শীতের আগমনে নড়াইলের খেজুর রস ও পাটালি

0
11
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইল এক সময়ে প্রসিদ্ধ ছিল খেজুওে পাটালী আর চিড়া। ঢেঁকি শিল্প বিলুপ্ত প্রায় এইমূহুর্তে ঢেঁকিতে কোটা চিড়া খুব কমই চোখে পড়ে। কিন্তু ইট ভাটার কারনে ও প্রযুক্তিগত সম্প্রসারণ হওয়া খেজুর গাছ কাটার প্রবনতা কমে গেলেও খেজুরের সেই ঘ্রাণ শীতকাল আসলেই মনে নাকে প্রতিনিয়ত লাগে। বাংরাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। শীতের আগমন বার্তায় খেজুর গাছেঝর গাছিরা গাছে ঠিলা বাদতে শুরু করেছে। খেজুরগাছ থেকে মধুরস আহরণ শুরু কওে দিয়ে গাছিরা। গ্রামবাংলার ঐহিত্যের প্রতীক খেজুর রস ঘিরে গ্রামীণ জনপদে শুরু হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। হাট, বাজার, বিভিন্ন জনবহুল রাস্তার মোড়ে মোড়ে সকাল সন্ধ্যায় এখনও দেখা মেলে ঠিলে ভরা খেজুর রস। পাশাপাশি খেজুর গুড়ের পাটালিও। এ মৌসূমে প্রতিটি গ্রামীণ বাড়িতে নেয়া নারিকেল দিয়ে খেজুর রস ও আতপ চালের রান্নার অসাধারণ ঘ্রাণ এবং পাটালি গুড়ের ম ম গন্ধে ভরপুর হাটবাজার ও বাড়িতে বাড়িতে। এখানেই শেষ না, রস-দুধে মিশিয়ে চিতা পিঠা ভেজানোর অপেক্ষায় রয়েছে জামাইজন।
সদর উপজেলার নাওরা গ্রামের আফজাল বলেন, এ বছর ১০টি খেজুর গাছ তুলেছেন তিনি। এছাড়া পাশ্বর্তী এলাকা আরো অনেকে গাছ তুলেছে। এটা আমরা অগ্রহায়ণের মাঝামাঝি থেকে ফালগুন মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত খেজুর রস সংগ্রহ করবো। কয়েকদিন আগে রস থেকে গুড় উৎপাদন শুরু হয়েছে।
সদর উপজেলার চাচড়া গ্রামের মিরান বলেন, কোনো প্রকার ভেজাল ছাড়াই আমরা বাড়িতে গুড় তৈরি করি। প্রতি কেজি পাটালি গুড়ের মূল্য রাখা হয় ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা। আর এক ঠিলা (ভাড়) রস বিক্রি করি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দরে।
নড়াইলের ভুমুরদিয়া, লোহাগড়ার এড়েন্দা ও কালিয়ার কলাবাড়িয়া বাজারের কয়েকজন গুড়বিক্রেতা বলেন, স্থানীয় গাছিদের খেজুর গুড় ছাড়াও যশোর ও উত্তরাঞ্চলের গুড় নড়াইলের হাটবাজারগুলোতে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে পাটালি ও জমাটবাঁধা গুড়ের চাহিদা বেশি।
এদিকে পাইকমারি গ্রামের মাজেদা জানান, খেজুর রস ও গুড় দিয়ে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে খেজুর রস নারিকেল দিয়ে পায়েস, রস-দুধ দিয়ে রসচিতই, হাত কাটা সেমাই পিঠা তৈরি হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের নড়াইলের উপ-পরিচালক চিন্ময় রায় জানান, জেলায় ১১৫ হেক্টর জমিতে খেজুর গাছ রয়েছে। এ বছর সাড়ে ৯শ মেট্রিক টন গুড় উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here