নড়াইলে নেই কোন লোড শেডিং : জাতীয় গ্রীডের সাথে সংযুক্ত হতে সময়ের ব্যাপার

0
27
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইল জাতীয় গ্রীডের সাথে সংযুক্ত হতে শুধু সময়ের ব্যাপার, নড়াইলে নেই কোন লোড শেডিং, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে বিদ্যুৎ খাতের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার নড়াইলের জনপদের মানুষের উন্নয়ন অগ্রগতি তরান্বিত ও মানসম্মত বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সদরের মুলদাইড় গ্রামে ১টি (১৩২/৩৩ কেভি গ্রীড) উপকেন্দ্র স্থাপন করে নড়াইলকে জাতীয় গ্রীডের সাথে সংযুক্ত করেছে। অফিস সূত্রে জানাগেছে, এ বছরের শেষের দিকে এ উপকেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হবে। তখন আর নড়াইলবাসি যশোর, নোয়াড়াপাড়া, কুষ্টিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকবে না। নড়াইলে আশান্বিত বিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রধানমন্ত্রী ‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ এ শ্লোগান আজ প্রমাণিত। নড়াইলবাসির দির্ঘবছরের প্রত্যাশিত স্বপ্ন পূরন করেছে এ সরকার। আজ কোথাও কোন লোড শেডিং নেই। বিদ্যুৎ নিয়ে নেই কোন ভাংচুর। কৃষক তার জমিতে সময় মতো পানি দিতে পারছে। পানির অভাবে ধান খেত শুকিয়ে চৌচির হয় না।
উল্লেখ্য, এ নড়াইল জেলায় ৩টি পৌরসভায় ১ লক্ষ ৬২ হাজার ৬০৭টি পরিবারের বসবাস। ইতিমধ্যে ওজোপাডিকো লি: ও পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের আওতায় ১লক্ষ ৩৭ হাজার ৯০২জন বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে।
বিদ্যুৎ অফিসের তথ্যসূত্রে জানাগেছে, উল্লেখিত তথ্যের মধ্যে ওজোপাডিকো এর আওতায় নড়াইল পৌরসভাসহ পাশ্ববর্তী এলাকার ৩টি গ্রামে ১৪ হাজার গ্রাহক, পল্লী বিদ্যুৎ নড়াইল সদর উপজেলায় ২৪০টি গ্রামে ৪১,৫৩৬, লোহাগড়া উপজেলায় পৌরসভাসহ ২২০টি গ্রামে ৪২,৩৬৬ এবং কালিয়ায় পৌরসভাসহ ২৩০টি গ্রামে ৪০হাজার গ্রাহক রয়েছে।
এদিকে নড়াইল পৌর এলাকায় উজিরপুর গ্রামে ১টি ব্যাটারী ফ্যাক্টরী(আকুমুলেটর) ও মুলিয়া ইউনিয়নের দূর্বাজুরি এলাকায় ১টি সোলার প্যানেল ও ফিড মিল ভারী শিল্পকারখানাও ওজোপাডিকো বিদ্যুতে পরিচালিত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যানুযায়ি বর্তমান নড়াইলে বিদ্যুৎ গ্রাহকের চাহিদা মিটিয়েও ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মজুদ থাকচ্ছে।
এ সরকারের আমলে বিগত সরকারের আমলের মতো নড়াইলবাসি বিদ্যুৎ সংকটে কখনও পড়েনি। আগের তুলনায় বিদ্যুৎ ব্যবহার বেড়েছে কয়েক শতগুণ বেশি। নড়াইলে গ্রাহকের চাহিদা মিটিয়েও বর্তমান ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মজুদ থাকে। বিদ্যুৎ নিয়ে এখন জনমনে কোন অসন্তোষ দেখা যায় না। যার ফলে কৃষি উৎপাদন বেড়েছে, চুরি ডাকাতি ছিনতাই নেই বললেই চলে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি স্থায়ীত্ব বেড়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন বেড়েছে সর্বক্ষেত্রে। শ্রমজীবী মানুষ ইজিভ্যান ও ইজিবাইক বিদ্যুৎ চার্জে চালিয়ে শগর গ্রামের আয় বৈষম্য কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। সফল বিদ্যুতায়নের ফলে জেলার শিক্ষার মান বেড়েছে, কৃষিপণ্যে বৃদ্ধি ও সরবরাহও বেড়েছে।
এ সরকারের সময়কালে ওয়েষ্ট জোন পাওয়ার ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো লি:) নড়াইল জেলায় ১টি ১৩২/৩৩ কেভি গ্রীড উপকেন্দ্র নির্মাণ করেছে; ৫৩কি:মি: ১৩২ কেভি লাইন নির্মাণ, যা চলমান রয়েছে; ১টি ৩৩/১১ কেভি উপ-কেন্দ্রের পুন:বাসন; ৭কি: মি: ৩৩ কেভি লাইন নির্মাণ; ৪০কি: মি: ৩৩ কেভি লাইন পুন:বাসন করা; ১৮ কি:মি: ১১ কেভি লাইন নির্মাণ; ২৫ কি:মি: ০.৪ কেভি বিতরণ লাইন নির্মান; ২৭টি বিতরণ ট্রান্সফরমার নতুন স্থাপনা; সমগ্র নড়াইল পৌর এলাকায় ফলভাবে ৯৮ ভাগ বিদ্যুতায়ন ; ২টি ভারী শিল্প স্থাপনা করা হয়েছে ।
এদিকে বিদ্যুৎ জ্বালানি মন্ত্রনালয় সূত্র জানায়, ২০২১ সালের মধ্যে সকলের জন্য বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে এই খাতকে আগামী তিন অর্থবছর ২০১৭-১৮ থেকে ২০১৯-২০ অর্থ বছর পর্যন্ত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছর বিদ্যুৎখাতে ২১ হাজার ৪৫৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ খাতের ৮২টি প্রকল্পের বিপরীতে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই বরাদ্দের মধ্যে সরকারি অর্থ থাকবে ৯ হাজার ৫১৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ হাজার ৫৫৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এরমধ্যে ১৩টি প্রকল্পের জন্য নিজস্ব বরাদ্দ থাকবে ৯২২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। গ্যাস উন্নয়ন তহবিল থেকে নেয়া হবে ৭০৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এই তহবিলের টাকায় ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।
সরকারের মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎখাতে প্রতিবছর মোট খরচ ২০ দশমিক ৬ শতাংশ হারে বাড়ানো হবে। সে হিসেবে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২২৫ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন টাকা বিনিয়োগ করা হবে। তাছাড়া ২০২১ সালে ২০ হাজার মেগাওয়াটের পরিবর্তে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০৩০ সালে ৩৪ হাজার মেগাওয়াটের পরিবর্তে ৪০ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৪১ সালে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিবকল্পনা করা হয়েছে। আর এসব বাস্তবায়নে বিদ্যুৎ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ খাতে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ফলে আগামীতে নিরববিছন্ন ও কুয়ালিটি বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হবে।
বর্তমান সরকার ২০১৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধি করেছে। এর মধ্যে ভারতের ত্রিপুরা থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে ১১ হাজার ৩৬৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন আছে। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ২০১৭-২০২১ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে। তাছাড়া বিদ্যুৎ বিতরণ ও সঞ্চালন লাইন নির্মাণের জন্য এ খাতের বরাদ্ধ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
সর্বোপরি ২০২১ সালের মধ্যে সকলের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেওয়ার সরকারি ভিশন বাস্তবায়নে এ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here