূহ একটি অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটভুক্ত সংগঠন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট, প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠন সমূহ এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।

বিশ্ব ক্যান্সার দিবসে এ বছরে প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে “We Can I Can”. তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার বিশ্বে অকাল মৃত্যু, ক্যান্সারসহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী আগামী ১৯ মার্চ থেকে সচিত্র স্বাস্থ্য সর্তকবাণী সম্বলিত প্যাকেট ব্যতিত কোন তামাকজাত দ্রব্য বাজারজাত বা বিক্রয় নিষিদ্ধ। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে স্বাস্থ্য সর্তকবানী তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর উপায়। এ অবস্থান কর্মসূচিটি মানবিক, নাটাব, এনডিএফ, একলাব, এইড, অরুণোদয়ের তরুণ দল, স্বপ্নের সিঁড়ি, প্রদেশ, এলআরবি ফাউন্ডেশন’র এবং ক্যান্সার প্রতিরোধ ও গবেষনা কেন্দ্র’র সম্মিলিত উদ্যোগে আযোজন করা হয়।

কর্মসূচিতে বস্তি উন্নয়ন ও কর্ম সংস্থা’র নির্বাহী পরিচালকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠন’র সাধারন সম্পাদক হেলাল আহমেদ, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সৈয়দা অনন্যা রহমান, মানবিকের তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা সুমন শেখ, এইড এর সহকারি প্রোগ্রাম সমন্বয়কারি কাজী হাসিবুল হক, অরুণোদয়ের তরুণ দল’র সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাবু, প্রদেশ’র নির্বাহী পরিচালক অনাদী কুমার মন্ডল, এলআরবি ফাউন্ডেশন’র নির্বাহী পরিচালক সুলতানা রাজিয়া, পাশা’র নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ হুমায়ুন কবির, কাটনার পাড়া নারী উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক লতিফা ইয়াসমীন লাভলী প্রমুখ। কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট’র সহকারি নেটওয়ার্ক অফিসার শুভ কর্মকার।

হেলাল আহমেদ বলেন, বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলো তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সর্তকবাণী প্রদানের বিষয়টি বাধাগ্রস্থ করতে নানা কৌশলে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছে । কিন্ত আইন ও বিধিমালা অনুসারে এ ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টির কোন অবকাশ নেই। জনস্বার্থে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সকল তামাকজাত দ্রব্যে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবানী নিশ্চিত করা হোক।

সৈয়দা অনন্যা রহমান বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণের কার্যকর পন্থা ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী। যে দেশে যত বড় ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদান করা হয়, সেই দেশে তামাকের ব্যবহার দ্রত কমছে। ক্যান্সার প্রতিরোধে প্রয়োজন তামাক নিয়ন্ত্রণ এবং তামাকের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

হাসিনুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের ৩০% এর অধিক জনগোষ্ঠী তরুণ। তরুণদের তামাকের নেশায় ধাবিত হওয়ার প্রবণতা থেকে রক্ষায় তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণীর বিকল্প নাই। তামাক কোম্পানিগুলো দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণদের ধূমপানের নেশায় আসক্ত করে মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যেই তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদানে টালবাহানা শুরু করেছে।

সুমন শেখ বলেন, বাংলাদেশ নেপাল ও শ্রীলংকার আগে এফসিটিসি স্বাক্ষর করেও তামাকের মোড়কে স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদানে আমরা পিছিয়ে রয়েছি। নেপালে বর্তমানে তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কের ৯০ভাগ স্থানজুড়ে স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদান করা হয়। শ্রীলংকায় বড় আকারের স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদান করা হচ্ছে।

অনাদী কুমার মন্ডল বলেন, তামাক কোম্পানিগুলোর এই প্রতারণা নতুন কিছু নয়। অষ্ট্রেলিয়া প্লেইন প্যাকেজিং প্রবর্তনের সময়, ধূর্ত তামাক কোম্পানিগুলো অষ্ট্রেলিয়ান সরকারের বিরুদ্ধে মামলা এবং নানাভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছিল। জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে নিবেদিত স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও সরকারের সুদৃঢ় অবস্থানের কারণে তামাক কোম্পানিগুলো আইনী লড়াইয়ে হেরে প্লেইন প্যাকেজিং প্রবর্তন করতে বাধ্য হয়। তামাক নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এবং যথাসময়ে সচিত্র সতর্কবানী নিশ্চিত করা সম্ভব করা হলে এ ধরনের উদ্যোগ ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।