নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও্ দুর্নীতির অভিযোগ

0
36
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

নড়াইর কণ্ঠ : নড়াইল সরকারি উচ্চ (বালক) বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
হাইকোর্টেও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এসএসসি পরীক্ষার ফর্মপূরণে নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে বেশি টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২৬০ জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫০টাকা থেকে ২ হাজার টাকা বেশি নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এক শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষকের নির্দেশক্রমে নিয়মিত ২১৮ পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫০ থেকে ২০০ টাকা বেশি নেয়া হয়েছে। আর ৪২ জন অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৫শ’ থেকে ২ হাজার বা এর বেশি টাকাও নেয়া হয়েছে। কয়েকজন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রধান শিক্ষক নিজে বেশি টাকা নিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী মো. আমিনুজ্জামান জন বলেন, ফর্মপূরণের জন্য প্রধান শিক্ষক নিজে ৪ হাজার টাকা নিয়েছেন। তার বন্ধু বায়েজিদের মা’র কাছে ফর্মপূরণের জন্য ৭ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। এত টাকা দিতে অপারগতা জানালেপ্রধান শিক্ষকতাকে ভীষণভাবে অপমান-অপদস্থ করে।
শ্রেণি শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষকের আদেশক্রমে প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে কিছু টাকা বেশি নেয়া হয়েছে। টাকাগুলো আমরা প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দিব।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের মেয়ে যশোর বোর্ডের জেএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।কিন্তু বিষয়টি গোপন রেখে তিনি নড়াইল সরকারি বালক বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব ছিলেন। এর আগেও ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায়ও তিনি কেন্দ্র সচিব ছিলেন। তখন তার ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। মূলত অর্থলোভ এবং নিজের ছেলে মেয়েদের অবৈধ সুবিধা দেয়ার জন্য তিনি এ কাজ করেন। তবে সরকারি নিয়মানুযায়ী কোনো শিক্ষকের ছেলে-মেয়ে অথবা নিকটতম কোনো আত্মীয় যদি সংশি¬ষ্ট বোর্ড থেকে পরীক্ষা দেয়, তাহলে সে ওই বোর্ডের কোনো পরীক্ষা কেন্দ্রে সচিব হতে পারবেন না।
এক শিক্ষক বলেন, পরীক্ষার শুরু হওয়ার এক ঘণ্টা আগেই কেন্দ্রের সচিবদের হাতে প্রশ্ন আসে। তিনি তার ছেলে মেয়েদের পরীক্ষার আগে প্রশ্ন দিয়েছেন কিনা সেটা খতিয়ে দেখা দরকার।
অভিভাবকেরা বলেন, এমন ঘটনা ঘটলে পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
এদিকে নিয়মানুযায়ী অতিরিক্ত ক্লাসের টাকার ১০ ভাগ প্রধান শিক্ষকের হাতে দিলে সেই টাকাওতিনি আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযাগ উঠেছে। স্কুল সূত্রানুযায়ী, নিয়ম অনুয়াযী অতিরিক্ত ক্লাসের ১০ ভাগ টাকা ব্যয় হবে স্কুলের গ্যাস বিল, বিদুৎ বিল এবং চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারীদের জন্য। এই স্কুলের বিদ্যুৎ বিল দেয়ার জন্য সরকারি বরাদ্দ আছে। তাই তিনি অতিরিক্ত ক্লাসের সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করেন এবং শিক্ষকদের ভয়দেখিয়ে অতিরিক্ত ক্লাসের টাকার অংক বাড়ানোর জন্য চেষ্টা করেন।
এদিকে ছাত্রাবাসে নিজের পছন্দের অফিস সহকারীকে পরিবারসহ (স্ত্রী) থাকার সুযোগ করে দিয়েছেন। স্কুলে মানসম্মত একাধিক শিক্ষক থাকলেও এই অফিস সহকারীকে দিয়েই ৩য় শ্রেণির ক্লাস টিচারের দায়িত্ব পালন করানোর অভিযোগও উঠেছে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মহিতোষ কুমার দে’র কাছে জানতে চাইলে তিনি রেগে যান। উত্তেজিত কণ্ঠে বলেন তিনি কোনো অনিয়ম করেননি।
নড়াইলের জেলা প্রশাসক ডিসি আনজুমান আরা বেগম বলেন, বিষয়টি জানার পরই ওই শিক্ষককে কেন্দ্রের সচিবের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছি। আর অন্যান্য অভিযুক্তবিষয়গুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here