নড়াইলে বেকার ও অসহায় নারীরা কর্মক্ষম হয়ে উঠেছে জাতীয় মহিলা সংস্থার সহায়তায়

0
21

নড়াইল কণ্ঠ : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নারী উন্নয়নে সরকারের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের প্রতিফলনের জন্য বাংলাদেশের সর্বস্তরের মহিলাদের সার্বিক উন্নয়ন ও তাদের অবস্থার পরিবর্তনের লক্ষ্যে একটি সাংগঠনিক কাঠামো তৈরী করার জন্য সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ প্রদান করেন। এর আলোকে ১৯৭৬ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারী তারিখে জাতীয় মহিলা সংস্থা প্রতিষ্ঠা লাভ করে। পরবর্তীতে সংস্থার কার্যক্রমকে অধিকতর ফলপ্রসূ ও জোরদার করার লক্ষ্যে ১৯৯১ সালের ৪ঠা মে তারিখে ৯ নং আইন বলে জাতীয় মহিলা সংস্থাকে একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে রূপদান করা হয়। বর্তমান জাতীয় মহিলা সংস্থাটি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ।
জাতীয় মহিলা সংস্থা নড়াইল জেলা শাখা অফিসের কার্যক্রম বিগত সরকারের আমলে দির্ঘবছর যাবৎ ভাড়াবাড়িতে চালিয়ে এসেছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ সংস্থাটির নিজস্ব জায়গায় ২০১৪ সালে ভবন নির্মান হয়। বর্তমান এই ভবন থেকে নড়াইলের নারীদের উন্নয়ন ও আয়সৃজন কর্মকান্ডের উপর দক্ষতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বর্তমান সরকারের আমলে সংস্থাটি ‘জেলা ভিত্তিক মহিলা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রকল্প’ এর অধিনে ৪১০জন নারী ’কম্পিউটার অফিস এ্যাপপ্লিকেশন কোর্স সম্পন্ন করেছে। কোর্স শেষে ২৮জন নারী ইতিমধ্যে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট পেশায় চাকুরি করছেন। বিউটিফিকেশন ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এর উপর সংস্থাটি ৭২০জন নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তুলেছে। সেলাই ও সূচি কাজের উপর ৯০০জন নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছে। এছাড়া এ সরকারের আমলে জাতীয় মহিলা সংস্থা নড়াইল শাখা ২০১৭-১৮ আর্থিক বছওে ২৬০ নারীকে সাবান, মমবাতি ও সোপিচ তৈরী প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থান করতে সক্ষম হয়েছে।
জাতীয় মহিলা সংস্থা হতে বিভিন্ন ট্রেডের উপর প্রশিক্ষিত নারীদের মাঝে নামমাত্র সুদে ১৬৮জন নারীকে প্রত্যেককে ১৫ হাজার টাকা করে মোট ২০ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয় এবং তারা সকলে সফলভাবে স্ব স্ব ট্রেডের কাজ চালিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে দিনযাপন করছেন।
এ সংস্থা থেকে প্রশিক্ষণ ও ঋণ কাজ করছেন ভাড়া দোকানে ‘সাজ লাজ’ নামে টেইলার্সের কাজ করছেন রিনা নামের মেয়ে। রিনা জানান, আমি খুব অভাবগ্রস্থ ছিলাম। মহিলা সংস্থা আমাকে সেলাই প্রশিক্ষণ করাইয়ে ১৫ হাজার লোন দেয়। সেই লোন দিয়ে আমি এই ‘সাজ লাজ’ নামে টেইলার্সের দোকান দিয়েছি। এখন আল্লাহর রহমতে ভালাই আছি। এ ঋণ নিয়ে ভাদুলীডাঙ্গার সাবিনা ইয়াসমিন গাভী পালন করছেন, একই গ্রামের শাহিদা বেগম ছাগল পালন করছেন, রূপগঞ্জ নতুন জেলা পরিষদ মার্কেটের পাশে চায়ের দোকান চালাচ্ছেন শারমিন, পুরাতন বাসটার্মিনাল মার্কেটে চায়ের দোকান দিয়ে ভালভাবে সংসার চালাচ্ছেন আঞ্জুয়ারা।
এদিকে জাতীয় মহিলা সংস্থা নড়াইল জেলা শাখার চেয়ারম্যান জানান, আমাদের নড়াইলে বিগত সরকারের আমলে বসার জায়গা পর্যন্ত ছিলো না। বর্তমান সরকার নারীদের উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা ভেবে এ ভবন করে দিয়েছে। এ সরকার আমাদের নারীদের মূল্যায়ন করেছে। তবে আমাদের কোন কর্মকান্ড সমাজে ও রাষ্ট্রের কাছে তেমন কেও তুলে ধরেন না। এমনকি এই সংস্থাটি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ হওয়া সত্বেও জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভার সদস্য অন্তর্ভুক্তি না থাকার কারনে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড যথাযথভাবে সকলের কাছে তুলে ধরতে পারিনি।

নড়াইলে জাতীয় মহিলা সংস্থা

নড়াইলে বেকার ও অসহায় নারীরা কর্মক্ষম হয়ে উঠেছে জাতীয় মহিলা সংস্থার সহায়তায় http://narailkantho.com/archives/14599

Nai-post ni NarailKantho News নড়াইলকণ্ঠ নিউজ noong Martes, Nobyembre 20, 2018

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here