কর্নেল অলি’র আল্টিমেটাম ২০ আসনের শর্তে

23

জাতীয় এক্যফ্রন্ট গঠনের শুরু থেকে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ এবং আসন বন্টন নিয়ে শুরু হওয়া টানাপোড়েন থামছেই না। এরইমধ্যে ঐক্যে যোগ দেওয়া ৫টি শরিকদলের নেতারা বিএনপির কাছে সর্বসাকুল্যে ১৫০টি আসন দাবি করেছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র বলছে, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নেতা কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ তার দলের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে ২০টি আসন চেয়ে বিএনপিকে অলরেডি আল্টিমেটামও দিয়েছেন। এর ব্যত্যয় ঘটলে দল ঐক্যফ্রন্ট থেকে বের হয়ে যাবেন তিনি।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এলডিপিকে ২০টি আসন না দেয়া হলে ঐক্যফ্রন্টে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলের সভাপতি। আমরা এ বিষয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কমিটির কাছে প্রস্তাব দিয়েছি। বাকিটুকু ফলাফলে অপেক্ষা।
এদিকে শরিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনের ঘোষণা দেয়ার পর আসন বন্টন নিয়ে সরব হয়েছে ঐক্যে থাকা প্রতিটি দলই। এর অংশ হিসেবে ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হওয়ায় গণফোরাম এবারের নির্বাচনে ৭০ থেকে ৭৫টি আসন চাইবে। অন্যদিকে জেএসডি এবার ৩০ থেকে ৩৫টি আসন আশা করছে। ঐক্যফ্রন্টে সর্বশেষ যোগ দেওয়া দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ আশা করছে ২০টির মতো আসন। এদিকে নাগরিক ঐক্য তার দলে ২০ থেকে ৩০ জন প্রার্থীকে আসন দেয়া নিয়ে ভেবে রেখেছে। এমন প্রেক্ষাপটে এলডিপিও চেয়েছে অন্তত ২০টি আসন তাদের দিতে হবে, নইলে ঐক্যফ্রন্ট থেকে ইস্তফা দেয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্নেল (অব:) অলি।
এ বিষয়ে এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ বলেন, জনসমর্থনের দিক থেকে জোটের অন্য শরিক দলগুলোর চেয়ে কম জনপ্রিয় নয় এলডিপি। সুতরাং এলডিপি ২০টি আসন চাইতেই পারে। সেটি আকাশ-পাতাল চাওয়া হয়েছে এমনটি নয়। ২০টি আসন দিতে পারলে আমাদের নেতা জাতীয় ঐক্যে থাকবেন, নইলে না।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, জাতীয় ঐক্যের শরিক দলগুলোর মধ্যে কেবলমাত্র বিএনপির পক্ষে যে পরিমাণ জনসমর্থন রয়েছে তা জোটের অন্য শরিক দলগুলোর সমর্থন বিবেচনায় নগন্য। জাতীয় ঐক্যের ছোট দলগুলো আসন নিয়ে যেভাবে দরকষাকষি শুরু করেছে তা প্রত্যেকেরই জনসমর্থনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ভোটের মাঠে কার কতো জনসমর্থন আছে সে বিবেচনা করে যদি ঐক্যের শরিক দলগুলো আসন চায় তবে তা মেনে নেয়া যায়। দলগুলো আচরণ যদি জোর-জবরদস্তিমূলক হয় তবে ঐক্য করে লাভ কী হলো?
নির্বাচনে আসার আগে আসন নিয়ে জোটের শরিক দলগুলোর মতপার্থক্য বৃহৎ সংকট তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনীতি সচেতন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।