শুরু হল নির্বাচনী আমেজ, উল্টো পথে বিএনপি

28

জনসাধারণের বহুল আকাঙ্খিত নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হয়েছে ইতোমধ্যে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা গতকাল জাতির উদ্দেশ্যে এক ভাষণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৩ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

তার এ ঘোষণার সাথে সাথেই দেশব্যাপী খুশির জোয়ার দেখা যায়। গ্রামগঞ্জ, পাড়া-মহল্লায় এ তফসিলকে স্বাগত জানিয়ে উল্লাস করতে দেখা যায় গণতন্ত্রপ্রিয় জনতা ও প্রায় সব রাজনৈতিক দলকেই। তবে বরাবরের মতো জনগণের এ মিছিলেও দেখা মেলেনি ‘বাংলাদেশ নষ্ট পার্টি’ হিসেবে কুখ্যাত ‘বিএনপি’ ও এর দোসরদের।

অবশ্য তারা থাকবেনই-বা কেন! তাদের ভয়াল অগ্নিসন্ত্রাসে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ জনগণের পাশে এসে দাঁড়ানোর দুঃসাহস সঞ্চয় করা কি এতই সহজ!

কথায় আছে ‘পাপ ছাড়ে না বাপকেও’। জনগণের গায়ে ছুড়ে দেয়া আগুনের অভিশাপেই কি পুড়ছে বিএনপি? দেশে-বিদেশে যুক্তিহীন অসংখ্য নালিশ তো ধোপে টেকেইনি, উল্টো বিএনপিকে জনসাধারণ ‘বাংলাদেশ নালিশ পার্টি’ হিসেবে ব্যঙ্গ করতে থাকে। এখন তারা নতুন নাটক শুরু করেছে তথাকথিত ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ নিয়ে।

‘ক্ষমতায় যেতে শয়তানের সাথেও ঐক্য করবে ঐক্যফ্রন্ট’ এমনটাই ঘোষণা হয়েছিলো তাদের পক্ষ থেকে। হয়েছেও তাই, সব শয়তান-দেশদ্রোহী,পাকি এজেন্ট একজোট হয়েছে সেখানে। দেশবাসীও পেয়েছে তাদের লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা।

বিএনপির ঘরে লাগা আগুনে আলুপোড়া দিতে আসা কামালে আস্থা রাখতে পারছে না বিএনপির শীর্ষ নেতারা। খালেদা-তারেক গংকে সরিয়ে নেতৃত্ব দখলের যে পরিকল্পনা তারা করেছিলেন, সে স্বপ্নের ফসল যেন পৌঁছে গিয়েছে কামালের উঠোন পর্যন্ত, এখন কেবল ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষা। নিজেদের স্বপ্নের অপমৃত্যুর ঠিক আগমুহূর্তে তাই বেঁকে বসেছেন বিএনপি নেতারা।

তারা মোটেই চাচ্ছেন না কামাল ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করুক। কেননা, তাদের মতে কামাল ধানের শীষ প্রতীক পাওয়া মানেই বিএনপির নেতৃত্ব অনেকটাই তার হাতে চলে যাওয়া। এতে স্বীকৃত দুর্নীতিবাজ-সন্ত্রাসী জিয়া পরিবারকে হটিয়ে বিএনপিকে নিয়ন্ত্রণে তাদের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে বলে মনে করছেন তারা।

অন্যদিকে নির্বাচনে যাওয়া-না যাওয়ার প্রশ্নেও বিএনপি স্পষ্টতই দুই ভাগে বিভক্ত। বাস্তবতা সম্পর্কে সম্যক অবগত একটি পক্ষ নির্বাচনে যাবার পক্ষে। তারা বলছেন, ‘এমনিতেই নানান অপকর্মে বিএনপির জনসমর্থন তলানিতে, তার ওপর এবারও নির্বাচন বর্জন করে নিবন্ধন হারালে বিএনপির অস্তিত্বই মুছে যাবে চিরদিনের জন্য’।

তাই আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে টিকে থাকতে চাইছেন তারা। এই পক্ষটি ঐক্যফ্রন্টের প্রচ্ছন্ন সমর্থনও পাচ্ছেন।

অন্যদিকে, একটি পক্ষ চাইছে ইস্যুবিহীন আন্দোলনে আবারও দেশব্যাপী তাণ্ডবলীলা চালাতে। এই বলয়টি সন্ত্রাসের গডফাদার তারেক রহমান নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন বলে জানা যায়।

সব মিলিয়ে ঘোর অমানিশায় থাকা বিএনপির জন্য আশাবাদী হবার মতো কোন ঘটনা ঘটা যে আজকের মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে এক রকম অসম্ভব, সেকথা বলাই যায়।