পত্নীতলায় ওয়াজেদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ, দু’কোটি নিয়ে উধাও, চেকের মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে

33

মো. আতাউর রহমান, পত্নীতলায় (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর পত্নীতলায় ষ্টান্ডার্ড ব্যাংকের প্রস্তাবিত নজিপুর শাখায় চাকুরীর দেওয়ার নাম করে প্রায় ৩০জন যুবক-যুবতীর কাছে থেকে নগদ ২ কোটি টাকা ও ফাঁকা চেক গ্রহণ করে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে মহাদেবপুর উপজেলার চককন্দর্পপুর গ্রামের মো. ছাবেদ আলীর পুত্র মো. ওয়াজেদ আলীর বিরুদ্ধে। প্রতারক ওয়াজেদ আলী পত্নীলায় উপজেলা সদর নজিপুরে ষ্টান্ডার্ড ব্যাংকের শাখা খুলে সেখানে লোক নিয়োগের প্রলোভন দিয়ে উল্লেখিত পরিমাণ যুবক-যুবতীর কাছ থেকে জনপ্রতি ৫-১০ লাখ নগদ টাকা ও ফাঁকা চেক গ্রহণ করেন। প্রতারকের উদ্দেশ্য হাসিল হলে তিনি টাকা ও চেক নিয়ে সটকে পড়েন। এ নিয়ে পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রতারক ওয়াজেদ আলী আত্মগোপন করেন। সম্প্রতি প্রতারক ওয়াজেদ আলী চাকুরী প্রত্যাশী যুবক-যুবতীতের কাছ থেকে গ্রহণ করা চেকগুলি ডিজঅনার করে তাদের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ জারী শুরু করেছেন।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, চাকুরী লাভের আশায় অন্যান্য যুবক-যুবতীর মতো পত্নীতলা উপজেলার হযরতপুর গ্রামের মামুনুর রশীদের স্ত্রী মিনারা আফরিন প্রতারক ওয়াজেদ আলীকে নগদ ৫লাখ টাকা ও একটি ফাঁকা চেক প্রদান করেন। প্রতারক ওয়াজেদ আলী পালিয়ে যাওয়ার পর মিনারা আফরিন প্রদত্ত টাকা ও চাকুরীর আশা ছেড়েই দেন। গত ২৫ অক্টোবর তারিখে তিনি রাজশাহী জর্জকোর্টের আইনজীবি মো. সাখাওয়াত হোসেনের নিকট থেকে একটি লিগ্যাল নোটিশ পান। লিগ্যাল নোটিশের মাধ্যমে প্রতারক ওয়াজেদ আলী তাঁর নিকট পাওনা হিসাবে ৭ (সাত) লাখ টাকা দাবী করেছেন এবং ৩০দিনের মধ্যে উল্লেখিত পরিমাণ টাকা পরিশোধ করা না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দিয়েছেন। এক্ষেত্রে প্রতারক ওয়াজেদ আলী চাকুরী প্রত্যাশীদের নিকট থেকে গৃহিত চেকটি ব্যাংকে জমা দিয়ে ডিজঅনার করে নিয়ে মিনারা আফরিনের বিরুদ্ধে এন,আই এ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। লিগ্যাল নোটিশ হাতে পাওয়ার পর মিনারা আফরিন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা হতভম্ব হয়ে পড়েছেন এবং কি করবেন সে বিষয়ে কোন কূল কিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে শুধু মিনারা বেগমই নয়, প্রতারক ওয়াজেদ আলী ইতিমধ্যেই নজিপুর বাসষ্ট্যান্ডের রিমন হোসেনের স্ত্রী শারমিন আকতার এর নিকট হতে ৭ লাখ, মৃত নাজিমুদ্দিনের পুত্র মোস্তাফিজুর রহমানের নিকট হতে ১০ লাখ, ধামইরহাট উপজেলার চৈতন্যপুর গ্রামের রবিউল আলমের নিকট হতে ১৪ লাখ ও সাপাহার উপজেলার তিলনা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের নিকট হতে ৭লাখ টাকা পাবেন মর্মে আইনজীবির মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেছেন। লিগ্যাল নোটিশ পাওয়ার পর চাকুরী প্রার্থী যুবক-যুবতী ও তাদের পরিবার চরম উৎকন্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে এবং চোখে সর্ষে ফুল দেখছে। এ বিষয়ে প্রতারণার শিকার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রতারক ওয়াজেদ আলী নিজেকে স্টান্ডার্ড ব্যাংকের বড় কর্মকর্তা বলে পরিচয় দিয়ে পত্নীতলায় ঘোরাফেরা শুরু করে। নজিপুর বাসষ্ট্যান্ডে রাব্বানী মার্কেটের দোতলায় ব্যাংকের অফিস করার জন্য মার্কেট মালিকের সহিত প্রাথমিক চুক্তিও সম্পাদন করে। নতুন অফিসে জনবল নিয়োগ করা হবে মর্মে তিনি বিভিন্ন জনের কাছ থেকে নগদ টাকা ও ফাঁকা চেক গ্রহণ করে এবং একপর্যায়ে পালিয়ে যায়। পরে তাঁরা জানতে পারেন ওয়াজেদ আলী আসলে ষ্টান্ডার্ড ব্যাংকের কেউ নন। তিনি প্রকৃতপক্ষে একজন দালাল। দালালি করে মানুষকে ঠকানোই তাঁর পেশা। প্রতারক ওয়াজেদ আলী বর্তমানে নিজ গ্রামে অবস্থান করে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণের মাধ্যমে তাদের হয়রানি করছেন বলেও তিনি জানান ।
চাকুরী দেওয়ান প্রলোভন দিয়ে যুবক-যুবতীদের নিকট থেকে নগদ অর্থ ও ফাঁকা চেক গ্রহণ করায় ওয়াজেদ আলীর বিরুদ্ধে এলাকার সচেতন মানুষ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। প্রতারক ওয়াজেদ আলীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের নিকট জোর দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী।