নির্বাচনী সন্ত্রাসের পূর্বাভাস দিতেই নয়াপল্টনে পুলিশের উপর বিএনপির পরিকল্পিত হামলা!

27

নির্বাচনের পূর্বে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করতে পরিকল্পিতভাবে বিএনপি কর্মীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর হামলা করেছে বলে অভিমত দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর দীর্ঘদিনের জমানো ক্ষোভ প্রকাশ করতেই দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতাদের উস্কানিতে বিএনপি কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে। বিএনপির এমন কর্মকাণ্ড নির্বাচনী সন্ত্রাসের পূর্বাভাস বলেও মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।
বুধবার (১৪ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অবস্থানরত পুলিশের একটি এবং কার্যালয়ের অদূরে রাখা একটি গাড়িসহ মোট ২টি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। এসময় অসংখ্য গাড়ি ভাঙচুর করে তারা।
বিএনপি কর্মীদের এমন আচরণকে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর প্রতিশোধের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনী সহিংসতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর হস্তে দমন করে দেশবাসীর সমর্থন ও ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেশপ্রেম ও সন্ত্রাসবিরোধী মনোভাবের কারণে বিএনপির দেশ ধ্বংসের পরিকল্পনা নস্যাৎ হয়ে যায়। বিএনপি ২০১৪ সাল থেকেই সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর কঠিন প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মুখিয়ে ছিলো। থেমে ছিলো কেবল সুযোগের অপেক্ষায়। সুযোগ পেয়ে বিনা উস্কানিতে বিএনপি কর্মীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ তথ্যও পেয়েছি, নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা নাশকতার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে। ফলে এসব কাজের পেছনে বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা জড়িত থাকতে পারেন। নির্বাচনের পূর্বে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে এবং ২০১৪ সালের প্রতিশোধ নিতেই বিএনপি কর্মীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর ভয়ংকর আক্রমণ করেছে। নির্বাচনের পূর্বে যাতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয় এবং ২০১৪ সালে ন্যায় আর যাতে কোন মানুষ বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাসের শিকার না হয় সেদিকে সরকারকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক এ আরাফাত বলেন, এমন ঘৃণ্য হামলার মধ্যে দিয়ে বিএনপি-জামায়াত তাদের পুরনো অভ্যাসের চর্চা শুরু করলো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। শুনছি, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রিজভী আহমেদের পরোক্ষ নির্দেশনায় বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছে। তারা নির্বাচনের পূর্বে নিজেদের অশুভ শক্তি প্রদর্শন করতে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। আমার ধারণা এই হামলার মাধ্যমে তারা সরকার ও পুলিশকে মারমুখী বার্তা দিতে চায়। কিন্তু ভোটের রাজনীতিতে আগুন সন্ত্রাসের কোন স্থান নেই- সেটি হয়তো বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা ভুলে গেছে। অতীতের ন্যায় ২০১৮ সালের নির্বাচনেও দেশবাসী তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।