নির্বাচন কমিশনকে বিব্রত করার নীলনকশা বিএনপির

31

কাগজে কলমে বিএনপি’র পূর্ণ নাম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। যদিও হরেক রঙের এই দলটিতে যে কত রকমের নেতা আছেন, তা গবেষণার ব্যাপার হতে পারে। দেশে-বিদেশে, ঘরে-বাহিরে নালিশে অভ্যস্থ বিএনপি’র চরিত্রের সাথে মিল রেখে নতুন নামকরণও করেছে রসিক জনতা। বিএনপি’ দীর্ঘদিন ধরেই সচেতন জনসাধারণের কাছে ‘বাংলাদেশ নালিশ পার্টি’ হিসেবে পরিচিত পাচ্ছে।
নামের কার্যকারিতা ক্রমাগত প্রমাণেও পিছিয়ে নেই আন্দোলনে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেয়া এই দলটি। কিন্তু জনগণকে পাশে না পেয়ে জনগণকেই পেট্রোল বোমায় পুড়িয়ে মারার সেই কলংকজনক ইতিহাস কোনোদিন পেছনে ফেলতে পারবে কি বিএনপি!
তবে নালিশে সম্ভবত কেবল বাংলাদেশ নয়, সারাবিশ্বের সকল রাজনৈতিক দল- সংগঠনকেই বিপুল ব্যবধানে পেছনে ফেলেছে। বিগত ১০ বছরে বিশ্বব্যাপী তারা দেশের বিরুদ্ধে, সরকারের বিরুদ্ধে নালিশ করে বেড়িয়েছে। খোদ খালেদা জিয়া বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন বরাবর। তার এ চিঠি ফলাও করে প্রচার হয়েছিলো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও।
এরকম শত শত নিস্ফল আবেদন-অনুরোধ উপেক্ষিত হওয়ার পরেও বসে নেই দেশবিরোধী এই শক্তি। এখন তাদের নতুন টার্গেট নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত করা।
নথিপত্রে জানা যায়, নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিকভাবে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, যা স্বতন্ত্র আইনের অধীনে পরিচালিত হয়। ক্ষমতাসীন সরকার নির্বাচন কমিশনকে কোন প্রকার আদেশ করার নির্বাহী ক্ষমতা রাখে না।
রাজনৈতিক দলগুলোও নির্বাচন কমিশনকে বিভিন্ন অনুরোধ করতে পারেন, তবে তা বিবেচনায় নেয়া বা না নেয়া সম্পূর্ণই নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার।
বর্তমান নির্বাচন কমিশন শুরু থেকেই স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে জনমনের আস্থা অর্জন করেছে। লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, সরকারের অনেক অনুরোধও তারা দৃঢ়তার সাথে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। অন্যদিকে বিএনপির অনেক নালিশ আমলে নিয়েও তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিতে দেখা গেছে কমিশনকে। এতেই স্বাধীনচেতা বর্তমান নির্বাচন কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা ও স্বদিচ্ছার প্রমাণ পাওয়া যায়।
কিন্তু নালিশ দেয়া যাদের স্বভাব, তাদের অভাব কি এত সহজে যায়! বিএনপির অভাবও যায়নি। প্রায় প্রতিদিনই তারা নানান হাস্যকর নালিশ নিয়ে কমিশনে যাচ্ছেন, চা-নাস্তা খাচ্ছেন, হাসতে হাসতে বের হচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে কৌশলে চরম পক্ষপাতমূলক, আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন গঠন করেছিলো। এক কোটি ৩০ লাখ ভুয়া ভোটারের কলংক বিএনপি সরকারেরই অবদান। যদিও জনরোষ আর তুমুল গণআন্দোলনে বিএনপির নীলনকশা বাস্তবায়িত হয়নি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি আসলে সেইরকম আজ্ঞাবহ কমিশন চাচ্ছে, যারা জনসমর্থনহীন দলটিকে ক্ষমতায় বসানোর নিশ্চয়তা দিবে। পাশাপাশি তারা চাচ্ছে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ এই প্রতিষ্ঠানকে যেকোন উপায়ে বিতর্কিত করতে।
সে আশায়ই বিভিন্ন হাস্যকর নালিশ আর দাবি-দাওয়া নিয়ে দলটি নির্বাচন কমিশনের কাছে ধর্না দিয়ে যাচ্ছে।