সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে যত্রতত্র স্পীড ব্রেকার নয়, প্রয়োজন সচেনতা, রোড সাইন,

0
15
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

নড়াইল কণ্ঠ : দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ রাখতে রাস্তার মালিকগণদের যথাযথ দায়িত্ব পালনে প্রতিনিয়ত দেখা যায় অবহেলা। জনমনে প্রশ্ন কেন এমন আচারণ রাস্তা কর্তৃপক্ষের? এদিকে রাস্তা ব্যবহারকারি পথচারি, মটরবাইক, ইজিভ্যান, ইজিবাইক, বাস-ট্রাক, প্রাইভেট, মাইক্রোবাস সবধরনের ননমটরযান ও মটরযান সমূহ আমরা কি নুন্যতম আইন-কানুন বা নিয়ম-কানুন মেনে চলি? আমরা বলবো এটা আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। এটা দেখবে সরকার। দেখবে ট্রাফিক পুলিশ ইত্যাদি ইত্যাদি..। আমি বা আমরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে মানববন্ধন করছি, মিছিল করছি। বেশ ভাল কথা। যেই মানববন্ধন মিছিল শেষ করে নিজ গন্তব্যে ফিরলাম পরক্ষণেই নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের জন্য যে নিয়মগুলি কর্তৃপক্ষ দেশের সকল নাগরিকের জন্য দিলো সেটা আমি নিজেই মানলাম না। তাহেল বাস্তবায়ন সরকার বা ট্রাফিক পুলিশ কাকে দিয়ে করবে? নিজের ভেতরটাকে আগে বদলাতে হবে। অন্যের ভার কাজের প্রতি সম্মান দিতে শিখতে হবে। শুধু সরকারের দোষ খুজলে হবে না। নিজের দোষটি নিজে আগে চিহ্নিত করতে শিখে সেটা পরিহার করতে চর্চা করতে হবে।

এবার প্রসঙ্গে ফিরে আসি, সড়ক বিভাগ, এলজিইডি বিভাগ, জেলা পরিষদ ও পৌরসভা মূলত এ কয়টি বিভাগ বা দপ্তরের তৈরিকৃত রাস্তায় এদেশের মানুষ চলাফেরা করে। নড়াইলবাসিও এর বাইওে নেই। এ জেলার প্রকৌশল বিভাগের দক্ষ জনবল দিয়ে পরিকল্পনা করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দিয়ে অথবা নিজেদের জনবল দিয়ে সড়ক/রাস্তা নির্মাণ করে আসছে যুগ যুগ ধরে। গ্রাম্য একটি কথা আছে প্যান্ট বানালে হিস্যু করার জন্য চেইন দেয়া হয়। রাস্তা তৈরীর প্লানের সাথে নি:সন্দেহে বিভিন্ন মোড়ে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, জনবহুল মোড়ে পথচলার বক্তব্য সম্বলিত ট্রাফিক/ রোড সাইন প্রদর্শন বা জেব্রা ক্রস চিহ্ন দেয়া। সেটা রাস্তা তৈরীর পর হয় কর্তৃপক্ষ ভুলে যান অথবা ঠিকাদারগণ গাফিলতি করেন। ফলে কি হয়, কর্তৃপক্ষ, ঠিকাদার ও সাধারণ পাবলিক এসব ত্রুটির কারনে সড়ক দুর্ঘটনা থেকে কেউ রেহায় পান না।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, যারা একটু ক্ষমতাধর মানুষ রয়েছেন সমাজে তারা তাদের আমিত্বকে জাহির করার জন্য নিজ বাসাবড়ির সামনের রাস্তায় একটি স্প্রীড ব্রেকার করে দেয়ার জন্য ঠিকাদার ও কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন। কর্তৃপক্ষ অনুরোধে ঢেঁকি গেলেন এবং সড়ককে নিরাপদ রাখতে যা যা করার জন্য নিয়মে ছিলো সেটা তিনিও বেমালুম ভুলে যান। কারন তাকে তো আর কেউ বলার মতো থাকলো না। যতদিন না এ অভ্যাস পরির্বতন হচ্ছে না ততদিনে আমাদের সড়ক ব্যবস্থা বেহালই থাকবে।

নড়াইলে এভাবে অপরিকল্পিতভাবে স্পিড ব্রেকার তৈরি হওয়ার জন্য প্রতিনিয়তই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। গত পাঁচ বছরে শুধু স্পীড ব্রেকারে সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৩০জন। সড়ক বিভাগ ও এলজিইডি সূত্র বলছে, সড়কে স্পীড ব্রেকার দেওয়ার কোন নিয়ম নেই। সড়ক বিভাগের ১৭০ কিলোমিটার সড়কে স্পীড ব্রেকার রয়েছে অর্ধশতাধিক। আর এলজিইডির অধিনে প্রায় ৭শ কিলোমিটার পাকা সড়কেও রয়েছে অসংখ্য স্পীড ব্রেকার। প্রায় শতভাগ এসব স্প্রীড ব্রেকারে ব্যবহার হয়নি কোন রোড সাইন।
কালনা-যশোর মহাসড়কে নড়াইল নতুন টার্মিনাল থেকে কালনা পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার রাস্তায় স্পীড ব্রেকার রয়েছে কমপক্ষে ২০টি।

নড়াইল সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: ফরিদ উদ্দিন বলেন, সড়কে কোনো স্পিড ব্রেকার দেয়া হয় না। প্রশাসন এবং স্থানীয়দের অনুরোধে অনেক সময় দেয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here