নড়াইল-২ আসনের নির্বাচনী হালচাল

141

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘোষণার পর নড়াইল-২ আসনে আওয়ামী লীগে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে মাশরাফি বিন মোর্তুজার সমর্থক ছাড়া তেমন কাউকে মাঠে দেখা যাচ্ছে না। নড়াইল-২ আসন থেকে আওয়ামীলীগ থেকে মাশরাফিসহ ১৭জন, বিএনপি থেকে ৫জন, জাতীয় পার্টি থেকে ১জন এবং অন্যান্য দল থেকে ৪জন দলীয় মনোনয়ন কিনেছেন। কিন্তু কাউকে মাঠে দেখা যাচ্ছে না। এদিকে চা’র স্টোল, ইজিবাইক, বাসে, বাজারের বিভিন্ন দোকানে, খেলার মাঠে, অফিস-আদালতে কেবলমাত্র মাশরাফিকে নিয়ে জল্পনা-কল্পনা। মাশরাফি মাঠে যেভাবে ক্রিকেট খেলে বিশ্বদরবারে দেশের সুনাম অর্জন করেছেন। এবার এমপি হলে নড়াইলের সার্বিকভাবে উন্নয়ন হবে। সে যদি এমপি হয় তাহলে সে মন্ত্রীও হবেন। যে ১৮ বছর খেলার বয়সে ব্যাংক সুদ নেয়নি, নিয়মিত নামায আদায় করেন, শুধু নড়াইল কেন বাংলাদেশের নেতৃত্বে আসা খুবই জরুরী বলে এলাকাবাসি মনে করছেন।

এদিকে, নড়াইলের তরুণ ভোটারদের প্রত্যাশা মাশরাফি বাংলাদেশের আস্থার প্রতিক, মাশরাফি বাংলাদেশকে বিশ্বের সর্বোচ্চ স্থানে পৌঁছিয়ে দিবে। সে এমপি না হতেই রংপুর রাইডার্স এর দেয়া কোটি টাকার এ্যাম্বুলেন্স নড়াইলের সাধারণ মানুষের সেবা জন্য দিয়েছেন, চালু করেছেন আন্তর্জাতিক মানের থাইরোকেয়ার ডাইগোনেস্টিক সেন্টার, যেখানে ৪শত প্রকার ব্লাড পরীক্ষা করতে পারবেন ৫০% ডিসকাউন্টে। তিনি বিদ্যুৎহীন পরিবারের ২০০ শিক্ষার্থীদের জন্য সোলার ল্যাম্প দিয়েছেন। এখানেই তিনি থেমে থাকেননি, সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে প্রাথমিক পর্যায় নড়াইল শহর ও লোহাগড়া পৌর এলাকায় সিসিটিভি’র আওতায় আনার জন্য ২৪লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্পের কাজ শুরু করেছেন।

এছাড়া সন্ত্রাস, মাদকমুক্ত রাখতে ৬৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের মাধ্যমে ৭৫জন উঠতি তরুণদের ক্রিকেট, ফুটবল ও ভলিবল প্রশিক্ষণ করাচ্ছেন। একটি জীম তৈরীর কাজও তিনি শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে এ জীম তৈরীর জায়গা জমি নিশ্চিত করেছেন এবং একই সাথে নির্মাণের জন্য ৩৫ লক্ষ টাক বরাদ্দাও করিয়েছেন।

মাশরাফি বিন মর্তুজা অসহায় হতদরিদ্র মানষের পুর্নবাসন ও চিকিৎসা প্রদান করে যাচ্ছেন। তিনি প্রতিবছর এ জেলা থেকে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে ২০জন শিক্ষার্থীকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ব্যবস্থা করেছেন। তিনি ক্লিন নড়াইল গ্রীণ নড়াইল গড়তে নড়াইল ও লোহাগড়াতে প্রায় দেড়’শ ডাস্টবিন স্থাপন করিয়ে দিয়েছেন। ৩টি পাবলিক টয়লেট স্থাপন করার পরিকল্পনা চুড়ান্ত করেছেন। নড়াইল জেলাকে ফুলের শহর গড়তে ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্কুল কলেজে ফুল ও সৌন্দর্য্য বর্ধনের গাছ রোপন করেছেন। সবশেষে ১০০০ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে উন্নতজাতের জিংকসমৃদ্ধ ধানবীজ বিতরণ করেছেন। এসব কাজ তিনি তার নিজের গড়া ‘নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে করছেন। তিনি কারও কাছ থেকে অনুদান নেন না।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন কিনেছেন যারা তারা হলেন, জেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি তবিবর রহমান মনু, সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো: মনিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মাহাবুব মোর্শেদ জাপল, বিএনপির সাংগাঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার রিজবী জজ, জেলা বিএনপির নেতা মরহুম শরীফ খসরুজ্জামান (এমপি)এর ছেলে শরীফ এ কাফি। এ ছাড়া এ আসন থেকে বিএনপি’র শরীক দল বাংলাদেশ গণসেবা আন্দোলনের চেয়ারম্যান সাবেক এমপি মুফতি শহিদুল ইসলাম ও এনপিপির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে অসমর্থিত সূত্রে জানাগেছে, বাংলাদেশ গণসেবা আন্দোলনের চেয়ারম্যান সাবেক এমপি মুফতি শহিদুল ইসলামের নামে মামলা রয়েছে। মামলা থেকে জামিন পেলে তিনি নড়াইল-২ আসন থেকে প্রার্থী হবেন বলে লোকমুখে শোনা যাচ্ছে। এছাড়া জাতীয় পার্টির নড়াইল জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ প্রার্থী হতে পারেন।

অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন থেকে দলের নড়াইল জেলা শাখার সভাপতি এসএম নাসিরুদ্দিন এবং সহ-সভাপতি মাওলানা সামসুল হকের মধ্যে যে কোন একজন কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, নড়াইল-২ আসনটি আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আগামী নির্বাচনে দলের সবাই একজোট হয়ে কাজ করলে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনাই শতভাগ। গত ৮ নভেম্বর নির্বাচন তফসিল ঘোষনার নড়াইল-২ আসনে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাসদ কাওকে নির্বাচনী তৎপরতায় দেখা যাইনি। শুধু গত শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ১৪দলীয় শরীক দল বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি নড়াইলে নিরিবিলি পিকনিক কর্ণারে ঘরোয়া পরিবেশে কর্মীসভা করেছেন। যদিও নড়াইল-২ আসনে ১৪দলীয় শরীক দল বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি নৌকা প্রতীক নিয়ে এমপি হয় শেখ হাফিজুর রহমান।